...
...
Next Story

Abhishek Banerjee: উস্কানিমূলক মন্তব্যে মমতার বিরুদ্ধে FIR! কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে CIDর নতুন নোটিস, শোরগোল

Abhishek Banerjee: শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৯ মার্চ এসপ্ল্যানেডের মেট্রো চ্যানেলে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে এবার দায়ের হলো এফআইআর।

Published on: Jun 12, 2026 07:59 PM IST
Advertisement

Abhishek Banerjee: সই জাল-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও আইনি বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, শুক্রবার বিকেলে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছাল সিআইডি। তবে এবার বিষয়টি ভিন্ন। সই জাল-কাণ্ডের পাশাপাশি এবার ভোটপ্রচারে ‘উস্কানিমূলক মন্তব্যের’ অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাঁকে নোটিস দিতেই হাজির হন তদন্তকারীরা। তবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বাড়ি না-থাকায় তাঁকে নোটিস ধরানো নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। শেষমেশ বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সই-কাণ্ডে এমনিতেই অস্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যেই অন্য এক মামলায় নাম জড়াল তাঁর। সূত্রের খবর, ভোটপ্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণে অভিষেকের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরে সেই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। তার সূত্র ধরে শুক্রবার বিকেল ৪টে ৪০ মিনিট নাগাদ সিআইডি-র একটি দল অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছায়। সূত্রের খবর, অভিষেক দুপুর ৩টে ৫০ মিনিট নাগাদই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ উপস্থিত না থাকায় সিআইডি আধিকারিকরা নোটিস প্রদান নিয়ে কিছুটা জটিলতার মুখে পড়েন। তাঁর অফিসের কর্মীরা আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে জানান যে, অভিষেক বাড়িতে নেই। পরিবর্তে অন্য কেউ নোটিস গ্রহণ করতে পারেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, বিষয়টি তৃণমূল নেতাকে অবগত করা হয়েছে। এরপর রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাকে নিজের বাড়ির সামনে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরেই ভবানীভবনে সিআইডি-র অফিসে গিয়েছিলাম, সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সহযোগিতা করেছি। সশরীরে হাজিরা দিতে বলেছিলেন। ৬টার আগে গিয়েছি। ১৪ তারিখ আবার যাব। আমি পালিয়ে যাইনি। নিজাম প্যালেস, ইডির কাছে গিয়েছি। আমি সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যেটুকু সহযোগিতা করা উচিত, তা করছি।'

এদিকে, অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি-র আকস্মিক এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কালীঘাট এলাকায় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও আইনজীবীদের ভিড় জমে যায়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁরা এখনও কিছু জানেন না। বিষয়টি জেনে তারপরে তাঁরা বলবেন।তবে নতুন নোটিসে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। একের পর এক তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ১৪ জুন কীভাবে সিআইডি-র মুখোমুখি হন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এর আগে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত চিঠিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে অভিষেককে একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার তিনি ভবানী ভবনে হাজিরা দেন। সেই মামলাতেই তাঁকে আগামী ১৪ জুন ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে বাগুইআটি থানায় দায়ের হওয়া উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলার তদন্তভারও সিআইডি হাতে নেওয়ায় নতুন করে আইনি জট তৈরি হলো। কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত তাঁকে গ্রেফতার বা কঠোর পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দিলেও, একের পর এক মামলায় সিআইডি-র এই তৎপরতা তৃণমূল অন্দরে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

আইনি জটিলতায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

শব্দচয়ন নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৯ মার্চ এসপ্ল্যানেডের মেট্রো চ্যানেলে তাঁর করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে এবার দায়ের হলো এফআইআর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই মামলাটি রুজু হয়েছে। নেতাজি নগর থানায় দায়ের হওয়া প্রাথমিক অভিযোগটি ‘জিরো এফআইআর’ হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পর, ঘটনাস্থলের এক্তিয়ার মেনে তা হেয়ার স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়।

গত ৯ মার্চ এসপ্ল্যানেডের দলীয় মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, '…যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না… ১ সেকেন্ডে দেবে ১২টা বাজিয়ে…।' এই মন্তব্যের পরই রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র সমাজবিরোধীই নয়, এটি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানতে সক্ষম। সমাজের নানা স্তরে এই মন্তব্যের নিন্দা শুরু হলেও বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে পৌঁছাল এবার এফআইআর-এর মাধ্যমে। শুধু ৯ মার্চের ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে বাংলাদেশের ছাত্র নেতা ওসমান হাদির খুনের ঘটনা নিয়ে তিনি একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরেও শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেছেন। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া-এই ঘটনা পরম্পরা কী কেবলই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি বড় কোনও আইনি বিপদের ইঙ্গিত?

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe