Haldia designated immigration checkpoint: হলদিয়া বন্দরকে ‘ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, এতদিন ভারতের ৪০টি সমুদ্র বন্দরকে ‘ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ করা হচ্ছে। আর ৪১ তম সমুদ্র বন্দর হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়াকে যুক্ত করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই সিদ্ধান্তের ফলে হলদিয়া বন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রীরা ঢুকতে পারবেন বা বেরোতে পারবেন।
পূর্ব মেদিনীপুরেই তৈরি হচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দর

আর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার মাসদেড়েক পরেই। তাছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। সেখান থেকে হলদিয়া বন্দরের দূরত্ব ৯৫ কিলোমিটারের মতো। আর সেই গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠলে পূর্ব মেদিনীপুরে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের যাতায়াত আরও বাড়বে। তাই ‘ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট’ তালিকায় হলদিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বাংলার কোন কোন জায়গা আছে ‘ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট’?
এমনিতে ‘ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট’ তালিকায় বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং স্থলবন্দরকে রাখা হয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সেই তালিকায় আছে কলকাতা বিমানবন্দর, বাগডোগরা বিমানবন্দর, কলকাতা বন্দর (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর), চ্যাংরাবান্ধা, ঘোজাডাঙা, হিলি, জয়গাঁও, ফুলবাড়ি, হরিদাসপুর, লালগোলাঘাট, মাহাদিপুর, রাধিকাপুর, রানিগঞ্জ, গেদে, নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন, পেট্রাপোল/চিৎপুর, গেদে রেল ও রোড চেকপোস্ট, হরিদাসপুর।
হলদিয়া বন্দর ও তার ইতিহাস
{{/usCountry}}হলদিয়া বন্দর ও তার ইতিহাস
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, কলকাতা বন্দরের ভার কমাতে ১৯৬৭ সালে শুরু হয়েছিল হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হলদিয়ার মূল ডক কমপ্লেক্স আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ ‘অটোমেটেড’ বন্দরগুলির একটি। যেখানে কয়লা, আকরিক লোহা এবং ভারী কনটেইনার খালাসের আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সেই বন্দরকে কেন্দ্র করে দ্রুত গড়ে ওঠে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের তেল শোধনাগার, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস, সার কারখানা এবং বিভিন্ন ভারী রাসায়নিক শিল্প এই বন্দরের ওপর নির্ভর করেই গড়ে ওঠে। বড় জাহাজ (বাল্ক কার্গো) থেকে পণ্য খালাসের সুবিধার কারণে এটি দ্রুত পূর্ব ভারতের একটি প্রধান শিল্পনগরীতে পরিণত হয়।