WB Assembly: বিধানসভায় পাশ ওবিসি সংশোধনী বিল, ওয়াকআউট ঋতব্রতদের, তবে থেকে গেলেন গোষ্ঠীর সংখ্যালঘু বিধায়করা
ওয়াকআউট করা বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ, চন্দ্রনাথ সিনহা, শিউলি সাহারা। এদিকে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করাও ভোটাভুটিতে অংশ নিতে থেকে যান সভাকক্ষে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সোমবার ভোটাভুটির মাধ্যমে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। বিল দুটি পেশ করেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিলকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। অধিবেশনে ভোটাভুটির আগে বিরোধী শিবিরের একাংশ ওয়াকআউট করলেও কয়েকজন মুসলিম বিধায়ক সভাকক্ষে থেকে যান, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ওয়াকআউট করা বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, রথীন ঘোষ, চন্দ্রনাথ সিনহা, শিউলি সাহারা। এদিকে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করাও ভোটাভুটিতে অংশ নিতে থেকে যান সভাকক্ষে।

এদিকে আজ বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর দাবি, এই সময়কালে নানা ধরনের বিভ্রান্তি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন এবং সংবিধান ও আদালতের নির্দেশ মেনেই সরকার নতুন সংশোধনী আনছে।
মন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে প্রতিটি রাজ্যকে অনগ্রসর শ্রেণি চিহ্নিত করার জন্য কমিশন বা ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনে ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন। কমিশন ১৯৯৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে মোট ৬৬টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্তির জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করে। এর মধ্যে ৫৪টি ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং ১২টি মুসলিম সম্প্রদায়ের।
গৌরীশঙ্কর ঘোষ আরও দাবি করেন, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারি চাকরিতে মুসলিমদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় যথাযথ কমিশনের সুপারিশ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যার জেরেই পরবর্তীকালে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।
বিলের বিরোধিতা করে আইএসএফ বিধায়ক নওশআদ সিদ্দিকি সহ বিরোধীরা সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং সংরক্ষণ নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিতর্কের এক পর্যায়ে বিরোধী শিবিরের একাংশ ওয়াকআউট করে। তবে কয়েকজন মুসলিম বিধায়ক অধিবেশন কক্ষে থেকে ভোটাভুটিতে অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ওবিসি সংশোধনী বিল বিধানসভায় গৃহীত হয়।
ওবিসি সংক্রান্ত এই সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার ফলে রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাভুক্তি ও সংরক্ষণ নীতির ক্ষেত্রে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পথ আরও সুগম হবে বলে সরকারের দাবি। অন্যদিকে বিরোধীরা ইঙ্গিত দিয়েছে, বিলের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি নিয়ে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ করবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


