ধর্মেন্দ্র আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে তাঁর অভিনীত অসংখ্য ছবির মাধ্যমে তিনি আজও দর্শকের হৃদয়ে অমর। কর্মজীবনে তিনি একের পর এক আইকনিক ও সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। কমেডি, অ্যাকশন থেকে রোম্যান্স—সব ধরনের চরিত্রেই তিনি নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। তাঁর অভিনয়জীবন ঘিরে যেমন অসংখ্য গল্প প্রচলিত, তেমনই বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। এমনকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির সামনেও মাথা নত না করে তাঁদেরই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র।
বাস্তব জীবনেও ছিলেন প্রকৃত নায়ক

অভিনেতা ও পরিচালক সত্যজিৎ পুরি 'ফ্রাইডে টকিজ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ঘটনা শোনান। তিনি জানান, আন্ডারওয়ার্ল্ডের মতো শক্তিশালী চক্রও কখনও ধর্মেন্দ্রকে ভয় দেখাতে পারেনি। তাঁর কথায়, শুধু সিনেমার পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও ধর্মেন্দ্র ছিলেন প্রকৃত নায়ক। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কোনও ব্যক্তি বা শক্তির সামনে ভয় পেতেন না এবং নিজের অবস্থান থেকে কখনও সরে আসতেন না।
যখন আন্ডারওয়ার্ল্ডকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র
আসলে ১৯৯০-এর দশকে বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব ছিল অত্যন্ত প্রবল। সেই সময় চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগাযোগ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ্যে আসত। পাশাপাশি বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে হুমকির ফোন আসার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত শিরোনাম হতো। ধর্মেন্দ্রও সেই সময় এমনই হুমকির মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু যেখানে অনেক তারকাই বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকাই শ্রেয় মনে করেছিলেন, সেখানে ধর্মেন্দ্র একেবারেই নির্ভীকভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন।
‘আমার সঙ্গে লাগতে এসো না’
সত্যজিৎ পুরি সেই সাক্ষাৎকারে জানান, আন্ডারওয়ার্ল্ড ধর্মেন্দ্রর উপরও নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল। একবার কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে ভয় দেখাতে এলে ধর্মেন্দ্র বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে তাঁদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি এখানে আসো, তাহলে পুরো সানেহওয়াল (পঞ্জাব) চলে আসবে। তোমাদের কাছে ১০ জন লোক আছে, কিন্তু আমার কাছে একটা পুরো বাহিনী আছে। আমি একবার ডাক দিলেই ট্রাকভর্তি মানুষ লড়াই করতে চলে আসবে। তাই আমার সঙ্গে লাগতে এসো না।’
{{/usCountry}}সত্যজিৎ পুরি সেই সাক্ষাৎকারে জানান, আন্ডারওয়ার্ল্ড ধর্মেন্দ্রর উপরও নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল। একবার কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে ভয় দেখাতে এলে ধর্মেন্দ্র বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে তাঁদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা যদি এখানে আসো, তাহলে পুরো সানেহওয়াল (পঞ্জাব) চলে আসবে। তোমাদের কাছে ১০ জন লোক আছে, কিন্তু আমার কাছে একটা পুরো বাহিনী আছে। আমি একবার ডাক দিলেই ট্রাকভর্তি মানুষ লড়াই করতে চলে আসবে। তাই আমার সঙ্গে লাগতে এসো না।’
{{/usCountry}}সত্যজিৎ পুরির দাবি, ধর্মেন্দ্রর এই জবাবের পর আন্ডারওয়ার্ল্ড আর কখনও তাঁর সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর সাহস দেখায়নি।
২০২৫ সালে প্রয়াত হন ধর্মেন্দ্র
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হন ধর্মেন্দ্র। তাঁর মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, কোটি কোটি অনুরাগীর কাছেও ছিল এক বিরাট ধাক্কা। অভিনেতার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা একে অপরের শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হয়। সেই সম্মান গ্রহণ করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী হেমা মালিনী। এই বিশেষ মুহূর্তে শুধু হেমা মালিনীই নন, তাঁদের মেয়ে ঈশা দেওলও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।