১৪.২ কেজি আর নয়! এবার মিলবে অর্ধেক ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার? শঙ্কায় গ্রাহক-ডিলাররা
সূত্রের খবর, বর্তমানে গৃহস্থের সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে সিলিন্ডারগুলিতে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস ভরা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে তেল ও গ্যাসের সঙ্কটে ভুগছে গোটা বিশ্ব। ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর-একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ভারতেও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। নিকট ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতির সম্ভাবনা না থাকায় এলপিজি নিয়ে নতুন ধরনের পরিকল্পনা করতে চলেছে রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলি। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হল জ্বালানি সংরক্ষণ করা এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করা।

যুদ্ধ আবহে ভারতে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে গৃহস্থের সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে সিলিন্ডারগুলিতে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস ভরা হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলেই খবর। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। 'ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে, ঘাটতি রোধ করতে এবং কালোবাজারি কমাতে কয়েকটি বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।' তেল বিপণন সংস্থাগুলির একটি সূত্র জানিয়েছে, গৃহস্থের সিলিন্ডারে এলপিজির ব্যবহার কমানো এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে অন্যতম। তবে গ্রাহকরা এই খবরে অসন্তুষ্ট। এই প্রসঙ্গে তারাতলার গৌরব সাক্সেনা বলেন, 'আমাদের বাড়িতে একটা সিলিন্ডার ১৫ দিন চলে। তাহলে একটা ১০ কেজি বা ৭ কেজির সিলিন্ডার ৭ থেকে ৯ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। আবার আগের ডেলিভারির তারিখ থেকে ২৫ দিনের আগে সিলিন্ডার বুক করা যায় না। রান্না কী করে হবে?'
এলপিজি ডিলাররাও এই প্রস্তাব নিয়ে চিন্তিত। দক্ষিণ কলকাতার এক এলপিজি ব্যবসায়ী বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যেই ব্যাপক চাহিদা, বুকিং ফেল এবং ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। এবার সরবরাহের পরিমাণে কোনও পরিবর্তন হলে আরও জটিলতা সৃষ্টি হবে। আমাদের বিরুদ্ধে এলপিজি চুরির অভিযোগও উঠতে পারে।' অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ে রাশ টানতে পারে কেন্দ্র। প্রথমে বলা হয়েছিল, একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে। তার কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়। তারপরে গত ১২ মার্চ সংসদে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ২৫ দিনের ব্যবধান কেবল শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গ্রামে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার অন্তত ৪৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডারটি বুক করা যাবে। তবে একটি তেল বিপণন সংস্থার (ওএমসি) এক সূত্র জানিয়েছে, 'ডেলিভারির তারিখ থেকে ব্যবধান ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।' চেতলার গৃহবধূ অনিন্দিতা সেন বলেন, 'বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পরেও সিলিন্ডার কখন আসবে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্টতা নেই।' নিউ আলিপুরের রাজেশ গুপ্ত অভিযোগ করেছেন, 'এই সিস্টেমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।' এদিকে, ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, তাঁরা সরবরাহ সংকট ও গ্রাহক অসন্তোষের মাঝে পড়েছেন। কলকাতার এক এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর বলেন, 'আমরা ডেলিভারি সামলানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, কিন্তু সরবরাহ কম এবং নিয়মকানুনও মানতে হচ্ছে।'
E-Paper

