টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে উদ্বেগের ছায়া ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বন্ধ দুটো সিরিয়াল। কর্মহীন বহু। সেই নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই এবার নিখোঁজ হলেন সিনেমাটোগ্রাফার সৃজন বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে তাঁর কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্টুডিয়ো পাড়ায়। এর আগে গত ২ মার্চ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়। এখনও কোনওরকম সূত্র মেলেনি উৎসবকে নিয়ে। সেই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্য়েই ফের নিঁখোজ আরও এক কুশীলব।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি
পরিচালক মৈনাক গুহ সমাজমাধ্যমে সৃজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় সৃজন হাবরার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তাঁর পরনে ছিল একটি হলুদ রাউন্ড নেক টি-শার্ট এবং হাফ প্যান্ট, পায়ে কিটো জুতো। সৃজনের ফোনটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সৃজনের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, যে ধরণের পোশাক পরে তিনি বেরিয়েছিলেন, তাতে মনে হয় না তিনি দূরে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও হাবরা থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়েছে।
এক সপ্তাহেও মেলেনি উৎসবের খোঁজ
সৃজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরের মাঝেই উৎসব মুখোপাধ্যায়ের অন্তর্ধান রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। উৎসবের স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের কাজে নিমতায় গিয়েছিলেন পরিচালক। শেষবার দুপুরের দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল, তখন তিনি ব্যাঙ্কেই ছিলেন। তারপর থেকেই তাঁর ফোন সুইচড অফ। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও উৎসবের কোনও খোঁজ না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবার ও ইন্ডাস্ট্রি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।
রহস্য নাকি পরিকল্পনা?
{{/usCountry}}রহস্য নাকি পরিকল্পনা?
{{/usCountry}}রাহুলের মৃত্যু এবং সেটের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে যখন শিল্পী ফোরাম ও টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে, তখন একের পর এক কলাকুশলীর এভাবে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। উৎসবের স্ত্রীর বয়ানে যেমন নেটিজেনদের একাংশ ‘অসংগতি’ খুঁজছেন, তেমনই সৃজনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অনেকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।
ইন্ডাস্ট্রির আর্তি
সৃজন বিশ্বাসের খোঁজ পেতে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে দুটি ফোন নম্বর শেয়ার করা হয়েছে (8017022667 অথবা 9836995696)। পরিচালক মৈনাক গুহ সহ অন্য শিল্পীরা এই পোস্টটি শেয়ার করে সাধারণ মানুষের সাহায্য চেয়েছেন। এই নিখোঁজ সংবাদ টলিপাড়ার পরিবেশকে আরও ভারী করে তুলেছে।