...
...
Next Story

ধর্মেন্দ্রকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে ১ম মুখ খুললেন ববি, ‘বাবার সেই হাসিটা আজও…’

পিতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় শূন্যতা, দুর্বলতা ও অস্থিরতার মধ্যে কাটিয়েছেন ববি দেওল। তবে সময়ের সঙ্গে বাবার স্মৃতিই হয়ে উঠেছে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

Updated on: Jun 10, 2026 11:11 AM IST
Advertisement

বাবা-মায়ের মৃত্যু সন্তানের জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করে, যা কখনও পুরোপুরি পূরণ হয় না। কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন তাঁর ছোট ছেলে ববি দেওলও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবার নিজের মনের কথা খুলে বলেছেন অভিনেতা। তিনি জানিয়েছেন, বাবাকে হারানোর পর কয়েক মাস ধরে গভীর শোক, শূন্যতা এবং মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবে ধীরে ধীরে বাবার স্মৃতিই তাঁকে নতুন করে বাঁচার শক্তি দিয়েছে।

ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর কঠিন সময়ের মুখোমুখি ববি

ববি দেওল ও ধর্মেন্দ্র।
ববি দেওল ও ধর্মেন্দ্র।

সম্প্রতি রণবীর আলাহাবাদিয়ার সঙ্গে এক আলোচনায় ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন ববি দেওল। তিনি জানান, বাবাকে হারানোর ধাক্কা তাঁকে ভিতর থেকে বদলে দিয়েছে।

ববির কথায়, ‘আপনার খুব কাছের কাউকে হারানো আপনাকে চিরকালের জন্য বদলে দেয়। প্রথমদিকে আমি ভীষণ দুর্বল, শূন্য এবং অস্থির অনুভব করতাম। কয়েক মাস ধরে এই অনুভূতিগুলো আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন বাবার কথা বেশি করে ভাবতে শুরু করি, তখন তাঁর স্মৃতিগুলোই আমাকে সাহস দিতে থাকে। তাঁর সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোই আমার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।’

যে স্মৃতি একসময় কষ্ট দিত, এখন সেটাই শক্তি

ববি আরও জানান, প্রথমদিকে বাবার স্মৃতিগুলো তাঁকে কাঁদাত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই একই স্মৃতি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

অভিনেতার দাবি, বাবার মৃত্যুর পরও তিনি যেন তাঁর উপস্থিতি অনুভব করেন। ববির ভাষায়, 'আজও মনে হয় বাবা আমার সঙ্গে আছেন। তাঁর কথাগুলো বারবার কানে ভেসে আসে। যেন তিনি এখনও জিজ্ঞেস করছেন, ‘তুমি কি কাজে যাচ্ছ?’

সাক্ষাৎকারে বাবার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগের একটি স্মৃতিও ভাগ করে নেন ববি দেওল। সেই মুহূর্তটি এখনও তাঁর মনে বারবার ফিরে আসে।

ববি বলেন, ‘মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে বাবা সোফায় বসেছিলেন। হঠাৎ আমাকে ডেকে বললেন, ‘বব’। আমি উত্তর দিয়েছিলাম। তারপর তিনি শুধু হেসেছিলেন। তাঁর বয়স তখন ৮৯ বছর। সেই দৃশ্যটা আজও আমার মাথার মধ্যে বারবার ফিরে আসে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আজও তাঁকে অনুভব করি। মনে হয় তিনি কোথাও না কোথাও আমার সঙ্গেই আছেন।’

ববি দেওল ও ধর্মেন্দ্র।

বাবার স্মৃতিকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন অভিনেতা

উল্লেখ্য, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সালে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তাঁর মৃত্যুর পর পুরো পরিবার একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে কঠিন সময় পার করেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ববি দেওল বাবার সবচেয়ে কাছের ছিলেন বলেই পরিচিত। তাই এই ক্ষতি মেনে নিতে তাঁর অনেকটা সময় লেগেছে।

তবে আজ তিনি বাবার স্মৃতিকে বুকে নিয়ে নতুন করে জীবন ও কাজের পথে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র আর শারীরিকভাবে পাশে না থাকলেও তাঁর শিক্ষা, অনুপ্রেরণা এবং স্মৃতিগুলো চিরকাল তাঁর পথচলার সঙ্গী হয়ে থাকবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe