SC on Chingrighata Metro Work: ‘উন্নয়ন আটকানোর জেদ…’, চিংড়িঘাটা মেট্রো মামলায় মমতা সরকারকে তুলোধোনা সুপ্রিম কোর্টের
চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চরম ভর্ৎসিত হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শীর্ষ আদালত বলল, এরকম উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার উন্নয়ন আটকানোর জেদ করছে।
চিংড়িঘাটা মেট্রো জট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কানমলা খেল রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করে কঠোর ভাষায় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে যে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না। রাজ্য সরকার যদি মামলা তুলে নেয়, তাহলে ঠিক আছে। নাহলে মামলা সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেইসঙ্গে মমতা সরকারকে তুলোধোনা করে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে মেট্রোর কাজ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম কারণ দর্শানো হচ্ছে। এরকম উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। মমতা সরকার উন্নয়ন আটকানোর জেদ করছে বলেও ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

কখনও উৎসব, কখনও পরীক্ষা বলছেন, রাজ্যকে তুলোধোনা
সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ করতে হবে। সময়সীমা বেঁধে দেবে হাইকোর্ট। সেইমতো কাজ করতে হবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি। সেইসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলেছেন যে চিংড়িঘাটা মেট্রো সংক্রান্ত কাজে নিজেদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গাফিলতি করেছে। কখনও বলা হচ্ছে উৎসব আছে। কখনও বলা হচ্ছে পরীক্ষা হবে। এখন আবার ভোটের যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে বলে ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশের জন্য ঝুলে মেট্রোর অগ্রগতি
আর চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ বেশি বাকি আছে। ভায়াডাক্টের মাত্র ৩৬৬ মিটারের কাজ বাকি রয়েছে। কিন্তু সেই কাজের জন্য ট্র্যাফিক ব্লকের ছাড়পত্র দেওয়া নিয়ে দেড় বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আপাতত অরেঞ্জ লাইনে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো চলছে। সেটিকে আরও এগিয়ে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত নিয়ে যেতে তৈরি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্য আর বেলেঘাটার সঙ্গে সল্টলেক সেক্টর ফাইভকে সংযুক্ত করার জন্য ওই চিংড়িঘাটার ৩৬৬ মিটার অংশকে জুড়তেই হবে।
কিন্তু সেই কাজের জন্য যে ট্র্যাফিক ব্লকের দরকার অরেঞ্জ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সি রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের (আরভিএনএল), সেটাই পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার টালবাহানা করে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাতে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ শেষ হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে। দুটি সপ্তাহান্তে ছয়দিন রাতে ট্র্যাফিক ব্লক করতে হবে।
আরও দেরিতে শেষ হবে অরেঞ্জ লাইনের মেট্রো
তবে শেষপর্যন্ত কাজ হয়নি। বরং সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। আর সেখানে গিয়ে মুখ পুড়ল রাজ্য়ের। তারইমধ্যে গত মাসে মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানান, চিংড়িঘাটায় জটের কারণে মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের ‘ডেডলাইন’ আরও এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর মেট্রো করিডর) কাজ শেষ করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, সেটা পিছিয়ে ২০২৮ সাল করে দেওয়া হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


