Sheikh Hasina: পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কাঁটাতার বসতেই উঠল হাসিনা ইস্যু, প্রত্যর্পণ নিয়ে কী বললেন বাংলাদেশের মন্ত্রী?
Sheikh Hasina: ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতেই, বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামি লিগ নেত্রী তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে চলে আসেন হাসিনা। আপাতত এখানেই তিনি 'রাজনৈতিক আশ্রয়ে' রয়েছেন।
Sheikh Hasina: পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের আওয়ামি লিগ সভানেত্রী তথা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার বিজেপি সরকারের তৎপরতায় বাংলার অরক্ষিত সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতার বসালোর কাজ শুরু হতে তাঁকেই ঢাল করল ঢাকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানালেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে তাঁকে আইনি পথে ফেরানো হবে। সেই মতো নয়া দিল্লির কাছে আবেদন জানাতে পারে তারেক রহমানের সরকার। এতেই মনে করা হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসতেই শেখ হাসিনা ইস্যু তুলল ওপার বাংলা।

২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতেই, বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামি লিগ নেত্রী তথা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রাণ বাঁচিয়ে ভারতে চলে আসেন হাসিনা। আপাতত এখানেই তিনি 'রাজনৈতিক আশ্রয়ে' রয়েছেন। অন্যদিকে, হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়তেই, প্রথমে সোনার বাংলা যায় সেনার হাতে। তারপর গঠিত হয় অন্তবর্তী সরকার। তখন থেকে হাসিনা ভারতেই রয়েছেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে, তরান্বিত করে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা। এর মধ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার প্রক্রিয়া চলে। হাসিনা এবং আওয়ামি লিগের তখনকার হেভিওয়েট মন্ত্রীদের ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত। কিন্তু তাঁরা বেশিরভাগই দেশছাড়া, তাই শাস্তি এখনও কার্যকর হয়নি। তারেক রহমানের নতুন সরকারও হাসিনাদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও বিচারপ্রক্রিয়ার কথা বলেনি, এমনকী নয়া দিল্লির কাছে এখনও তাঁর প্রত্যর্পণ দাবি করেনি। তবে বিএনপি সরকারও যে আইন মেনেই পূর্বতন প্রধানমন্ত্রীর বিচার করবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মন্ত্রীরা।
তবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ সত্ত্বেও সম্প্রতি শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, দ্রুত তিনি দেশে ফিরবেন। এ নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের মত, তিনি যদি চান, তাহলে আইন মেনে ধাপে ধাপে কাজ হবে। যদিও তাঁর দেশে ফেরায় কোনও আইনি জটিলতা রয়েছে কিনা, তাও দেখতে হবে বলেও জানান সালাউদ্দিন। তাঁর কথায়, 'এ বিষয়ে আমি আরও অনেক আগে বলেছি। আমরা বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তাঁর এক্সট্রাডিশনের (প্রত্যর্পণ) জন্য চিঠি পাঠিয়েছি অনেক আগে, রিপিটেডলি। আমরা এখনও চাই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তিনি এক্সট্রাডিশন চুক্তি ইন বিটুইন (দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী) মানে এক্সট্রাডিশন ট্রিটি ইন বিটুইন টু কান্ট্রিস (দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি) এই বিধান মতে ভারত সরকার তাঁকে ফেরত পাঠাবেন। আমরা তো চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন।' কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, কেন হঠাৎ এমন মন্তব্য তাঁর? মনে করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম, দু'দেশের অরক্ষিত সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতার বসানোর জন্য জমিদান এবং কাজ শুরু। তার পাল্টা দিতেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনা ইস্যু খুঁচিয়ে তুলল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
E-Paper

