Antara Nandy Pays tribute to Asha Bhosle: সুরের আকাশ আজ মেঘলা। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সেই কণ্ঠ, যা সাত দশক ধরে আপামর বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছিল। লতা মঙ্গেশকরের পর এবার চিরবিদায় নিলেন তাঁর ছোট বোন, কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ওপি নায়ার থেকে শুরু করে আরডি বর্মন— যাঁর সুরেলা সফর ক্যাবারে, পপ আর মেলোডির এক অদ্ভুত মিশেল তৈরি করেছিল, আজ সেই জাদুকরী অধ্যায়ের অবসান হলো।

এক ছোট্ট গায়িকার স্মৃতি
এই শোকের মাঝেই সমাজমাধ্যমে প্রিয় আশা তাইয়ের সঙ্গে স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন একাধিক তারকা। তালিকায় রয়েছেন অজস্র বাঙালি শিল্পীও। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি পুরনো ছবি। ছবির ফ্রেমে নীল ভারী সিল্কের শাড়ি আর ছিমছাম সোনার গয়নায় মোড়া হাসিমুখের আশা ভোঁসলে। পাশে, তাঁর স্নেহের আলিঙ্গনে ধরা দিয়েছে এক পুঁচকে মেয়ে। দুজনের চওড়া হাসিই বলে দিচ্ছে, সেই মুহূর্তটা ছিল কতটা বিশেষ। বলুন তো, সেই পুঁচকে মেয়েটি কে? আন্দাজ করতে পারছেন?
এই খুদে জনপ্রিয় বাঙালি গায়িকা। একটা সময় রিয়ালিটি শো-এর মঞ্চ কাঁপিয়েছেন, এখন বোনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপান। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। ছবিটি আর কারোর নয়, জনপ্রিয় গায়িকা এবং একসময়ের ‘সা রে গা মা পা লিটল চ্যাম্পস’ খ্যাত অন্তরা নন্দীর। ২০০৯ সালে এই শো-তে অংশ নিয়েছিলেন অন্তরা। তাঁর গানে মুগ্ধ হয়েছিলেন কিংবদন্তী আশা ভোঁসলে।
সুরের ঈশ্বরীর বিদায় এবং অন্তরার শোক
{{/usCountry}}সুরের ঈশ্বরীর বিদায় এবং অন্তরার শোক
{{/usCountry}}আশাজির প্রয়াণের খবর পেতেই ডুকরে উঠেছেন অন্তরা। সেই পুরনো ছবি শেয়ার করে তিনি এক মর্মস্পর্শী পোস্ট লিখেছেন। কৌশিকী চক্রবর্তী যেমন আশাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন, তেমনই অন্তরাও তাঁর শোকস্তব্ধ মনের কথা উজাড় করে দিয়েছেন। ছবিটির ক্যাপশনে অন্তরা লিখেছেন: ‘দ্য এন্ড অফ অ্যান এরা (একটা যুগের অবসান)। ওম শান্তি’।অন্তরার এই শব্দগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে, আশাজির সান্নিধ্য তাঁর কাছে কতটা অমূল্য ছিল।
আশা ভোঁসলের সোনালি কেরিয়ার
আশা ভোঁসলের আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ার যেন সুরের এক জাদুকরী মহাকাব্য, যা শুরু হয়েছিল ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি ছবির হাত ধরে। শুরুর দিকে দিদি লতা মঙ্গেশকর ও শমশাদ বেগমের আধিপত্যের কারণে তাঁকে মূলত খলনায়িকা বা পার্শ্বচরিত্রের গান গাইতে দেওয়া হলেও, সেই প্রতিকূলতাকেই তিনি নিজের শক্তিতে পরিণত করেন এবং ১৯৫০-এর দশকে ওপি নায়ারের সুরে ‘নয়া দৌড়’ ছবির মাধ্যমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। ক্যাবারে, পপ এবং জ্যাজ ধারার গানকে ভারতীয় সিনেমায় জনপ্রিয় করার পাশাপাশি ‘উমরাও জান’-এর গজলে তাঁর শাস্ত্রীয় সংগীতের ব্যুৎপত্তি গোটা বিশ্বকে অবাক করেছিল, যা তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। ২০টি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া এই শিল্পী দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণের মতো শ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আশি বছর বয়সেও মঞ্চে তাঁর তারুণ্যভরা পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে যে তিনি সত্যিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী; আর তাঁর সেই চিরযৌবনা কণ্ঠই আজ কৌশিকী চক্রবর্তীর মতো উত্তরসূরিদের কাছে এক অবিস্মরণীয় প্রেরণা হয়ে রয়ে গেল।