Delhi CJP Protest Row: ‘রহস্যময় পাথরবোঝাই ট্রাক’, বিস্ফোরক সিজেপি, 'ভিত্তিহীন' বলে দাবি পুলিশের
গত ২০ জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির আগে সিজেপি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ও পোস্ট প্রকাশ করে দাবি করেছিল, যন্তর মন্তরের কাছে পাথরবোঝাই ট্রাক রাখা হয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ সাজানোর উদ্দেশ্যে।
Delhi CJP Protest Row: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার আন্দোলনের আগে যন্তর মন্তরের কাছে একটি পাথরবোঝাই ট্রাক ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়েছিল বলে সিজেপির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে খারিজ করে দিল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই ট্রাকের সঙ্গে কোনও ষড়যন্ত্রের সম্পর্ক নেই। এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় আগেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং নিরাপত্তার কারণেই নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয়েছিল।

গত ২০ জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির আগে সিজেপি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ও পোস্ট প্রকাশ করে দাবি করেছিল, যন্তর মন্তরের কাছে পাথরবোঝাই ট্রাক রাখা হয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ সাজানোর উদ্দেশ্যে। দলের অভিযোগ ছিল, আন্দোলনকে কলঙ্কিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার এই অভিযোগের জবাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ। সেখানে জানানো হয়, ট্রাকটি যন্তর মন্তর বা কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়েছিল—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশের বক্তব্য, ১৬ জুলাই একটি ভ্যানের সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল ট্রাকটি। সেই ঘটনায় ছয়জন আহত হন এবং একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাজেয়াপ্ত ট্রাকটি নিরাপদে রাখার জন্য থানার কাছাকাছি একটি স্থানে রাখা হয়েছিল। পরে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০ জুলাই ভোরে ট্রাক থেকে পাথর নামিয়ে সেটিকে অন্য একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই কাজের আগে ট্রাকের মালিককেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ট্রাকটি ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য প্রচার না করারও আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যের উপরই ভরসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিল চলাকালীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ২০০-রও বেশি পুলিশকর্মী এবং অন্তত ৬৫ জন আন্দোলনকারী আহত হন। এরপর থেকেই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
একদিকে সিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং ট্রাক সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত রয়েছে। সিজেপি তাদের অভিযোগে অনড় থাকলেও দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে ছড়ানো দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং এর মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন এই বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


