ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং ২৫ এপ্রিল শনিবার তাঁর ৩৯তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। আজ শুধু ভারতবর্ষে নয়, বিশ্বের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে গিয়েছে তাঁর নাম। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রাম। মাত্র ১৮ বছর বয়স থেকে যা শুরু হয়েছিল ফেম গুরুকূল নামে রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে। যদিও তাতে জয় আসেনি অরিজিতের হাতে, বরং জিতেছিলেন কাজি তৌকির ও রূপরেখা বন্দ্যোপাধ্যায়। ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন তিনি।
কোন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া অরিজিতের?

১৯৮৭ সালে মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন অরিজিৎ। বাবা কক্কর সিং পঞ্জাবি আর মা অদিতি বাঙালি। মায়ের পরিবারের গানের সঙ্গে যোগ থেকেই অরিজিতের সুরের প্রতি ভালোবাসা। আর তাই খুব ছোট বয়স থেকেই শুরু হয় সংগীত শিক্ষার তালিম। রাজা বিজয় সিং হাই স্কুলে এবং পরে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শ্রীপত সিং কলেজে পড়াশোনা করেন। অরিজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি পড়াশোনায় বেশ ভালোই ছিলেন, তবে সংগীতের প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল বেশি। আর ছেলের এই টান দেখেই তাঁর বাবা-মা পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারি তাকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখিয়েছিলেন এবং ধীরেন্দ্র প্রসাদ হাজারির কাছে তবলার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। বীরেন্দ্র প্রসাদ হাজারি তাকে রবীন্দ্র সঙ্গীত) এবং পপ সঙ্গীত শিখিয়েছিলেন।
‘১০ কে ১০ লে গয়ে দিল’-এ অরিজিৎ
‘ফেম গুরুকুল’-এর পর অরিজিৎ ‘১০ কে ১০ লে গয়ে দিল’ নামে আরেকটি রিয়েলিটি শো-তে অংশ নেন। শোটি ছিল ‘ফেম গুরুকুল’ এবং ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রতিযোগীদের মধ্যে একটি সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। তিনি শোটি জিতে নেন এবং পুরস্কারের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজের স্টুডিয়ো শুরু করেন।
তবে এরপরও গায়ক হিসেবে তারকা খ্যাতি তার জন্য সহজে আসেনি। চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালি-র নজরে আসেন এবং রণবীর কাপুর ও সোনম কাপুরের ডেবিউ সিনেমা সাইয়ারা-তে ‘Yoon Shabnami’ গানটি গাওয়ার সুযোগ দেন। দুর্ভাগ্যবশত, গানের তাঁর সংস্করণটি কখনোই মুক্তি পায়নি। এরপর রমেশ তুরানি তাঁকে একটি মিউজিক অ্যালবামের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেন, কিন্তু সেটিও শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
অরিজিতের ভাগ্য বদলায় আশিকি ২
{{/usCountry}}তবে এরপরও গায়ক হিসেবে তারকা খ্যাতি তার জন্য সহজে আসেনি। চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালি-র নজরে আসেন এবং রণবীর কাপুর ও সোনম কাপুরের ডেবিউ সিনেমা সাইয়ারা-তে ‘Yoon Shabnami’ গানটি গাওয়ার সুযোগ দেন। দুর্ভাগ্যবশত, গানের তাঁর সংস্করণটি কখনোই মুক্তি পায়নি। এরপর রমেশ তুরানি তাঁকে একটি মিউজিক অ্যালবামের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেন, কিন্তু সেটিও শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
অরিজিতের ভাগ্য বদলায় আশিকি ২
{{/usCountry}}পরবর্তীতে, ২০০৬ সালে অরিজিৎ মুম্বই চলে যান, যেখানে তিনি তাঁর সঙ্গীত জীবন শুরু করেন। এরপর মার্ডার ২ ছবির ‘ফির মহব্বত’ গানটি গেয়ে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেন। ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানের মাধ্যমে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
এরপর ‘ইলাহি’ (Yeh Jawaani Hai Deewani) এবং ‘হামারি আধুরি কাহানি’ (Hamari Adhuri Kahani) গানের জন্য তিনি সমালোচকদের প্রশংসা পান। এই গানগুলো শ্রোতাদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। বছরের পর বছর ধরে অরিজিৎ সিং নিজেকে রোমান্টিক গানের গায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে এসে অরিজিৎ সিং প্লে ব্যাক থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেন। যদিও গায়ক জানিয়েছেন যে, ইতিমধ্যে যে প্রোজেক্টগুলো তিনি হাতে নিয়েছেন, তা শেষ করবেন একে-একে। অর্থাৎ ২০২৭ অবধি প্লে ব্যাক করা গান আসবে।