...
...
Next Story

Jeet-Rahul: 'একটু সংবেদনশীল হওয়া যেত না?' রাহুলের শোকাতুর মায়ের পাশে বসে ‘ফোটোসেশন’ জিতের, নেটপাড়ায় নিন্দের ঝড়

Jeet-Rahul: রাহুলের মৃত্য়ুর সময় কলকাতায় ছিলেন না জিৎ। হাজির থাকেননি আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকেও। তবে শুক্রবার কলকাতায় ফিরে সোজা প্রয়াত রাহুলের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছান অভিনেতা। সেই নিয়েই দ্বিধাবিভক্ত নেটপাড়া।

Published on: Apr 11, 2026, 09:18:46 IST
Advertisement

সাধারণত যেখানে জিৎ থাকেন, সেখানে আলোর রোশনাই আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ থাকাটাই দস্তুর। কিন্তু শুক্রবার রাতে সেই ক্যামেরাই কাল হল জিতের জন্য। এদিন মুম্বই থেকে কলকাতায় ফিরে সোজা প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়গড়ের ফ্ল্যাটে হাজির হয়েছিলেন জিৎ। একটা সময় আলো ঘিরে থাকতো যে ফ্ল্য়াটে এখন সেখানে আনন্দ নেই, আছে শুধু শূন্যতা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে তাঁর শোকাতুর মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন টলিউডের ‘বস’। কিন্তু সেই মানবিক সফরের মাঝেও দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। জিতের এই সফর এবং তা নিয়ে প্রচারের বহর দেখে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন বাচিক শিল্পী তথা অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।

'একটু সংবেদনশীল হওয়া যেত না?' রাহুলের শোকাতুর মায়ের পাশে বসে ‘ফোটোসেশন’ জিতের, নেটপাড়ায় নিন্দের ঝড়
'একটু সংবেদনশীল হওয়া যেত না?' রাহুলের শোকাতুর মায়ের পাশে বসে ‘ফোটোসেশন’ জিতের, নেটপাড়ায় নিন্দের ঝড়

সুজয়ের নিশানায় কি ‘ফটো সেশন’?

রাহুলের মায়ের হাত ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন জিৎ, পাশে বসে রয়েছেন ওদিকে ক্য়ামেরা চলছে— এই ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হতেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন সুজয় প্রসাদ। জিতের মার্জিত ব্যবহারের প্রশংসা করেও তাঁর প্রশ্ন, শোকের ঘরে ক্যামেরা আর রিলস (Reels) কেন? সুজয় লিখেছেন, ‘জিৎ, আপনি একজন সুপারস্টার এবং চলচ্চিত্র জগতের হাতেগোনা কয়েকজন ভদ্রলোকের মধ্যে আপনি একজন। কিন্তু একটি শোকাতুর পরিবারের সঙ্গে ছবি শেয়ার করা এবং সংবাদমাধ্যমকে আপনার সফর নিয়ে রিলস বানাতে দেওয়া মোটেও ভালো কাজ নয়। আমি আশাবাদী ছিলাম যে আপনি আরও একটু সংবেদনশীল হবেন।’

বিষণ্ণতাকে হাতিয়ার করে পিআর স্টান্ট?

সুজয় প্রসাদের এই কটাক্ষ বুঝিয়ে দিল, টলিউডের এই ‘একতা’র আড়ালে কোথাও একটা প্রচারের নেশাও লুকিয়ে রয়েছে। যখন কেউ চলে যায়, তখন তাঁকে নিয়ে এই ধরণের ‘ভিজ্যুয়াল শো’ কি সত্যিই প্রয়োজন? না কি প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা নিভৃতেই কাটানো উচিত? সুজয়ের এই আক্রমণাত্মক পোস্ট যেন সেই অপ্রিয় সত্যিটাকেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।

গত ২৯শে মার্চ ভোলে বাবা পার করেগার শ্যুটিংয়ে গিয়ে তালসারিতে অকালে প্রয়াত হন রাহুল। তাঁর মৃত্যুর সেই ক্ষত এখনও দগদগে পরিবারের মনে। মাত্র ৪৩ বছরের ছেলেকে হারিয়ে কার্যত জ্ঞানশূন্য রাহুলের মা। জিত ভক্তরা অবশ্য সুজয়ের এই মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখছেন না। তাঁদের মতে, জিৎ তাঁর সহকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু সমালোচকদের একাংশ বলছেন, শোকের মুহূর্তে ক্যামেরা সরিয়ে রাখলে কি জিতের আভিজাত্য আরও বাড়ত না?

টলিউডের দ্বিমুখী লড়াই

একদিকে জিতের মানবিক স্পর্শের ছবি, অন্যদিকে সুজয় প্রসাদের ‘সেনসিটিভিটি’ নিয়ে প্রশ্ন— এই দুইয়ের মাঝখানে পরে রাহুলের অকাল প্রয়াণ যেন আরও বেশি ট্র্যাজিক হয়ে উঠল। গ্ল্যামার আর পিআর-এর যুগে শোকটাও কি এখন স্রেফ ‘কন্টেন্ট’? জিতের এই সফর নিয়ে সুজয়ের করা এই ‘ Gentlemen’ কটাক্ষ এখন স্টুডিও পাড়ার অন্দরে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Priyanka Mukherjee

প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe