বাইরে থেকে গ্ল্যামার দুনিয়াকে যতটা ঝলমলে দেখায়, ভিতরটা ততটাই অন্ধকার হতে পারে। পাকিস্তানের প্রথম সারির অভিনেত্রী মাহিরা খান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা জানালেন। রণবীর কাপুরের সঙ্গে সেই ভাইরাল ছবি এবং বলিউড ছবি ‘রইস’-এর সময় তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের শিকার হয়েছিলেন পাক সুন্দরী।

রণবীর-কাণ্ড ও সামাজিক লাঞ্ছনা
২০১৭ সালে রণবীর কাপুরের সঙ্গে মাহিরাকে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ধূমপান করতে দেখা যায়। মাহিরার পরনে ছিল একটি ব্যাকলেস ড্রেস। সেই ছবি সামনে আসতেই নেটপাড়ার একাংশ মাহিরার ‘চরিত্র’ নিয়ে কদর্য আক্রমণ শুরু করে। রণবীর কাপুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও কম কাটাছেঁড়া হয়নি। প্রসঙ্গত, ক্যাটরিনার সঙ্গে ব্রেকআপ এবং আলিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মাঝামাঝি সময়ে মাহিরা-রণবীরের বন্ধুত্ব চর্চায় এসেছিল।
মাহিরা জানান, ‘আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। যে পরিমাণ ঘৃণা আমার দিকে ধেয়ে আসছিল, তা সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না। আমি নিজেকে ঘরে বন্দি করে ফেলেছিলাম।’
‘রইস’ ও ভারত-পাক উত্তেজনা
ঠিক সেই সময়েই উরি হামলার জেরে ভারতে পাকিস্তানি শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। শাহরুখ খানের বিপরীতে ডেবিউ ছবি ‘রইস’-এর কোনও প্রচারে অংশ নিতে পারেননি মাহিরা। তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সুযোগটি চোখের সামনে হাতছাড়া হওয়া তাঁকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। মাহিরা বলেন, ‘আমি সব হারিয়ে ফেলছিলাম। মনে হচ্ছিল আমি উন্মাদ হয়ে যাব। আমি রাতে ঘুমাতে পারতাম না, আমার হাত কাঁপত।’
অবসাদের সঙ্গে ৬ বছরের লড়াই
{{/usCountry}}অবসাদের সঙ্গে ৬ বছরের লড়াই
{{/usCountry}}মাহিরা স্বীকার করেছেন যে, এই ঘটনার পর দীর্ঘ ৬ বছর তিনি অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধ খেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সাহায্য চেয়েছি এবং চিকিৎসা করিয়েছি। সেই সময়টা আমার জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় ছিল। আমি জানতাম না এই ট্রমা থেকে বের হতে পারব কি না।’
নতুন জীবন
অবসাদ কাটিয়ে আজ মাহিরা অনেক বেশি শক্তিশালী। গত বছরই তিনি সেলিম করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এটা ছিল মাহিরার দ্বিতীয় বিয়ে। ছেলের হাত ধরে বিয়ের আসরে হাজির হন রইস নায়িকা। নিজের অতীত যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে এনে মাহিরা আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ট্রোলিং কেবল শব্দের লড়াই নয়, এটি একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকে তছনছ করে দিতে পারে।