Sign in

WB Business Summit Update: পুজোর আগে শিল্প সম্মেলনের প্রস্তুতি শুভেন্দুর সরকারের, নিশ্চিত বিনিয়োগের ঘোষণাই লক্ষ্য

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী শিল্পোন্নয়ন নিগম ও শিল্প দফতরের কাছে একাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, শিল্প সচিব বন্দনা যাদব এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রতিটি প্রস্তাব খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন।

Published on: Jun 27, 2026, 09:25:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে পুজোর আগে সেপ্টেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম শিল্প সম্মেলন। তবে এই সম্মেলনকে ঘিরে সরকারের কৌশল আগের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলে দাবি করা হয়েছ রিপোর্টে। শুধু বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা একের পর এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করিয়ে পরিসংখ্যানের চমক দেখানো নয়, বরং সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই এমন দুই থেকে তিনটি বড় প্রকল্পের ঘোষণা করতে চাইছে সরকার, যেগুলির কাজ আগামী এক বছরের মধ্যেই বাস্তবে শুরু হবে।

রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার।
রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী শিল্পোন্নয়ন নিগম ও শিল্প দফতরের কাছে একাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, শিল্প সচিব বন্দনা যাদব এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রতিটি প্রস্তাব খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন। কোন সংস্থা আর্থিকভাবে কতটা সক্ষম, কত দ্রুত জমি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবে এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কতটা—এসব দিক বিচার করেই কয়েকটি নির্ভরযোগ্য প্রকল্প বেছে নেওয়া হবে। সেই প্রকল্পগুলিই সেপ্টেম্বরের শিল্প সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প টানতে চলতি অর্থবর্ষের বাজেটেই নতুন ইনসেনটিভ বা আর্থিক উৎসাহ প্রকল্প ঘোষণা করেছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে এই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নবান্নের পরিকল্পনা, শ্রমনির্ভর মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে এই আর্থিক সুবিধা দিয়ে দ্রুত উৎপাদন শুরু করানো হবে। পাশাপাশি, অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ভর্তুকি প্রকল্পও ধাপে ধাপে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার সূত্রে খবর, ভবিষ্যতে এই খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে।

শিল্পমহলের আস্থা ফেরাতে বাজেটে একাধিক নীতিগত সংস্কারের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চালু হচ্ছে সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা। ফলে বিল্ডিং প্ল্যান, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি অনুমোদনের জন্য আর একাধিক দফতরে ঘুরতে হবে না। পাশাপাশি শিল্প করিডরভিত্তিক ক্লাস্টার গড়ে তোলার জন্য নতুন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের দাবি মেনে আর্বান ল্যান্ড সিলিং আইনে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পের জন্য নতুন ল্যান্ড ব্যাঙ্ক গড়ে তোলা, বন্ধ কারখানার অব্যবহৃত জমি পুনর্ব্যবহার, ২৪ ঘণ্টা ব্যবসা চালানোর অনুমতি এবং সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রুখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি স্টার্ট-আপ নীতি, ট্যালেন্ট অ্যাট্রাকশন ফান্ড, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) নীতি এবং কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব গত কয়েক বছরে রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের কাছে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নবান্নের লক্ষ্যও স্পষ্ট—পরিসংখ্যানের খেলা নয়, বাস্তবে কারখানা, বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে শিল্পমহলের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেপ্টেম্বরের শিল্প সম্মেলন তাই শুধু একটি সরকারি অনুষ্ঠান নয়, বরং নতুন সরকারের শিল্পনীতি ও অর্থনৈতিক ভাবনার প্রথম বড় পরীক্ষাও হতে চলেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More