আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন কলকাতা থেকে দেশের সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ বন্দরে ভারতীয় নৌসেনার বহরে আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধককে অন্তর্ভুক্ত করার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ দিবসের এই বিশেষ দিনে বাংলার মাটিতে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর কথায়, ভারতীয় চিন্তাধারাকে নতুন দিশা দেখানো, নবজাগরণের পথপ্রদর্শক এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী সমুদ্রপথে ভারতকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা বাংলার মাটিতেই আজ আত্মনির্ভর, নিরাপদ ও উন্নত ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল।

মোদী বলেন, ২১ জুন যেমন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, তেমনই বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবসও। সেই দিনেই ভারতের অত্যাধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ আইএনএস সংশোধককে নৌসেনার বহরে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, সমুদ্রশক্তি ছাড়া কোনও দেশই বিশ্বশক্তি হয়ে উঠতে পারে না। উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সমুদ্রের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে পরিচালিত হয় এবং বিশ্বকে সংযুক্ত রাখা বিপুল তথ্যপ্রবাহও সমুদ্রের তলায় থাকা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রের খনিজ সম্পদ, নতুন শক্তির উৎস এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রেও সমুদ্রের গুরুত্ব আরও বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শক্তিশালী সামুদ্রিক ক্ষমতা একটি দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও বৃদ্ধি করে। কয়েক বছর আগে আইএনএস বিক্রান্ত দেশকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে ভারত তার সামুদ্রিক শক্তির নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল। সেই যাত্রা আজ আরও এগিয়ে গেল আইএনএস অগ্রয়, আইএনএস দুনাগিরি এবং আইএনএস সংশোধকের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে।
তিনটি জাহাজকে তিনি ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্পের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, জাহাজগুলি ভারতে তৈরি, ভারতে নকশা করা এবং ভারতীয় শিল্প, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের দক্ষতার ফসল। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত আর শুধু ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না, বরং নির্মাতা হতে চায়। মোদীর কথায়, 'ভারত নির্মাতা হবে, আর নির্মাতা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও হবে।'
{{/usCountry}}তিনটি জাহাজকে তিনি ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্পের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, জাহাজগুলি ভারতে তৈরি, ভারতে নকশা করা এবং ভারতীয় শিল্প, প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের দক্ষতার ফসল। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত আর শুধু ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না, বরং নির্মাতা হতে চায়। মোদীর কথায়, 'ভারত নির্মাতা হবে, আর নির্মাতা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও হবে।'
{{/usCountry}}তিনি জানান, গত কয়েক বছরে ৪০টিরও বেশি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নৌসেনার বহরে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪৫টি বড় নৌ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণাধীন। এটি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, ভারতের শিল্পক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতীক। তাঁর মতে, আগামী দিনে সামুদ্রিক ক্ষেত্র লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মোদী আরও জানান, এদিন কমিশন হওয়া তিনটি জাহাজ নির্মাণে ২০০-রও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা (এমএসএমই) অংশ নিয়েছে। ফলে বিপুল কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ মেরামত, জাহাজ পুনর্ব্যবহার এবং এমআরও পরিষেবাকে কেন্দ্র করে ভারত নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোচ্ছে। সম্প্রতি শিপিং সেক্টরের জন্য ঘোষিত ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজকে তিনি ভারতের সামুদ্রিক ভবিষ্যতের বিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন।