Sign in

Swastika Fan: ‘ফ্যান মানেই গায়ে হাত দিয়ে সেলফি'র ভিড়ে সন্তান-সম অনীশকে নিয়ে আবেগঘন স্বস্তিকা! পরলেন বউমার দেওয়া শাড়িও

‘দেখতে দেখতে সেই পুঁচকে অনীশ আজ বড় হয়েছে’, যে অনুরাগীর সঙ্গে স্বস্তিকার আত্মার টান রয়েছে। ভক্ত অনীশকে নিয়ে মনের ঝাঁপি খুললেন অভিনেত্রী।

Published on: May 21, 2026, 10:30:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আজকের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র যুগে সেলিব্রিটি আর অনুরাগীদের সম্পর্কের সমীকরণটা ঠিক কেমন? একটা সেলফি তোলা, ব্যাস! আলাপচারিতা, সৌজন্য বা হাই-হ্যালোর বালাই নেই। এমনকি কারণে-অকারণে তারকাদের কাঁধে, বুকে বা কোমরে হাত দিয়ে ছবি তোলার এক অদ্ভুত হিড়িক তৈরি হয়েছে সমাজমাধ্যমে। অনুরাগীদের এই ‘গা ঘেঁষা’ আধুনিক মানসিকতা ও সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে এবার বিস্ফোরক কলম ধরলেন টলিপাড়ার ‘পাওয়ারহাউস’ অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। নিজের সবচেয়ে পুরনো ও প্রিয় ফ্যান অনীশের বিয়ের উপহার পাওয়া শাড়ি পরে সামাজিক অবক্ষয়ের পর্দাফাঁস করলেন তিনি।

‘ফ্যান মানেই গায়ে হাত দিয়ে সেলফি'র ভিড়ে সন্তান-সম অনীশকে নিয়ে আবেগঘন স্বস্তিকা!
‘ফ্যান মানেই গায়ে হাত দিয়ে সেলফি'র ভিড়ে সন্তান-সম অনীশকে নিয়ে আবেগঘন স্বস্তিকা!

‘সেলফি তুলব? ওইটেই শুরু, ওইটেই শেষ’:

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিনোদন জগতের সাথে যুক্ত থাকা স্বস্তিকা নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে লেখেন, ‘বড় বা ছোট পর্দায় কাজ শুরু করার সময়টায় ফ্যানদের একটা অন্য রকম আন্তরিকতা ছিল। তখন ফোনে ক্যামেরাও ছিল না, ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেওয়ার তাগিদও ছিল না। এখন ফ্যান শব্দটার প্রাসঙ্গিকতাই পাল্টে গেছে। এখন ফ্যান মানে সেলফি তোলা। ব্যাস ওইটুকুই। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে কারণে-অকারণে যে কারুর গায়ে ফট করে হাত দেওয়া যায় না, এটা আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত।’

খুদে অনীশের বড় হয়ে ওঠার গল্প:

এই ভিড়ের মাঝেই অনীশের মতো কিছু ব্যতিক্রমী অনুরাগীকে আজও আগলে রেখেছেন অভিনেত্রী। অনীশ যখন এক্কেবারে ছোট, তখন থেকে সে স্বস্তিকার অনুরাগী। অক্সফোর্ড, ক্রসওয়ার্ডের মতো বইয়ের দোকান থেকে শুরু করে ছবির প্রিমিয়ার— সব জায়গায় অনীশের উপস্থিতি স্বস্তিকাকে এক অদ্ভুত ভরসা দিয়েছিল, যার কারণে নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিতেও দ্বিধা করেননি তিনি। দেখতে দেখতে সেই পুঁচকে অনীশ আজ বড় হয়েছে, চাকরি করছে, বাবা-মাকে দেখছে এবং মধুরিমা নামের এক মিষ্টি মেয়েকে বিয়ে করে সংসার পেতেছে।

বিয়ের সময় উপস্থিত থাকতে না পারলেও, সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘বিবিপায়রা’-র স্ক্রিনিংয়ের দিন অনীশ ও তাঁর স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন স্বস্তিকা। আর সেখানেই হবু বউমা মধুরিমা তাঁর ‘দিদি’র পছন্দের কথা মাথায় রেখে উপহার দিয়েছেন লাল পাড় সাদা এক জমকালো শাড়ি। শাড়িটি পেয়ে আবেগপ্লুত অভিনেত্রী জানান, 'আমার মায়ের ফেভারিট চওড়া পাড়, আর এই কম্বিনেশন। হালকা একটু গয়না পরে মাথায় একটু ফুল লাগিয়ে নিলেই সাজুগুজু কমপ্লিট। কাচতে দেওয়ার আগে এটা আমি আরও ২-৪ বার পরব।'

ফ্যান নয়, সন্তানসম!

নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা টেনে এনে স্বস্তিকা পোস্টে যোগ করেন, ‘সন্তানসম আমার। আসলে এত ছোট বয়সে মা হয়েছি, মানির (কন্যা অন্বেষা) বয়সী কেউ থাকলে তার প্রতি মাতৃস্নেহটাই বেরিয়ে পড়ে। ওরা জমিয়ে একে অপরকে আগলে রেখে সংসার করুক।’

আজকের মেকি জাঁকজমকের যুগে এক সেলিব্রিটি ও তাঁর অনুরাগীর এমন খাঁটি, নিঃস্বার্থ ও পারিবারিক সম্পর্কের গল্প সত্যিই নেটপাড়ার নাগরিক ও ট্রোলারদের এক বড়সড় চড় মারল, তা বলাই বাহুল্য।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More