সাধারণত যেখানে জিৎ থাকেন, সেখানে আলোর রোশনাই আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থাকাটাই দস্তুর। কিন্তু শুক্রবার রাতে সেই ক্যামেরাই কাল হল জিতের জন্য। এদিন মুম্বই থেকে কলকাতায় ফিরে সোজা প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়গড়ের ফ্ল্যাটে হাজির হয়েছিলেন জিৎ। একটা সময় আলো ঘিরে থাকতো যে ফ্ল্য়াটে এখন সেখানে আনন্দ নেই, আছে শুধু শূন্যতা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে তাঁর শোকাতুর মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন টলিউডের ‘বস’। কিন্তু সেই মানবিক সফরের মাঝেও দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। জিতের এই সফর এবং তা নিয়ে প্রচারের বহর দেখে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন বাচিক শিল্পী তথা অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।

সুজয়ের নিশানায় কি ‘ফটো সেশন’?
রাহুলের মায়ের হাত ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন জিৎ, পাশে বসে রয়েছেন ওদিকে ক্য়ামেরা চলছে— এই ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হতেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন সুজয় প্রসাদ। জিতের মার্জিত ব্যবহারের প্রশংসা করেও তাঁর প্রশ্ন, শোকের ঘরে ক্যামেরা আর রিলস (Reels) কেন? সুজয় লিখেছেন, ‘জিৎ, আপনি একজন সুপারস্টার এবং চলচ্চিত্র জগতের হাতেগোনা কয়েকজন ভদ্রলোকের মধ্যে আপনি একজন। কিন্তু একটি শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে ছবি শেয়ার করা এবং সংবাদমাধ্যমকে আপনার সফর নিয়ে রিলস বানাতে দেওয়া মোটেও ভালো কাজ নয়। আমি আশাবাদী ছিলাম যে আপনি আরও একটু সংবেদনশীল হবেন।’
বিষণ্ণতাকে হাতিয়ার করে পিআর স্টান্ট?
সুজয় প্রসাদের এই কটাক্ষ বুঝিয়ে দিল, টলিউডের এই ‘একতা’র আড়ালে কোথাও একটা প্রচারের নেশাও লুকিয়ে রয়েছে। যখন কেউ চলে যায়, তখন তাঁকে নিয়ে এই ধরণের ‘ভিজ্যুয়াল শো’ কি সত্যিই প্রয়োজন? না কি প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা নিভৃতেই কাটানো উচিত? সুজয়ের এই আক্রমণাত্মক পোস্ট যেন সেই অপ্রিয় সত্যিটাকেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।
মায়ের ঘরে শুধুই হাহাকার
{{/usCountry}}মায়ের ঘরে শুধুই হাহাকার
{{/usCountry}}গত ২৯শে মার্চ ভোলে বাবা পার করেগার শ্যুটিংয়ে গিয়ে তালসারিতে অকালে প্রয়াত হন রাহুল। তাঁর মৃত্যুর সেই ক্ষত এখনও দগদগে পরিবারের মনে। মাত্র ৪৩ বছরের ছেলেকে হারিয়ে কার্যত জ্ঞানশূন্য রাহুলের মা। জিত ভক্তরা অবশ্য সুজয়ের এই মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখছেন না। তাঁদের মতে, জিৎ তাঁর সহকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু সমালোচকদের একাংশ বলছেন, শোকের মুহূর্তে ক্যামেরা সরিয়ে রাখলে কি জিতের আভিজাত্য আরও বাড়ত না?
টলিউডের দ্বিমুখী লড়াই
একদিকে জিতের মানবিক স্পর্শের ছবি, অন্যদিকে সুজয় প্রসাদের ‘সেনসিটিভিটি’ নিয়ে প্রশ্ন— এই দুইয়ের মাঝখানে পরে রাহুলের অকাল প্রয়াণ যেন আরও বেশি ট্র্যাজিক হয়ে উঠল। গ্ল্যামার আর পিআর-এর যুগে শোকটাও কি এখন স্রেফ ‘কন্টেন্ট’? জিতের এই সফর নিয়ে সুজয়ের করা এই ‘ Gentlemen’ কটাক্ষ এখন স্টুডিও পাড়ার অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।