বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণার পর এবার প্রকাশ্যেই দলের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বজবজের প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেব। সোমবার বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন এবং দল পরিচালনার বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

গত সপ্তাহে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকলেও তাঁর সঙ্গে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে দায়িত্বমুক্ত করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলেছেন অশোক দেব। তাঁর দাবি, দলের এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, চন্দ্রিমাকে রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, এ বিষয়ে দলের অনেকেই আগে থেকে কিছু জানতেন না। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের সকলের মতামত নিয়ে সভাপতি নির্বাচন করা প্রয়োজন ছিল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অশোক দেবের বক্তব্য, যিনি নিজেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তিনি কীভাবে গোটা রাজ্যের সংগঠন পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দলের মধ্যে আরও অনেক অভিজ্ঞ নেতা রয়েছেন, যাঁদের এই দায়িত্ব দেওয়া যেত।
প্রবীণ এই বিধায়ক আরও বলেন, অন্য কোনও নেতাকে, এমনকি মদন মিত্রকেও যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হত, তাহলে অন্তত তিনি রাস্তায় নেমে সংগঠনের লড়াই করতে পারতেন। দীর্ঘদিন দলের প্রতি অনুগত থেকেও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধ ও অসন্তোষ ক্রমশ সামনে আসছে। দলের বিভিন্ন স্তরে পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বা আড়ালে অসন্তোষ জানাচ্ছেন। সেই আবহে অশোক দেবের এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
{{/usCountry}}প্রবীণ এই বিধায়ক আরও বলেন, অন্য কোনও নেতাকে, এমনকি মদন মিত্রকেও যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হত, তাহলে অন্তত তিনি রাস্তায় নেমে সংগঠনের লড়াই করতে পারতেন। দীর্ঘদিন দলের প্রতি অনুগত থেকেও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধ ও অসন্তোষ ক্রমশ সামনে আসছে। দলের বিভিন্ন স্তরে পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বা আড়ালে অসন্তোষ জানাচ্ছেন। সেই আবহে অশোক দেবের এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
{{/usCountry}}