অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রায় দু-সপ্তাহ হতে চলল। তদন্তের জল ওড়িশা পুলিশ পর্যন্ত গড়ালেও, সাধারণ মানুষের কৌতূহল আর এক শ্রেণির নেটিজেনদের ‘পাশবিক’ প্রশ্নে অতিষ্ঠ রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। শ্বেতা কেন চুপ? সেই অভিশপ্ত দিনে ঠিক কী হয়েছিল? শাড়ি পরে জলে ডুবেও তিনি কীভাবে বাঁচলেন?— এই জাতীয় হাজারো প্রশ্নের মুখে বিদ্ধ হতে হচ্ছে তরুণ অভিনেত্রীকে। এবার শ্বেতার হয়ে কলম ধরলেন তাঁর ‘বড় দিদি’ তথা অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী।

বেঁচে ফেরাটা যেন অভিশাপ না হয়
অনিন্দিতা তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শ্বেতা একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন। বর্তমানে তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ইন্ডাস্ট্রির গুরুজনেরা তাঁকে আগলে রেখেছেন। অনিন্দিতার কথায়, ‘ভীষণ তাড়াহুড়ো করে সত্যি উদঘাটনের নেশায় বারবার ও কেন কিছু বলছে না, কেন শাড়ি পরেও বেঁচে গেল— এইসব অস্বাভাবিক পাশবিক প্রশ্ন করে শ্বেতার বেঁচে ফেরাটাকে অভিশাপের মতো করে নাই বা দেখলেন সবাই।’
শক্ত শিরদাঁড়ার মেয়ে শ্বেতা
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন শ্বেতা কেন সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলছেন না। তার জবাবে অনিন্দিতা লিখেছেন, শ্বেতার শিরদাঁড়া অনেক শক্ত। সময় এলে তিনি আইনের কাছে, পুলিশের কাছে এবং যাঁদের জানানোর দরকার তাঁদের কাছে ঠিকই মুখ খুলবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁকে মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার সময় দেওয়া উচিত। অনিন্দিতার আবেদন, 'ওর এই দ্বিতীয় জন্মটাকে সুস্থভাবে বাঁচতে দিন।'
স্মৃতিতে রাহুল, যন্ত্রণায় শ্বেতা
{{/usCountry}}স্মৃতিতে রাহুল, যন্ত্রণায় শ্বেতা
{{/usCountry}}রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু টলিপাড়াকে বড়সড় নাড়া দিয়েছে। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, রাজন্যা মিত্রের মতো অভিনেত্রীরা ট্রমার কারণে কাজ ছেড়েছেন। কিন্তু সেই ঘটনার সময় রাহুলের সঙ্গে ওই জলেই উপস্থিত ছিলেন শ্বেতা। তাঁর চোখের সামনে সহকর্মীকে তলিয়ে যেতে দেখার যে ট্রমা, তার বিচার না করেই সাধারণ মানুষের একাংশ যেভাবে তাঁকে কাঠগড়ায় তুলছেন, তা অত্যন্ত অমানবিক বলে মনে করছেন অনিন্দিতা।
ইন্ডাস্ট্রির পাশে থাকা
অনিন্দিতার এই পোস্টের নিচে টলিপাড়ার অনেক শিল্পীই সহমত পোষণ করেছেন। বেশিরভাগজনই লেখেন, শ্বেতা নেটিজেনদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য় নন। অন্যদিকে অনেকেই লেখেন, সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম।
প্রসঙ্গত, রাহুলের মৃত্যুর পর এখনও মুখ খোলেননি শ্বেতা। তাঁর নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে রাহুলের ছবি পোস্ট করে ‘ভালো থেকো’ শব্দ জোড়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু সেই প্রোফাইলটি আদৌ শ্বেতার কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।