'আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে...,' জ্ঞানেশের ধমকে ফুঁসছেন চন্দ্রিমা, ভর্ৎসনার মুখে IPS বিনীত
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সওয়াল করতে গিয়েছিলেন শীর্ষ আদালতে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। সোমবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এমনকী তাঁদের উপর চীৎকার করেছেন বলেও দাবি তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের মামলা করার বিষয়টা যে কমিশন খুব ভালোভালে দেখেনি, সেটাও একরকম বুঝিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।

'আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, বেশ করেছি'
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সওয়াল করতে গিয়েছিলেন শীর্ষ আদালতে। আর সোমবার যখন কলকাতায় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসলেন জ্ঞানেশ কুমার, তখন তিনি নাকি কথায় কথায় সেই সুপ্রিম কোর্টের মামলার কথা বললেন। কংগ্রেস যখন বৈঠক করছে, তখনও জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, 'শীর্ষ আদালতে আপনারা মামলা করেছেন, এখন ৬০ লক্ষের ভবিষ্যৎ আমায় জিজ্ঞেস করছেন?' পরে তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলার সময়ও সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ তুলে জ্ঞানেশ কুমার চিৎকার করেন বলে অভিযোগ। এদিন কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএম-এর পর তৃণমূলের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। দলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি জানান, তাঁদের কথা শুনতে চাননি কমিশনার, উল্টে চিৎকার করেছেন। চন্দ্রিমার দাবি, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন, এ কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি নাকি রীতিমতো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, 'আমাকে বলেছে, আপনারা তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন… যাব না কেন? আমাদের অধিকার আছে। মানুষের জন্য গিয়েছি। আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, বেশ করেছি।' চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কথায়, 'সব যদি সুপ্রিম কোর্টে আছে, তাহলে আমাদের ডাকলেন কেন, ডাকলে তো শুনতেই হবে।'
জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষোভের মুখে বিনীত গোয়েল?
বিধানসভা ভোটের মুখে বাংলার প্রস্তুতি তদারকি করতে রবিবারই কলকাতায় পৌঁছেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ১২ সদস্যের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকালে আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এক প্রস্থ আলোচনার পরেই প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আর সেই বৈঠকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে ভর্ৎসনা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শুধু তাই নয়, কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে ‘ধমক’ খান রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন আধিকারিক। সূত্রের খবর, কমিশনের বার্তা, প্রত্যেকের কাজের ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ আছে। জেলাশাসক হোন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। জানা গিয়েছে, রাজ্যে এসআইআরের কাজে কয়েক জন আধিকারিকের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট কমিশন। কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, রাজ্য এবং কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের বৈঠকে জ্ঞানেশের হুঁশিয়ারি, ‘পদক্ষেপ করুন। না হলে শুধু চা নিয়েই বসে থাকতে হবে।’
কমিশনের ওই সূত্রের দাবি, বৈঠকে রাজ্যের আধিকারিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যদি কেউ ভাবেন, দেড় মাসের জন্য কমিশন সক্রিয়, তারপরে আর নয়, তাহলে সেটা একেবারে ভুল ভাবনা। অন্যদিকে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা আধিকারিক বলেন, 'কমিশন বলেছে, ইচ্ছাকৃত গরমিল বা গাফিলতি প্রমাণ হলে, এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে, যেখান থেকে ফেরার সুযোগ থাকবে না।' একই সঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই), বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, আবগারি, মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থাও (নার্কোটিক্স) কমিশনের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে। ওই সময় কলকাতার প্রাক্তন সিপি এবং বর্তমান ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ‘কোপে পড়েন।’ সূত্রের দাবি, ‘নার্কোটিক্স অ্যাডভাইসরি কমিটি’ একমাত্র এ রাজ্যে কেন নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ। ওই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে রাজ্য দাবি করলেও, তা সন্তুষ্ট করতে পারেনি কমিশনকে। তা নিয়ে বলতে উঠতেই জ্ঞানেশের ধমক খান বিনীত। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত অন্যান্য রাজ্যে অনেক আগে পদক্ষেপ করা হয়েছে। এত দিনেও এ রাজ্যে তা কেন করা হয়নি? সে নিয়ে বিনীত ব্যাখ্যা দিতে গেলে, তাঁকে বসতে বলা হয়। জ্ঞানেশ জানান, কমিশন সব তথ্য রেখেছে।
E-Paper











