কলকাতায় শেষ হল চতুর্থ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসব। নন্দন চত্বরে আয়োজিত পাঁচ দিনের এই মেগা ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা ছিনিয়ে নিল ইরানের ছবি ‘মাডি ফুট’। মহম্মদ ইব্রাহিম আজিজি পরিচালিত এই ছবিটি এ বছর জুরি বোর্ডের বিচারে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ক্ষতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নৈতিক লড়াইয়ের যে ছবি চিত্র পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছেন, তা আন্তর্জাতিক জুরিদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
সেরার তালিকায় বিশ্ব চলচ্চিত্র

ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিস অফ ইন্ডিয়া এবং সোশ্যাল স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে ১৭টি দেশের ৩৬টি ছবি প্রদর্শিত হয়। অন্যান্য প্রধান বিভাগগুলোর মধ্যে সেরা নন-ফিকশন সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার তথ্যচিত্র ‘ডোন্ট লুক অ্যাওয়ে’। পরিচালক অ্যাশলি ম্যালকম মরিসন একজন ক্রীড়াবিদের নীরব প্রতিবাদ ও সাহসের এক আবেগঘন দলিল তুলে ধরেছেন এই ছবিতে।
আবার এক্সট্রিম স্পোর্টস ক্যাটেগরিতে সেরা হয়েছে বুলগেরিয়ার ছবি ‘প্যারালাল ওয়ার্ল্ড’। আলেকজান্ডার ভালচেভ পরিচালিত ২১ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি মূলধারার বাইরের এক ঝুঁকিপূর্ণ ক্রীড়া জগতকে দর্শকদের সামনে এনেছে।
বাংলার মুকুটে নয়া পালক
উৎসবে বিশেষ জুরি সম্মাননা পেয়েছে ভারতীয় তথ্যচিত্র ‘ফোক গেমস অফ বেঙ্গল’। পরিচালক ধনঞ্জয় মণ্ডল বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় দেশজ খেলাধুলো এবং আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ক্যামেরাবন্দি করেছেন, যা বিচারকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র
উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বসেছিল চাঁদের হাট। প্রবীর মিত্র, গোপীনাথ ঘোষ, চিত্ত বিশ্বাস (চিরঞ্জীব) এবং সাধন দত্তের মতো প্রবীণ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা ভারতের সমৃদ্ধ ক্রীড়া ইতিহাস নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনার আয়োজন করা হয়।
এই উৎসবের অন্যতম বড় চমক ছিল ক্রোয়েশিয়া সরকারের পাঠানো একটি বিশেষ চলচ্চিত্র। কিংবদন্তি টেবিল টেনিস তারকা আন্তুন তোভা শিপানচিচ-এর জীবন এবং ১৯৭৫ সালের কলকাতার সাথে তাঁর গভীর সংযোগ নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি উৎসবে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য, এই প্রথম ভারতের কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রোয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ছবি পাঠাল।
{{/usCountry}}এই উৎসবের অন্যতম বড় চমক ছিল ক্রোয়েশিয়া সরকারের পাঠানো একটি বিশেষ চলচ্চিত্র। কিংবদন্তি টেবিল টেনিস তারকা আন্তুন তোভা শিপানচিচ-এর জীবন এবং ১৯৭৫ সালের কলকাতার সাথে তাঁর গভীর সংযোগ নিয়ে নির্মিত এই ছবিটি উৎসবে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। উল্লেখ্য, এই প্রথম ভারতের কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রোয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ছবি পাঠাল।
{{/usCountry}}