Ayush Gupta Saregamapa Winner: রবিবার রাতে অবসান ঘটল দীর্ঘ প্রতীক্ষার। টেলিভিশন পর্দার অন্যতম সেরা মিউজিক্যাল রিয়্যালিটি শো ‘জি বাংলা সারেগামাপা ২০২৫–২৬’ (Zee Bangla Sa Re Ga Ma Pa 2025-26)-এর গ্র্যান্ড ফিনালে-তে যবনিকা পড়ল। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার খবরে সিলমোহর, সেরার সেরা শিরোপা ছিনিয়ে নিলেন সকলের প্রিয়, ইসলামপুরের ছেলে আয়ুষ গুপ্তা। দীর্ঘ কয়েক মাসের কঠিন লড়াই, সুরের পরীক্ষা এবং রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত পার করে ট্রফি এখন তাঁর হাতে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অফুরন্ত আবেগ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন আয়ুষ। ‘জিরো থেকে চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার এই অসামান্য জার্নিতে তিনি কীভাবে পাশে পেয়েছেন দর্শক এবং তাঁর মেন্টরদের, সেই গল্পই ভাগ করে নিলেন চোখের জলে।
'জিরো থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সফর... ঘুমহীন রাতগুলো সার্থক’
সারেগামাপা-র সোনালী ট্রফি হাতে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে আয়ুষ তাঁর মনের অনুভূতি উগরে দিয়ে লিখেছেন, ‘জিরো থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সফর... এই সফরে অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। কখনও কখনও মনে হয়েছে বড্ড কঠিন, কিন্তু একটা জিনিসের ওপর সবসময় বিশ্বাস ছিল— আমার দর্শকেরা আমার পাশে আছেন। আপনাদের সবার ভালোবাসা আর দোয়াই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ সমস্ত কঠোর পরিশ্রম, বিনিদ্র রজনী, ঈশ্বরের আর্শীবাদ এবং আপনাদের অফুরন্ত ভালোবাসার জোরেই আমি জি বাংলা সারেগামাপা ২০২৫–২৬-এর চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। আপনাদের নিজেদের আয়ুষ আজ উইনার ট্রফি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে... আর মনটা শুধু কৃতজ্ঞতায় ভরে রয়েছে।’
আবির থেকে শান্তনু-রূপম, বিচারক ও গ্রুমারদের গুরুপ্রণাম আয়ুষের
{{/usCountry}}আবির থেকে শান্তনু-রূপম, বিচারক ও গ্রুমারদের গুরুপ্রণাম আয়ুষের
{{/usCountry}}নিজের এই সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব গ্রুমার, মেন্টর এবং বিচারক মণ্ডলীকে সঁপে দিয়েছেন আয়ুষ। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাঁকে গাইড করার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রূপম ইসলাম, শান্তনু মৈত্র, জিৎ গাঙ্গুলী ও কৌশিকী চক্রবর্তীদের মতো সঙ্গীত জগতের নক্ষত্রদের।
নিজের পোস্টে বিচারক ও সঞ্চালকের নাম উল্লেখ করে আয়ুষ লেখেন: ‘সৌমেন নন্দী স্যার, কল্যাণ ভট্টাচার্য স্যার, ঝুমুর চ্যাটার্জি ম্যাম, রথীজিৎ ভট্টাচার্য স্যার, শান্তনু মৈত্র স্যার, জিৎ গাঙ্গুলী স্যার, রূপম ইসলাম স্যার, কৌশিকী চক্রবর্তী মা, অন্তরা মিত্র ম্যাম, শুভমিতা ব্যানার্জি অফিশিয়াল ম্যাম, জোজো মুখার্জি ম্যাম, ইমন চক্রবর্তী দি, রূপঙ্কর বাগчи স্যার, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাম এবং আবির চ্যাটার্জি দাদা— আপনাদের সবার আশীর্বাদ আর সঠিক দিক নির্দেশনা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।’
‘এই ট্রফি আমার যতটা, আপনাদেরও ততটা’— দর্শকদের বার্তা
আয়ুষ তাঁর অনুরাগীদের মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি যে, এই জয় আসলে সাধারণ মানুষের জয়। দর্শকদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন হয়ে তিনি লেখেন, ‘এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো শব্দ হয়তো এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, তবে একটা প্রতিশ্রুতি নিশ্চয়ই দেব— আমি আজীবন শিখতে থাকব এবং আপনাদের আরও অনেক বেশি গর্বিত করব। আর আমার প্রিয় দর্শক... এই ট্রফিটা আমার যতটা, ঠিক ততটাই আপনাদেরও। প্রতিটি ভোট, প্রতিটি প্রার্থনা এবং মেসেজের জন্য দিল সে শুকরিয়া।’
পোস্টের শেষে বাংলায় নিজের মনের টান প্রকাশ করে নতুন চ্যাম্পিয়ন লিখেছেন, ‘আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ভালোবাসি। গানে গানে পাশে থেকো। এটা কোনও শেষ নয়... এটা আমার মিউজিক্যাল জার্নির একটা নতুন শুরু মাত্র।’ সুরের মঞ্চে আয়ুষের এই রাজকীয় জয়ে স্বভাবতই দারুণ খুশি গোটা বাংলার সঙ্গীতপ্রেমীরা।
সারেগামাপা-র মঞ্চে দ্বিতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হল সায়ন্তনীকে, তৃতীয় সৃজন পোড়েল। ট্রফি ছাড়াও ঢালাও উপহার আর প্রাইজ মানি পেয়েছেন তিনজনেই। আয়ুষের হাতে ট্রফি ছাড়াও উঠেছে এসইউভি-র চাবি, সোনার গয়নার সেট এবং মোট ছয় লক্ষ টাকা প্রাইজ মানি।