'ভারতে পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহ...,' তেলের ভাণ্ডার মজুত, সংসদে জ্বালানি নিয়ে বিশেষ বার্তা PM মোদীর
বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক অচলাবস্থার আশঙ্কার মাঝেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার লোকসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ভারত গত ১১ বছরে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বৈচিত্র্য এনেছে। আগে ভারত মাত্র ২৭টি দেশ থেকে শক্তি আমদানি করত, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১টি দেশে।

এদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত ভারতের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক ক্ষেত্রেও নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আগে ভারত ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করত, কিন্তু এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১ হয়েছে। ভারতজুড়ে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ যাতে নির্বিঘ্নে থাকে, তা নিশ্চিত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে।' পাশাপাশি, ভারতের মতো অর্থনীতিতে যুদ্ধের কী প্রভাব পড়ছে, কীভাবে ভারত মোকাবিলা করছে এদিন বিস্তৃত বর্ণনা দেন তিনি। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানান, 'যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সরকার ভারতীয়দের সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা করছে। কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে আটকে পড়া পড়ুয়াদেরও ফেরত আনার কাজ চলছে।' উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে থাকা ভারতীয়দের পাশে দাঁড়াতে সব রকম কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলপিজি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার
এই সংঘাতের প্রভাব যে দেশের জ্বালানি ক্ষেত্রেও পড়ছে, সে কথাও স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। গৃহস্থালির প্রয়োজনে অগ্রাধিকার দেশের সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, 'আমরা সবাই জানি, ভারত তার প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ গ্যাস অন্য দেশ থেকে কিনে থাকে। সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সরকার গৃহস্থের এলপিজি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে আমরা আমাদের দেশেও এলপিজি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়েছি।' এই সূত্রেই তিনি আশ্বাসের সুরে জানান, দেশে পেট্রল, ডিজেল এবং গ্যাসের জোগান সুনিশ্চিত রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করছে কেন্দ্র। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তাই এই অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির কথা স্বীকার করলেও ভারত সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
তিনি বলেন, 'যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও, আমাদের সরকার পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ যাতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।' প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অপরিশোধিত তেল, গ্যাস এবং সারের একটি বড় অংশ ওই পথ দিয়ে এলেও আমরা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সঙ্কট বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। সরকার এই সঙ্কটের স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগতভাবে কাজ করছে। সমস্ত অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার বার্তা দিল।
E-Paper

