হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট। ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট ছিল এদিন। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর-এর কিছু আসনে, আর মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলা সবকটি আসনে ভোট হল বৃহস্পতিবারে।

আর প্রথম দফাতেই ভোট দিলেন গায়ক অরিজিৎ চক্রবর্তী। কাজের জন্য বেশ কয়েকবছর ধরে মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেও, নিজের স্থায়ী ঠিকানা বদলাননি তিনি। আর প্রতিবারের মতো এবারেও নিজের নাগরিক দায়িত্ব করলেন পালন। স্ত্রী কোয়েলকে সঙ্গে নিয়ে দিলেন ভোট মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত জিয়াগঞ্জ থেকে।
বরাবরই তিনি মাটির মানুষ। বাহুল্যতার ধারেকাছে ঘেঁষেন না! এদিনও একদম সাদামাটা গায়ক। পরে ছিলেন নীল রঙের কুর্তা আর ডেনিম। কোয়েলকে দেখা গেল চুড়িদারে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পর, ছবি শিকারীরা যখন তাঁকে কিছু বলার অনুরোধ করে একপ্রকার হেসে গড়িয়ে পড়েন।
‘আমি এখন ভোটের মধ্যে কী বলব! লোকে ভাববে আমি নেতা হতে চাইছি’! বলেন অরিজিৎ। এরপর হেসে গড়িয়ে পড়ার অবস্থা। আর বরের কাণ্ড দেখে কোয়েলও বেশ মজা পান। হাসি ফোটে তাঁর মুখেও। সবচেয়ে মিষ্টি ব্যাপার হল, যখন এই এত্ত কথা হচ্ছিল, তখনও বউয়ের হাতটা ধরে ছিলেন শক্ত করে।
আরজিকর কাণ্ডের সময় শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। একাধিকবার পোস্ট এসেছিল তাঁর আনঅফিসিয়াল টুইটর অ্যাকাউন্টে। এমনকী তাঁর গাওয়া আর কবে গানটি প্রতিবাদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
{{/usCountry}}আরজিকর কাণ্ডের সময় শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। একাধিকবার পোস্ট এসেছিল তাঁর আনঅফিসিয়াল টুইটর অ্যাকাউন্টে। এমনকী তাঁর গাওয়া আর কবে গানটি প্রতিবাদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, অরিজিতের বাবা সুরিন্দর সিং একজন পাঞ্জাবি শিখ এবং মা অদিতি সিং ছিলেন একজন বাঙালি হিন্দু। তাঁর পৈতৃক পরিবার দেশভাগের সময় লাহোর থেকে এসে জিয়াগঞ্জে থিতু হয়। এলাকায় তিনি সোমু নামে পরিচিত। এখনো ঘরের ছেলে হয়েই থেকে গিয়েছেন। কখনোই অরিজিৎকে ঘিরে থাকে না কোনো নিরাপত্তারক্ষীর ভিড়। বরং তিনি একাএকা কখনো স্টেশন, কখনো বাজার, কখনো ছেলেদের আনতে চলে যান।
মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে অরিজিৎ সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। ধীরেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে তবলা শিখেছিলেন। ফেম গুরুকূল নামের রিয়েলিটি শো থেকে প্রচারের আলোয় আসেন প্রথম। এরপর আশিকি ২ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অরিজিতের বর্তমান স্ত্রী কোয়েল রায় তাঁর ছোটবেলার বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাঁদের দুই ছেলে, জুল আর অলি।