WB 5th Pay Commission DA Arrear: সুপ্রিম নির্দেশ সত্ত্বেও ডিএ দিচ্ছে না, এদিকে সরকারি কর্মীদের দমাতে কড়া নবান্ন
আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের দিন যদি কোনও সরকারি কর্মী অফিসে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তাঁর বেতন কাটা হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। ডিএ ধর্মঘটের দিনে কোনও ছুটি দেওয়া হবে না সরকারি কর্মীদের।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটায়নি রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা। তবে এই আবহে এবার কড়া হয়েছে নবান্ন। আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের দিন যদি কোনও সরকারি কর্মী অফিসে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তাঁর বেতন কাটা হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। ডিএ ধর্মঘটের দিনে কোনও ছুটি দেওয়া হবে না সরকারি কর্মীদের।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে সরকারি কর্মীদের। কোনও সরকারি কর্মী গুরুতর অসুস্থ থাকলে, সংশ্লিষ্ট কর্মীর পরিবারের কোনও সদস্য হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারের কারও মৃত্যু ঘটলে, কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বা আগে থেকে নেওয়া ছুটিতে থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে। ডিএ ধর্মঘটের দিনে তাঁদের ছুটি গ্রাহ্য হবে। এই সব সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠা যাবে না। এদিকে ডিএ ধর্মঘটের দিনে যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে প্রাপ্য ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। তাঁর বেতনও কাটা যাবে।
উল্লেখ্য, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সুপ্রিম-নির্দেশের পরেও বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কোনও হেলদোল নেই রাজ্য সরকারের। বরং ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। সেখানে তাদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই নিয়ে তাদের যুক্তি ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের সার্ভিস বুক খুঁজে বার করতে অনেকটা সময় লাগবে। এহেন পরিস্থিতিতে নাকি ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখের আগে তারা কোনও ভাবেই ডিএ দিতে পারবে না।
রাজ্যের বক্তব্য, ডিজিটাল দ্ধতিতে বেতনের রেকর্ড শুধুমাত্র ২০১৬ সাল থেকে উপলব্ধ। এর আগের সমস্ত হিসাবের জন্য হাতে লেখা ছিল ‘সার্ভিস বুক’। তাই তা পরীক্ষা করতে সময় লাগবে। এদিকে বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে রাজ্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের সুযোগ আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। ২০০৮ সাল থেকে যে ডিএ এরিয়ার রয়েছে, সেটা যে কোনও মূল্যে মিটিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে বকেয়ার ২৫ শতাংশ অর্থ মার্চের মধ্যেই মেটাতে হবে। এবং বাকি ৭৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বাকি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটাতে হবে রাজ্যকে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলা। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যে মামলাটি চলছে, সেটা পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত। ২০১৬ সাল থেকে সেই মামলা চলছে। এই মামলাটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল, কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। প্রথমে স্যাটে জয় পেয়েছিল রাজ্য সরকার। তারপর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে জয় পেয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। এর আগে ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। কারণ, ২০২৫ সালেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ সরকার মানেনি। এই আবহে এই মামলার শুনানি চলাকালীন সরকারকে কার্যত 'মহাজন' আখ্যা দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper











