ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে এবার বীরভূমের বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা-র বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে অভিযোগে নাম রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বাবু দাস, রায়পুর-সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিখিল বাচার-সহ মোট ছয় জনের। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী বিধায়কদের দলে নাম লেখানোর পরে চন্দ্রনাথের নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল রাজ্য। এবার সেই চন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ দায়ের।

রায়পুর-সুপুর অঞ্চলের একাধিক বিজেপি কর্মী থানায় অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, ভোটের সময় ও ভোটের ফল ঘোষণার পর এলাকায় বিরোধী সমর্থকদের লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং হুমকির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রকাশ্য সভা ও মঞ্চ থেকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং তার পরেই বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগের সমর্থনে বেশ কিছু ছবি ও তথ্যও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী বিজেপি কর্মী পথিক মাঝির দাবি, ২০২১ সালের ৩ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রায়পুর-সুপুর অঞ্চলের কাকুটিয়া, সেনকাপুর, সুপুর, নুরপুর ও রজতপুর-সহ একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়, লুটপাট হয় এবং মহিলারাও নিগ্রহের শিকার হন। একই ধরনের পরিস্থিতি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময়ও দেখা গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বাবু দাসের নাম। রাজনৈতিক মহলে তিনি বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঙ্গীতা দাসের স্বামী এবং বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সভা-মঞ্চে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি “অজয় নদীতে হরিবোল বলতে বলতে বিসর্জন দেওয়া হবে” বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বাবু দাসের নাম। রাজনৈতিক মহলে তিনি বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঙ্গীতা দাসের স্বামী এবং বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সভা-মঞ্চে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি “অজয় নদীতে হরিবোল বলতে বলতে বিসর্জন দেওয়া হবে” বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
{{/usCountry}}বিজেপি কর্মী বাদল বৈদ্যের দাবি, প্রকাশ্য সভা থেকে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বাবু দাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে বোলপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।