Private school Vice-Principal arrested: স্কুলের মতো 'নিরাপদ' বলে বিশ্বাস করা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরেই নাবালিকা ছাত্রীর অসভ্যতা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে। অভিযোগের তির একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাজা প্রসাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। শ্লীলতাহানির ঘটনায় ওই স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অন্ডালের উখড়া গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উখড়া গ্রামের ওই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলটি কয়েক বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলের মধ্যেই ছাত্রদের থাকার হোস্টেল রয়েছে। অভিযোগ, স্কুলে ক্লাস চলাকালীন বিভিন্ন অজুহাতে ওই ছাত্রীকে অফিসকক্ষে ডেকে পাঠাতেন ভাইস প্রিন্সিপাল রাজা প্রসাদ। সেখানে তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ এবং শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ছাত্রী মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছিল। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি খুলে বলতেই সামনে আসে অভিযোগের বিস্ফোরক তথ্য। এরপর শনিবার অন্ডাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রীর অভিভাবকরা। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপ করে শনিবার অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নির্যাতিত ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়েছে। পাশাপাশি, স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মী এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতদিন ধরে চলছিল, অন্য কোনও পড়ুয়াও একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে কিনা, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও এদিন আদালতে জানানো হয়েছে। এদিকে, স্কুলের ভিতরে এমন ঘটনার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা। তাঁদের প্রশ্ন, যে প্রতিষ্ঠানের হাতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, সেখানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ পুলিশ। তবে নাবালিকার পরিবারের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।