...
...
Next Story

Asha-Lata: ‘অ্যায় মেরে ওয়াতন...’ তৈরি হয় আশার জন্য! কেন বোনকে হটিয়ে লতা গেয়েছিলেন এই আইকনিক গান?

‘অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগোঁ’— লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে এই গানটি আজও প্রত্যেক ভারতীয়র চোখে জল এনে দেয়। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এক অবাক করা তথ্য লুকিয়ে আছে। এই আইকনিক গানটি লতা নয়, বরং গাওয়ার কথা ছিল তাঁর বোন আশা ভোঁসলের!

Published on: Apr 12, 2026, 08:30:34 IST
Advertisement

১৯৬৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। দিল্লির ন্যাশনাল স্টেডিয়াম সাক্ষী ছিল এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের। ভারত-চীন যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগোঁ’ শুনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর চোখের জল বাঁধ মানেনি। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক দশক পর এই গানের নেপথ্য কাহিনী ফাঁস করেছিলেন খোদ সুরকার সি. রামচন্দ্র এবং গীতিকার প্রদীপ। তাঁরা জানান, এই গানটি লতা মঙ্গেশকরের জন্য নয়, বরং আশা ভোঁসলের জন্যই তৈরি হয়েছিল।

অ্যায় মেরে ওয়াতন...’ তৈরি হয় আশার জন্য! কেন বোনকে হটিয়ে লতা গেয়েছিলেন এই আইকনিক গান?
অ্যায় মেরে ওয়াতন...’ তৈরি হয় আশার জন্য! কেন বোনকে হটিয়ে লতা গেয়েছিলেন এই আইকনিক গান?

কেন আশাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল?

শুরুতে সুরকার সি. রামচন্দ্র গানটির মহড়া বা রিহার্সাল আশা ভোঁসলের সাথেই শুরু করেছিলেন। এমনকি গানের মিউজিক ট্র্যাকও আশার স্কেল অনুযায়ী তৈরি করা হয়। কিন্তু সেই সময়ে লতা মঙ্গেশকর এবং সি. রামচন্দ্রের মধ্যে এক মনমালিন্য চলছিল, যার কারণে লতা এই প্রজেক্টে ছিলেন না।

গল্পে মোড় আসে তখন, যখন গীতিকার প্রদীপ জেদ ধরেন যে এই গানটি লতার কণ্ঠ ছাড়া পূর্ণতা পাবে না। তিনি বিশ্বাস করতেন, বীর রসের এই গম্ভীর আবেগ লতা মঙ্গেশকরের গায়কিতেই সবচেয়ে ভালো ফুটে উঠবে।

লতার প্রবেশ এবং ‘রিফিউজাল’

প্রদীপ যখন লতার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যান, লতা প্রথমে রাজি হননি। তাঁর এবং সি. রামচন্দ্রের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত তিক্ততা তখন তুঙ্গে। প্রদীপ হাল না ছেড়ে লতাকে রাজি করান। এদিকে আশা ভোঁসলে যখন জানতে পারেন যে দিদি এই গানটি গাইতে চলেছেন, তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। যদিও শোনা যায়, প্রথমে দুই বোনের ডুয়েট গাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু লতা একা গাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করায় আশা নিজেকে সরিয়ে নেন।

গানটি তৈরি হওয়ার পর যখন লতা এটি দিল্লিতে পারফর্ম করেন, তখন গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। নেহরুজি লতার কাছে গিয়ে বলেছিলেন, ‘বেটি, আজ তুমনে মুঝে রুলা দিয়া।’ কিন্তু মজার বিষয় হলো, সেই অনুষ্ঠানে লতা এবং সি. রামচন্দ্র একে অপরের সাথে কথাই বলেননি! এমনকি মহড়াও আলাদা আলাদা ভাবে হয়েছিল।

বিতর্ক ও আক্ষেপ

পরবর্তীকালে আশা ভোঁসলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এই গানটি হাতছাড়া হওয়া তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম আক্ষেপের বিষয় ছিল। তবে লতার সেই গায়কী গানটিকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, তা হয়তো আর কারোর পক্ষেই সম্ভব হতো না।

আশা ভোঁসলে ভারতীয় জাতীয় সম্পদ। ৯৩ বছর বয়সী গায়িকা অসুস্থ। বুকে সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি মুম্বইয়ের বেসরকারি হাসপাতালে। চলছে চিকিৎসা। তাঁর আরোগ্য কামনা করছে গোটা দেশ। ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা ভোঁসলে। দিদির পদাঙ্ক অনুসরণ করে হিন্দি ছবির দুনিয়ায় আগমন। ১৯৪৮ 'চুনারিয়া' দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি গত 7 দশক ধরে এই শিল্পে সক্রিয় রয়েছেন। আশা তার কর্মজীবনে হিন্দি, মারাঠি, ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (২০০০) এবং পদ্মবিভূষণ (২০০৮) এ ভূষিত হয়েছেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe