...
...
Next Story

Guess the singer: আশা তাইয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো এই খুদে এখন জনপ্রিয় গায়িকা, চিনলেন বাঙালি কন্যেকে?

Antara Nandy: স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সেই কণ্ঠ, যা সাত দশক ধরে ভারতীয় সংগীতকে দিয়ে এসেছে এক আধুনিক ও চিরযৌবনা রূপ। আশা তাইয়ের মৃত্যুতে শোকবিহ্বল বাংলার শিল্পীরাও।

Published on: Apr 12, 2026, 19:52:19 IST
Advertisement

Antara Nandy Pays tribute to Asha Bhosle: সুরের আকাশ আজ মেঘলা। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সেই কণ্ঠ, যা সাত দশক ধরে আপামর বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছিল। লতা মঙ্গেশকরের পর এবার চিরবিদায় নিলেন তাঁর ছোট বোন, কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ওপি নায়ার থেকে শুরু করে আরডি বর্মন— যাঁর সুরেলা সফর ক্যাবারে, পপ আর মেলোডির এক অদ্ভুত মিশেল তৈরি করেছিল, আজ সেই জাদুকরী অধ্যায়ের অবসান হলো।

আশা তাইয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো এই খুদে এখন জনপ্রিয় গায়িকা, চিনলেন বাঙালি কন্যেকে?
আশা তাইয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়ানো এই খুদে এখন জনপ্রিয় গায়িকা, চিনলেন বাঙালি কন্যেকে?

এক ছোট্ট গায়িকার স্মৃতি

এই শোকের মাঝেই সমাজমাধ্যমে প্রিয় আশা তাইয়ের সঙ্গে স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন একাধিক তারকা। তালিকায় রয়েছেন অজস্র বাঙালি শিল্পীও। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি পুরনো ছবি। ছবির ফ্রেমে নীল ভারী সিল্কের শাড়ি আর ছিমছাম সোনার গয়নায় মোড়া হাসিমুখের আশা ভোঁসলে। পাশে, তাঁর স্নেহের আলিঙ্গনে ধরা দিয়েছে এক পুঁচকে মেয়ে। দুজনের চওড়া হাসিই বলে দিচ্ছে, সেই মুহূর্তটা ছিল কতটা বিশেষ। বলুন তো, সেই পুঁচকে মেয়েটি কে? আন্দাজ করতে পারছেন?

এই খুদে জনপ্রিয় বাঙালি গায়িকা। একটা সময় রিয়ালিটি শো-এর মঞ্চ কাঁপিয়েছেন, এখন বোনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপান। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। ছবিটি আর কারোর নয়, জনপ্রিয় গায়িকা এবং একসময়ের ‘সা রে গা মা পা লিটল চ্যাম্পস’ খ্যাত অন্তরা নন্দীর। ২০০৯ সালে এই শো-তে অংশ নিয়েছিলেন অন্তরা। তাঁর গানে মুগ্ধ হয়েছিলেন কিংবদন্তী আশা ভোঁসলে।

আশাজির প্রয়াণের খবর পেতেই ডুকরে উঠেছেন অন্তরা। সেই পুরনো ছবি শেয়ার করে তিনি এক মর্মস্পর্শী পোস্ট লিখেছেন। কৌশিকী চক্রবর্তী যেমন আশাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন, তেমনই অন্তরাও তাঁর শোকস্তব্ধ মনের কথা উজাড় করে দিয়েছেন। ছবিটির ক্যাপশনে অন্তরা লিখেছেন: ‘দ্য এন্ড অফ অ্যান এরা (একটা যুগের অবসান)। ওম শান্তি’।অন্তরার এই শব্দগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে, আশাজির সান্নিধ্য তাঁর কাছে কতটা অমূল্য ছিল।

আশা ভোঁসলের সোনালি কেরিয়ার

আশা ভোঁসলের আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ার যেন সুরের এক জাদুকরী মহাকাব্য, যা শুরু হয়েছিল ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি ছবির হাত ধরে। শুরুর দিকে দিদি লতা মঙ্গেশকর ও শমশাদ বেগমের আধিপত্যের কারণে তাঁকে মূলত খলনায়িকা বা পার্শ্বচরিত্রের গান গাইতে দেওয়া হলেও, সেই প্রতিকূলতাকেই তিনি নিজের শক্তিতে পরিণত করেন এবং ১৯৫০-এর দশকে ওপি নায়ারের সুরে ‘নয়া দৌড়’ ছবির মাধ্যমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। ক্যাবারে, পপ এবং জ্যাজ ধারার গানকে ভারতীয় সিনেমায় জনপ্রিয় করার পাশাপাশি ‘উমরাও জান’-এর গজলে তাঁর শাস্ত্রীয় সংগীতের ব্যুৎপত্তি গোটা বিশ্বকে অবাক করেছিল, যা তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। ২০টি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া এই শিল্পী দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণের মতো শ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আশি বছর বয়সেও মঞ্চে তাঁর তারুণ্যভরা পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে যে তিনি সত্যিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী; আর তাঁর সেই চিরযৌবনা কণ্ঠই আজ কৌশিকী চক্রবর্তীর মতো উত্তরসূরিদের কাছে এক অবিস্মরণীয় প্রেরণা হয়ে রয়ে গেল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe