আমির খান মানেই পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর শৃঙ্খলিত জীবন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের এক ঝোড়ো অধ্যায়ে এই অভিনেতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন নিজেকে। প্রথম স্ত্রী রীনা দত্তর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যে গভীর একাকীত্ব তাঁকে গ্রাস করেছিল, তা থেকে বাঁচতে অ্যালকোহল বা মদের নেশাকেই সঙ্গী করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণার দিনগুলোর কথা সবিস্তারে জানালেন আমির।

যিনি কোনোদিন মদ ছোঁননি...
আমির জানান, রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের আগে পর্যন্ত তিনি মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা একজন মানুষ। এমনকি সিনেমার দৃশ্যে মদ্যপানের অভিনয়ের প্রয়োজনেও তিনি খুব কমই মদ ছুঁয়েছেন। কিন্তু ২০০২ সালে রীনা যখন সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান, সেই প্রথম রাতটিই আমিরের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দেড় বছর চলেছিল ‘অন্ধকার’ সফর
অভিনেতার কথায়, ‘সেই রাতে আমি একা ছিলাম, আবেগ সামলাতে পারছিলাম না। বাড়িতে অতিথিদের জন্য মদ রাখা ছিল, সেখান থেকেই শুরু। এরপর প্রায় দেড় বছর আমি প্রতি রাতে প্রায় এক বোতল করে মদ খেতাম। যে মানুষ কোনোদিন মদ খায়নি, তাঁর কাছে এটা ছিল চরম একটা পর্যায়’। আমিরের এই স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিচ্ছেদের ধাক্কা তাঁর মতো শক্তিশালী ব্যক্তিত্বকেও কতটা টলিয়ে দিয়েছিল।
সন্তানদের জন্য ফিরে আসা
আমিরের এই পুরনো ক্ষতের কথা সামনে আসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও, আমির শেষ পর্যন্ত নিজেকে সেই নেশার জগত থেকে বের করে আনতে পেরেছিলেন। সন্তানদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং নিজের মানসিক শক্তির জোরেই তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন।
আজকের আমির ও রীনা
{{/usCountry}}আজকের আমির ও রীনা
{{/usCountry}}বর্তমানে রীনা ও আমিরের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। রীনা এখনও আমিরের পরিবারের সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। তবে ফেলে আসা সেই দেড় বছরের 'অন্ধকার' সময়কে আমির আজও জীবনের এক বড় শিক্ষা হিসেবে দেখেন।
অনেকেই হয়ত জানেন না, ভালোবেসে ১৯ বছরের রিনাকে বিয়ে করেছিলেন বছর ২১-এর ঝকঝকে যুবক আমির। তাঁদের প্রেম কাহিনি কোনও ফিল্মের গল্পের চেয়ে কম রোমাঞ্চক নয়। পাশের বাড়ির মেয়ে রিনার সৌন্দর্যে ছেলেবেলা থেকেই বুঁদ ছিলেন আমির। ঠায় জানলার ধারে ওত পেতে বসে থাকতেন রিনার এক ঝলক পাওয়ার জন্য। ১৯৮৬ সালে বিয়ে হয়েছিল রিনা-আমিরের। ২০০২ সালে ১৬ বছর দীর্ঘ দাম্পত্যে ইতি টানেন দুজনে। তাঁদের দুই সন্তান ইরা খান ও জুনেইদ খান।
পরবর্তীতে পরিচালক কিরণ রাও-কে বিয়ে করেন আমির, তবে ২০২১ সালে সকলকে অবাক করে ডিভোর্সের কথা জানা তাঁরা, যদিও ছেলে আজাদের জন্য হামেশাই একসঙ্গে দেখা যায় দুজনকে। আজও তাঁরা পরস্পরের সবচেয়ে বড় চিয়ারলিডার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সুপারস্টার আমির আপাতত গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। খুল্লমখুল্লা জানিয়েছেন প্রেমের কথা। আমিরের তৃতীয় বিয়ে কি তবে সময়ের অপেক্ষা? উত্তর মিলবে শীঘ্রই।