Kerala New Chief Minister: জনপ্রিয়তা-'বন্ধু'দের চাপ! কেরলের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে রাহুলকে বিশেষ বার্তা সতীশনের
Kerala New Chief Minister: নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সতীশন, রাজনীতিতে ভেণুগোপালের সমকক্ষ ও নির্বাচনী কর্তৃত্বের দাবিদার। তিনি গত বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পারাবুর আসনে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
Kerala New Chief Minister: টানা ১০ দিন রুদ্ধশ্বাস জল্পনা ও ম্যারাথন বৈঠকের পর অবশেষে কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ভিডি সতীশনের নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন কেরল কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি। বলা ভালো, করতে বাধ্য হল। কেন? দু’টি কারণে। প্রথমটি অবশ্যই রাজনৈতিক চাপ। অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলে যদি সতীশন বিদ্রোহ করে বসেন। বিষয়টি ভাবাচ্ছিল কংগ্রেস হাইকমান্ডকে। দ্বিতীয়ত, সাংসদ কে সি বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করলে দু’টি উপনির্বাচনের মুখোমুখি হবে কংগ্রেসকে। এছাড়াও যখন সতীশনের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছিল, তখনও তিনি শীর্ষ পদের লড়াই থেকে পিছু হটতে অস্বীকার করেন এবং রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) অবস্থান পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা দলীয় নেতৃত্বকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেন।

কেরলে ফলপ্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে উঠতে পারছিল না কংগ্রেস। কারণ, বিধায়কদের মধ্যে ৩৪ জন কে বেণুগোপালপন্থী। বেণুগোপাল নিজেও রাহুলের কাছে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, গত পাঁচ বছর কেরল বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে ভিডি সতীশন কংগ্রেসের পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। এমনকী ওয়েনাড়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জয় নিশ্চিত করতে জমিও তৈরি করেছেন তিনি। বিধায়কদের একাংশের পাশাপাশি কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের সিংহভাগ সতীশনকেই মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তোলেন। পাশাপাশি সতীশন রাহুল গান্ধীকে এও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালে পরাজয়ের পর তিনিই রাজ্য বিধানসভায় দল ও তার মিত্রদের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছিলেন।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সতীশন, রাজনীতিতে ভেণুগোপালের সমকক্ষ ও নির্বাচনী কর্তৃত্বের দাবিদার। তিনি গত বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পারাবুর আসনে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তবে সতীশনের তুরুপের তাস বা সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল কংগ্রেসের মিত্রদলগুলির সমর্থন। জানা গিয়েছে যে, সতীশনকে সমর্থন জানিয়েছিল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল), কেরল কংগ্রেস এবং রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি। রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি-র সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন এইচটি-কে বলেছেন, 'ইউডিএফ-এর সকল শরিক দলই সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছিল।' তিনি বলেন যে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে সতীশন জোটের মুখ হয়ে ওঠেন এবং বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। তাঁর কথায়, 'গত পাঁচ বছর তিনি একজন নেতার মতো লড়াই করেছেন এবং ইউডিএফ-এর মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন উদ্ভাবনী এবং কোনও দলে যোগ দেননি, কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর একটি দৃঢ় অবস্থান ছিল। তাঁর লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা।' অন্যদিকে আইইউএমএল নেতা ইটি মহম্মদ বশির বলেছিলেন, 'আমরা কংগ্রেসকে জনমত এবং ইউডিএফ সমর্থকরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে তা বিবেচনা করতে বলেছি। আমরা এও বলেছি যে, গণসমর্থন রয়েছে এমন একজন নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী করা উচিত।'
এদিকে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর, সতীশন কেরলে এই বিশাল বিজয়ের কৃতিত্ব বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথলাকে দিয়েছেন। ভেনুগোপালও রাজ্যের শীর্ষ পদের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কংগ্রেসের ভিডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বেণুগোপালও।
E-Paper

