Kolkata Hospital Success: বিরল! স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় ১৬ বছরের কিশোরের শরীরে বসল পেসমেকার, দিয়েছে মাধ্যমিকও
বিরল থেকে বিরলতম কাজ করল কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল! স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় ১৬ বছরের ছেলের শরীরে বসল পেসমেকার। শুধু তাই নয়, চারদিন পরই দেয় মাধ্যমিকও। সেই বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকরা কী বললেন?
মাত্র ১৬ বছরেই বিরল ‘কমপ্লিট হার্ট ব্লক’ ধরা পড়েছিল। এই ধরনের সমস্যা যেমন বিরল, তেমনই এত কম বয়সে পেসমেকার বসানো অত্যন্ত বিরল। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জটাই নেন কলকাতার মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। পারিজাত দেব চৌধুরীর নেতৃত্বে সাফল্যের সঙ্গে তার শরীরে পেসমেকার বসানো হয়। শুধু তাই নয়, সুস্থ হয়ে উঠে কয়েকদিনের মধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় কোচবিহারের কৃষক পরিবারের ১৬ বছরের ছেলে আকাশ দে। আর পুরো চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত দুর্বলতা থেকে মাথা ঘোরা- কী কী সমস্যা হচ্ছিল?
হাসপাতাল সূত্রে খবর, কোচবিহারের খোলতা গ্রামের বাসিন্দা আকাশ দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিল। ক্রমশ অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের তরফে তাকে নিয়ে আসা হয় মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতালে।
‘কমপ্লিট হার্ট ব্লক’- বিরল এক রোগ কিশোরদের ক্ষেত্রে
চিকিৎসকরা জানান যে আকাশ ‘কমপ্লিট হার্ট ব্লক’ নামে একটি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল, যেখানে হৃদস্পন্দন খুব ধীরে হয়ে যায় এবং এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। কিশোরদের মধ্যে এই সমস্যা অত্যন্ত বিরল। বিশ্বজুড়ে ১৮ বছরের নিচে রোগীদের মধ্যে পেসমেকার বসানোর হার এক শতাংশেরও কম।
আরও পড়ুন: মানুষের মনের ওপর এক সময়ে সত্যিই দখল নেবে ছত্রাক? মাকড়সার পরিণতি দেখে চিন্তায় বিজ্ঞানীরা
আকাশ ও চিকিৎসকরা কী বলছেন?
তবে চ্যালেঞ্জটা নেন চিকিৎসকরা। আকাশের শরীরে একটি স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়, যা তার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অস্ত্রোপচারের মাত্র চার দিনের মধ্যেই আকাশ সুস্থ হয়ে ওঠে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। আকাশ বলেছে, ‘আমার খুব ভয় ছিল যে আমি হয়তো পরীক্ষায় বসতে পারব না। কিন্তু চিকিৎসার পর আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠি। পারিজাত দেব চৌধুরী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন: 'বাঙালি হিন্দুদের ওপর...,' '৭১-এর নৃশংসতাকে 'গণহত্যা'র স্বীকৃতির প্রস্তাব US কংগ্রেসে
আর চিকিৎসক পারিজাত দেব চৌধুরী বলেছেন, ‘আকাশের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পেসমেকার বসানোর ফলে তার শক্তি ফিরে এসেছে। তার এই লড়াই শেখায় যে সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং দৃঢ় মানসিকতা থাকলে কঠিন পরিস্থিতিকেও জয় করা সম্ভব।’
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


