'বাক স্বাধীনতার অধিকারের...,' নোরা ফতেহির বিতর্কিত গানে কড়া পদক্ষেপ, কী বললেন মন্ত্রী?
দক্ষিণ ভারতের কন্নড় ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর হিন্দি সংস্করণের এই গানটি মুক্তি নিয়েই যাবতীয় বিকর্ক তৈরি হয়েছে।
নোরা ফতেহি ও সঞ্জয় দত্তের আসন্ন ছবির গান নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। যার পরিণতিস্বরূপ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কন্নড় ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর হিন্দি সংস্করণের গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে।' এবার দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মাঝে বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করলেন এই গানটিকে। সেই সঙ্গে তিনি বললেন, সংস্কৃতির অবক্ষয় ঘটিয়ে কোনও ধরণের বিনোদন বরদাস্ত করা হবে না।

এদিন লোকসভায় গানটির অশ্লীলতা নিয়ে ওঠা এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট জানান, সৃজনশীলতা বা অভিব্যক্তির স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সমাজে কুরুচিকর বা অশ্লীল কিছু পরিবেশন করা যায় না। তিনি বলেন, 'ইতিমধ্যেই গানটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বাক স্বাধীনতার অধিকারের নামে সংবিধান নির্মাতারা যে সীমা আরোপ করেছে, আমাদের তা মধ্যেই থাকতে হবে। বাক স্বাধীনতা সমাজের নির্দিষ্ট স্থান, কাল পাত্রের ওপর নির্ভলশীল। আগামী দিনে ডিজিটালের প্রভাব যেভাবে বাড়ছে, সেখানে আমাদের সমাজের প্রতি, বিশেষ করে মহিলা, শিশু ও বঞ্চিত শ্রেণির সুরক্ষার কথা মাথায় রাখতে হবে। সরকার এই সুরক্ষার বিষয়ে বদ্ধপরিকর।' বিতর্কিত এই গানটি নিয়ে সমাজবাদী পার্টির সদস্য আনন্দ ভাদৌরিয়ার তোলা এক প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব।
দক্ষিণ ভারতের কন্নড় ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর হিন্দি সংস্করণের এই গানটি মুক্তি নিয়েই যাবতীয় বিকর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্তের 'সরকে চুনর তেরি' ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, গানের লিরিক বা কথা অত্যন্ত কুরুচিকর ও দ্ব্যর্থ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত আপত্তিকর। গানটি সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলার জোর দাবি ওঠে। এই গান নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছাতেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে গানটির হিন্দি সংস্করণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউটিউব থেকে ইতিমধ্যে গানটি সরিয়ে নিয়েছেন নির্মাতারা। তবে,গানটির কন্নড়, মালয়ালম, তেলুগু এবং তামিল সংস্করণগুলো এখনও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে বিতর্কের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গানটির গীতিকার রকিব আলম। তিনি দাবি করেন, গানটির মূল কথা তাঁর লেখা নয়। কন্নড় গীতিকার প্রেম- এর লেখা থেকে গানটি অনুবাদ করা হয়েছে। তিনি জানান, শুরুতে তিনি গানটি লিখতে রাজি ছিলেন না এবং আশঙ্কা করেছিলেন, এটি সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন নাও পেতে পারে। পরে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সেটি অনুবাদ করেন।
ইতিমধ্যেই বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত ও রবি কিষাণও এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রচার পাওয়ার জন্য সস্তা কৌশল হিসেবে অশ্লীলতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যের সঙ্গে খাপ খায় না। এরমধ্যে জানা গিয়েছে, গীতিকার রকিব আলম এখন গানটির একটি মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন সংস্করণ লিখছেন, যা পরবর্তীতে ছাড়পত্র পাওয়ার সাপেক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে।
E-Paper

