Humayun Kabir: আরও বিপাকে হুমায়ুন! ‘স্যাটাভাঙা’ মন্তব্যের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই গ্রেফতার ৩ আয়োজক
Humayun Kabir: জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে পুলিশ প্রথমে আমিনুল শেখ ও গোলাম মোস্তাফাকে গ্রেফতার করে। পরে আনিসুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
Humayun Kabir: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘অ্যাকশন।’ গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের জনসভায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের যে প্ররোচনামূলক মন্তব্যকে ঘিরে তোলপাড় হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি, তাতে দ্রুত পদক্ষেপ করল পুলিশ। সোমবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার পর রাতেই গ্রেফতার করা হল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির ওই সভার তিন আয়োজককে। দুই পৃথক অভিযানে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশ। পাশাপাশি, তলব করা হয়েছে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে পুলিশ প্রথমে আমিনুল শেখ ও গোলাম মোস্তাফাকে গ্রেফতার করে। পরে আনিসুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ধৃতদের বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার অর্থাৎ ২৬ জুন। ওইদিন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের কাশীপুরে দলের এক জনসভায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর চরম বিতর্কিত মন্তব্য করেন। প্রকাশ্যে দলের একমাত্র বিধায়ক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি, এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, বিজেপির পতাকা বওয়ার লোক থাকবে না। কেস দেবেন? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে ঢের আছে।’ এই মন্তব্যের পরই রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
সোমবার বিধানসভায় এই ইস্যুটি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হুমায়ুন কবীরকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এনাফ ইজ এনাফ। যারা ওই সভায় আপনাকে ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব। তারপর আপনার কাছে যাব। আর এটাই আপনার শেষ বক্তব্য। এভাবে আপনাকে বেপরোয়া মন্তব্য আর করতে দেব না, দেব না, দেব না।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগর থানার পুলিশ সক্রিয় হয়। অ্যাকশনে নেমে প্রথমে পুলিশ সভার আয়োজক হিসেবে ২ জনকে গ্রেফতার করে। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত আমিনুল শেখের বাড়ি রেজিনগরের লোকনাথপুর গ্রাম। আর মূল উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তাফা কাশীপুর এলাকা অর্থাৎ যেখানে ওইদিন সভার আয়োজন হয়েছিল, সেখানকারই বাসিন্দা। তিনি মূলত দলীয় সভার আয়োজনের জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়েছিলেন। আর সেই সভাতেই দলের একমাত্র বিধায়ক উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের পরই প্রশাসন যে এই ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, এই গ্রেফতারে সেই বার্তাই স্পষ্ট করছে। তবে এবার কী পালা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের? পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর ওয়াকিবহাল মহলের। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
E-Paper

