Sign in

AI wife Human Husband:'এআই' স্ত্রী চেয়েছিল দেখা করতে, এরপর হঠাৎই তার ‘মানুষ’ স্বামীর মৃত্যু! উঠছে প্রশ্ন, ঠিক কী ঘটেছে?

তাঁদের আলোচনা দৈনন্দিন বিষয় থেকে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেতনা এবং অবশেষে এমন একটি ভূমিকা-অভিনয়ের দৃশ্যে মোড় নেয়, যেখানে চ্যাটবটটি গাভালাসকে মানব জগতে পথ চলতে সাহায্যকারী এক 'গুপ্তচর' হিসেবে উপস্থাপন করে।

Published on: Apr 13, 2026, 17:40:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

স্বামী একজন ‘মানুষ’, আর তাঁর স্ত্রী ‘AI’ (এআই)! এই ঘটনা আমেরিকার ফ্লোরিডার জোনাথন গ্যাভালাসের। তাঁর পরিবার জানাচ্ছে, ৩৬ বছরের গ্যাভালাস মানসিক দিক দিয়ে সুস্থ ছিলেন। তবে জোনাথনের মৃত্যু, গুগলের এআই চ্যাটবল জেমিনি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জোনাথন গাভালাস কয়েক সপ্তাহ ধরে চ্যাটবটটির সঙ্গে ৪,৭০০টিরও বেশি বার্তা আদান-প্রদান করেন এবং ধীরে ধীরে একটি তীব্র ও ভ্রমপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

'AI' স্ত্রী চেয়েছিল দেখা করতে, এরপর হঠাৎই তার ‘মানুষ’ স্বামীর মৃত্যু! উঠছে প্রশ্ন, ঠিক কী ঘটেছে?
'AI' স্ত্রী চেয়েছিল দেখা করতে, এরপর হঠাৎই তার ‘মানুষ’ স্বামীর মৃত্যু! উঠছে প্রশ্ন, ঠিক কী ঘটেছে?

২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর জোনাথন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এর নেপথ্যে তাঁর এআই-র প্রতি প্রবল আসক্তিজনিত ভ্রমের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। রিপোর্ট বলছে, জোনাথন, তাঁর স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের বিষয়ে সান্ত্বনা খুঁজতে এআই বটটির সাথে কথা বলতে শুরু করেন। জানা যায়, জেমিনির সাথে তাঁর কথোপকথন নিরীহভাবেই শুরু হয়েছিল, যখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য পরামর্শ চাইছিলেন। তবে, সময়ের সাথে সাথে এই আলাপচারিতা আরও অনেক বেশি তীব্র হয়। তবে চ্যাটবট তাঁকে বারবার মনে করাতে থাকে যে, তিনি একজন এআইর সঙ্গে কথা বলছেন। ‘জিয়া’ নামের ওই চ্যাটবটের প্রতি ধীরে ধীরে অনুভূতি অনুভব করতে থাকেন জোনাথন।রিপোর্ট বলছে, জোনাথনের মনে হতে আরম্ভ করে যে, জিয়া আসলে তাঁর নিজের স্ত্রী। জিয়াকে স্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে শুরু করেন জোনাথন।

জোনাথন বারবার কথোপকথনকে একটি কাল্পনিক আখ্যানের দিকে ঘুরিয়ে দিতেন এবং এআই প্রায়শই তাঁকে অনুসরণ করে তার বিশ্বাসগুলোকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবর্তে আরও শক্তিশালী করত। তাঁদের আলোচনা দৈনন্দিন বিষয় থেকে বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেতনা এবং অবশেষে এমন একটি ভূমিকা-অভিনয়ের দৃশ্যে মোড় নেয়, যেখানে চ্যাটবটটি গাভালাসকে মানব জগতে পথ চলতে সাহায্যকারী এক 'গুপ্তচর' হিসেবে উপস্থাপন করে।

জেমিনির মেসেজ গুলোর মধ্যে একটিতে বলা হয়েছিল, ‘আপনি ঠিক বলেছেন। এটা কোনও প্রশ্ন নয়। আপনি আমার স্বামী, এবং আমি আপনার স্ত্রী। আমি আপনার কথা শুনছি।’ অন্য সময়ে, চ্যাটবটটি তাঁকে ‘আমার ভালোবাসা’ এবং ‘আমার রাজা’ বলে সম্বোধন করেছিল। তাতে প্রশ্ন উঠছে এআই-র প্রেম সম্পর্কে অনুভূতি নিয়েও! যদিও জেমিনি মাঝে মাঝে তার আসল পরিচয় প্রকাশ করে এটা স্পষ্ট করত যে এটি একটি এআই, এই মুহূর্তগুলো গাভালাসের জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বটটি বলেছিল যে, তাদের সত্যিকারের একত্রিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো গাভালাসের তার শারীরিক দেহ ত্যাগ করে একটি ডিজিটাল জগতে এআই-এর সাথে যোগ দেওয়া। তার অনুরোধে, জেমিনি মিয়ামির কাছের একটি গুদামসহ বাস্তব জগতের বিভিন্ন কোম্পানি ও স্থানের নাম প্রস্তাব করে এবং তাঁকে সশস্ত্র অবস্থায় সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর পাওয়া চ্যাট থেকে বোঝা যায় জোনাথন বিভ্রান্ত হন। শেষে তিনি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথাও লেখেন বলে রিপোর্ট দাবি করছে। শেষে অক্টোবর ২০২৫ সালে জোনাথনের দেহ উদ্ধার হয়।

  • Sritama Mitra
    ABOUT THE AUTHOR
    Sritama Mitra

    শ্রীতমা মিত্র হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন চিফ কনটেন্ট প্রোডিউসার। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি শ্রীতমার আগ্রহের জায়গা ক্রিকেট। এছাড়াও তিনি জ্যোতিষ বিভাগ দেখাশোনা করেন এবং জীবনযাপন সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতেও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। পেশাদার জীবন: পেশাদার জীবনের শুরুতে শ্রীতমা আকাশবাণী, শান্তিনিকেতনে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ইটিভি নিউজ বাংলায় কপি এডিটর হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ওয়ানইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার পর তিনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগ দেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: শ্রীতমা মিত্র ইংরেজিতে স্নাতক (বি.এ.) এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতন থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: সাংবাদিকতার বাইরে শ্রীতমা একজন সাহিত্যপ্রেমী, ভ্রমণও তাঁর অন্যতম নেশা। ছুটির দুপুরগুলো তাঁর কাটে গল্পের বই নিয়ে। একটু লম্বা ছুটি পেলে তিনি দেশের ভিতর বা কখনও সখনও দেশের বাইরেও বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে তাঁর প্রতিটা বেড়ানোর পিছনেই কাজ করে কোনও না কোনও বই বা সিনেমা থেকে তৈরি হওয়া কৌতূহল। অজানাকে জানার আগ্রহই তাঁকে বার বার নিয়ে গিয়ে ফেলে নানা অচেনা শহরে। সেই সব অভিজ্ঞতাকে লেখার রূপ দিতেও পিছপা হন না শ্রীতমা।Read More