আরজি করের ঘটনার পর বড়সড় ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই রেশ চলে বেশ লম্বা সময় ধরেই। আর তারপর অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অকালমৃত্যু নিয়েমন্তব্য করে নিয়ে ফের আলটপকা মন্তব্য করে ফেলেন ‘মহারাজ’! ‘কেন যে ও জলে-টলে নামতে গেল, সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।’, বলেন দাদা। আর তাতেই চটে লাল সকলে। অনেকেই এভাবে ‘জলে-টলে’ বলাকে রাহুলের প্রতি অপমান ও অবজ্ঞা হিসেবে ধরেছেন।

তবে একদিকে যখন সৌরভকে ঘিরে বর্তমানে বিতর্কের কালো মেঘ, তখনই এল জয়জিতের পোস্ট। অভিনেতার দাবি, সৌরভ তাঁকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন। তা কী এমন করলেন দাদা?
আসলে জয়জিৎকে অরিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। নিজে ডায়েট চার্ট দিয়েছেন, এমনকী ফোন করে খোঁজখবরও নিতেন কতটা ওজন কমেছে। জয়জিৎ লেখেন, ‘সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়দা দাদাগিরিতে দেখে আমাকে বলেছিলে কি হচ্ছে এটা? ভুঁড়িটা কমাও। আমাকে বলেছিলে রাত্রে কথা বলছি। রাতে কথা, ডায়েট চার্ট পাঠানো এবং মাঝে মাঝে ওজনের আপডেট। বেশী ওজন নয় প্রয়োজন। ৯০ থেকে এখন ৭৬ কিলো। ধন্যবাদ দাদা।’
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও কিন্তু বরাবরই বেশ স্বাস্থ্যসচেতন। একসময় খেলাধুলোর কারণে অ্যাক্টিভ থাকতেন বেশি। ফলে খেতেনও জমিয়ে। তবে বর্তমানে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশ টেনেছেন খাবারে। বিশেষ করে ২০২১ সালের হার্টের সমস্যা হওয়ার পর থেকে, খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। কার্বোহাইড্রেট বর্জন করার জন্য, সৌরভ এখন ভাত এবং রুটি খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। সঙ্গে ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ। তাঁর খাবারের তালিকায় এখন প্রোটিনের আধিক্য বেশি। তিনি মাছ এবং মুরগির মাংস খেলেও মটন বা চিংড়ির মতো উচ্চ ক্যালোরি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলেন। আর ডায়েটের পাশাপাশি শরীরচর্চাতেও থাকে কড়া নজর।
এদিকে, অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী শ্রেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘটেছে। বহুদিন ধরে জল্পনা থাকলেও, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অভিনেতা নিজেই তাঁদের আইনি বিবাহবিচ্ছেদের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, বিগত দুই বছর ধরেই তাঁদের ছাদ আলাদা। শ্রেয়ার ‘পরকীয়া’র খবরও এসেছে। তাঁদের একমাত্র পুত্র যশোজিৎ এখন প্রাপ্তবয়স্ক। সে আইনিভাবে বাবার কাছে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও, মায়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।