Parkinson's Disease Myths and Symptoms: ৩০ বছরের নীচেও হতে পারে পারকিনসন্স রোগ! ৫ মিথ ভাঙলেন চিকিৎসক, কী কী লক্ষণ?
Parkinson's Disease Myths and Symptoms: আজ বিশ্ব পারকিনসন্স দিবস। যে পারকিনসন্স নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে। যা আদতে ক্ষতি করে থাকে মানুষেরই। সেই পারকিনসন্স রোগ নিয়ে পাঁচটি মিথ ভাঙলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। কী কী পরামর্শ দিলেন?
Parkinson's Disease Myths and Symptoms: সাধারণত আমাদের চারপাশে যখনই কেউ 'পারকিনসন্স' (Parkinson's Disease) শব্দটা উচ্চারণ করেন, আমাদের চোখে ভেসে ওঠে একজন বয়স্ক মানুষের অবয়ব—যাঁর হাত কাঁপছে বা যিনি খুব ধীরগতিতে হাঁটছেন। এই ধারণাটি সমাজ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এতটাই বদ্ধমূল যে, অনেক সময় কমবয়সি রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসাই পান না। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। কলকাতার মণিপাল হাসপাতালের (সল্টলেক) কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা. বৈভব শেঠ এই রোগের নানা অজানা ও গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তুলে ধরলেন পারকিনসন্স পাঁচটি মিথ ও বাস্তব তথ্য। সেইসঙ্গে কী কী করা উচিত, সেই পরামর্শ দিলেন চিকিৎসক।

মিথ ১: পারকিনসন্স শুধু বয়স্কদের হয়
বাস্তব: কম বয়সেও শুরু হতে পারে
যদিও সাধারণত গড় প্রায় ৬০ বছরে এই রোগ ধরা পড়ে, প্রায় পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের রোগীর ক্ষেত্রে ৫০ বছরের আগেই উপসর্গ দেখা যায়, যে বিষয়টাকে ইয়াং-অনসেট পারকিনসন্স বলা হয়। আরও বিরল ক্ষেত্রে ২১ বছরের আগেও এই রোগ শুরু হতে পারে- সেটাকে জুভেনাইল পার্কিনসনিজম বলা হয়। কমবয়সি রোগীদের অনেক সময় স্ট্রেস, উদ্বেগ, সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, ফ্রোজেন শোল্ডার বা ডিপ্রেশন হিসেবে ভুল নির্ণয় করা হয়, ফলে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়।
মিথ ২: কাঁপুনি না থাকলে পারকিনসন্স ধরা যায় না
বাস্তব: অনেক রোগীর শুরুতেই কাঁপুনি থাকে না
রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো খুব সামান্য হতে পারে, যেমন দৈনন্দিন কাজে ধীরগতি, হাঁটার সময় হাতের দোল কমে যাওয়া, হাতের লেখা ছোটো হয়ে যাওয়া, কাঁধ বা ঘাড়ে শক্তভাব, মুখের অভিব্যক্তি কমে যাওয়া বা কণ্ঠস্বর নরম হয়ে যাওয়া। কমবয়সিদের ক্ষেত্রে প্রথমে কাঁধে ব্যথা ও শক্তভাব দেখা দিতে পারে, যার কারণে তারা বারবার অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কাছে যান, নিউরোলজিস্টের কাছে নয়।
মিথ ৩: পারকিনসন্স শুধু চলাফেরার সমস্যা
বাস্তব: এটি একটি সারা-শরীরের সমস্যা
পারকিনসন্স শুধু নড়াচড়ার সমস্যা তৈরি করে না; এটি শরীরের অন্যান্য দিকেও প্রভাব ফেলে। অনেক সময় চলাফেরার লক্ষণ আসার অনেক আগেই কোষ্ঠকাঠিন্য, গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া, ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা যায়। এই নন-মোটর লক্ষণগুলো এখন রোগের প্রাথমিক অংশ হিসেবে বিবেচিত।
মিথ ৪: পারকিনসন্স দ্রুত অক্ষম করে দেয়
বাস্তব: সঠিক চিকিৎসায় দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবন সম্ভব
এই রোগ সাধারণত ধীরে-ধীরে বাড়ে এবং সঠিক চিকিৎসা হলে অনেক রোগী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে পারেন। নিয়মিত ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগীরা কাজ, ভ্রমণ এবং দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে জীবনযাত্রার মান অনেক ভালো রাখা যায়।
মিথ ৫: কমবয়সি ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে রোগ একই
বাস্তব: ইয়াং-অনসেট পারকিনসন্স কিছুটা আলাদা
কমবয়সি রোগীরা সাধারণত চিকিৎসায় ভালো সাড়া দেন, রোগের অগ্রগতি ধীর হয় এবং মানসিক সক্ষমতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে। তবে তাদের কিছু আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে, যেমন কর্মজীবনে সমস্যা, আর্থিক দায়িত্ব, পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক মানসিক চাপ।
কেন প্রাথমিক সচেতনতা জরুরি?
এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হল দেরিতে শনাক্ত হওয়া। অনেক কমবয়সি মানুষ নিজেরাই ভাবেন না যে তাঁদের পারকিনসন্স হতে পারে। এমনকী অনেক চিকিৎসকও শুরুতে সন্দেহ করেন না। ফলে রোগীরা অনেক দেরিতে বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছান। অথচ প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই চিনতে পারলে রোগের গতিপথ অনেকটাই বদলানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: রক্ত আবার সোনালি হয় নাকি! সারা পৃথিবীতে মাত্র ৪৩ জনের আছে এই ‘গোল্ডেন ব্লাড’
মূল বার্তা
পারকিনসন্সকে বয়স দিয়ে নয়, সচেতনতা দিয়ে বিচার করতে হবে। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা খুবই জরুরি। এটি শুধুমাত্র বার্ধক্যের রোগ নয়; এটি এমন একটি অবস্থা, যা দ্রুত শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং সহানুভূতিশীল যত্নের প্রয়োজন।
উন্নত বোঝাপড়া ও যত্নের পথে
পারকিনসন্স সম্পর্কে সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে আমাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন দরকার। এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় এখনও না থাকলেও দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। ওষুধ, ফিজিওথেরাপি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং কিছু ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীরা দীর্ঘদিন স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত ভালোভাবে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার গতি ধীর করা যায়।
আরও পড়ুন: অম্বল-বদহজম লেগেই থাকে, অ্যাসিডিটির এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন কী করে
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতি, শরীরের শক্তভাব, হাঁটার সময় হাতের দোল কমে যাওয়া বা অজানা কোনও নড়াচড়ার পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। কারণ পারকিনসন্স শুধুমাত্র বার্ধক্যের রোগ নয় এটি এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা, যা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক আগে শুরু হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


