Anti Muslim Poster: মুসলিম প্রবেশ নিষিদ্ধ! সিংহগড় দুর্গে বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ
দুর্গের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে একটি পোস্টারে দাবি করা হয়, 'এই দুর্গ হিন্দুদের, এখানে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।' পোস্টারটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের তৎপরতায় তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
Anti Muslim Poster: মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সিংহগড় দুর্গে বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে একটি পোস্টারে দাবি করা হয়, 'এই দুর্গ হিন্দুদের, এখানে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।' পোস্টারটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের তৎপরতায় তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবুও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে সিংহগড় দুর্গের প্রবেশপথের কাছে পার্কিং এলাকার পাশে একটি পুরনো লোহার বোর্ডে ওই পোস্টারটি লাগানো অবস্থায় দেখা যায়। বন দফতরের কর্মীরা বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পোস্টারটি খুলে ফেলেন। এক আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনও অজ্ঞাত ব্যক্তি গভীর রাতে বা ভোরের অন্ধকারে সেখানে এসে আগে থেকে ছাপানো পোস্টারটি লাগিয়ে চলে যায়।
পোস্টারটি মারাঠি ভাষায় লেখা ছিল। এর শেষে 'হুকুমাভারুন' শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যার অর্থ 'আদেশানুসারে'। তদন্তকারীদের ধারণা, ইচ্ছাকৃতভাবেই এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ বা পর্যটকদের মনে হয় এটি সরকার বা কোনও সরকারি দফতরের জারি করা সরকারি নির্দেশ। প্রশাসনের মতে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই ছিল পোস্টার লাগানোর মূল উদ্দেশ্য।
ঘটনার ছবি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ, সিংহগড় দুর্গ মহারাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র। প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।
ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকেও সিংহগড় দুর্গের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। মধ্যযুগীয় এই পাহাড়ি দুর্গ ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের বীরত্বগাথা এবং ঐতিহাসিক সিংহগড় যুদ্ধের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বর্তমানে দুর্গ এবং তার আশপাশের বনাঞ্চল মহারাষ্ট্রের বন দফতরের অধীনেই রয়েছে।
পুণে গ্রামীণ পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে পুলিশ নিজেরাই তদন্ত শুরু করেছে। তাঁর কথায়, 'সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের যে কোনও চেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই অভিযোগের অপেক্ষা না করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।'
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্গে যাওয়ার রাস্তা এবং প্রবেশদ্বারের আশপাশে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে পোস্টার লাগানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দোষীদের চিহ্নিত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের উসকানিমূলক ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য দুর্গ এলাকায় নজরদারিও আরও বাড়ানো হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই পর্যটনকেন্দ্রে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতেই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


