Jeetu-Biplab: শুক্রবার দুপুরে গল্ফ ক্লাব রোডের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলা সিনেমা ও থিয়েটারের বিশিষ্ট মুখ বিপ্লব দাশগুপ্ত। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে টলিউডের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তবে এই মৃত্যু সংবাদে বেজায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা জীতু কামাল। বিপ্লব দাশগুপ্ত কেবল তাঁর সহকর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক পরম বন্ধু ও পরামর্শদাতা। তাঁকে হারিয়ে শোকে কাতর পর্দার আর্য সিংহ রায়।

সেই প্রথম আলাপ ও সম্পর্কের রসায়ন:
জীতু ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে বিপ্লব দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর প্রথম আলাপ। ২০১৯ সালে একটি প্রজেক্টে তাঁরা বাবা-ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই থেকেই পর্দার সম্পর্ক গড়িয়েছিল বাস্তবেও। জীতুর কাছে তিনি ছিলেন ‘বিপ্লবদা’। ২০২২ সালে যখন জিতু ‘অপরাজিত’ ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বিপ্লব দাশগুপ্তই তাঁকে সত্যজিৎ রায়ের ইন্টারভিউ এবং উত্তম কুমারের ভিডিও দেখিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে প্রভূত সাহায্য করেছিলেন।
অদ্ভুত এক নেশার স্মৃতি:
বিপ্লব দাশগুপ্তের বাচিক শৈলী আর শিল্পবোধে মুগ্ধ ছিলেন জীতু। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অভিনেতা জানান, বিপ্লবদা তাঁকে এক অদ্ভুত নেশায় আসক্ত করেছিলেন। সেটা কোনও মাদক নয়, বরং ছিল সিনেমা আর সাহিত্যের আড্ডা। জীতুর কথায়, 'উনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হোটেলে থাকা এবং সেখানকার খাবারের স্বাদ নেওয়ার এক অন্য অভিজ্ঞতায় আমাকে জড়িয়েছিলেন। এও যে ঘুরতে যাওয়ার এক ধরনের ধরন আমি আগে তা জানতাম না।
খুব স্পষ্ট মনে আছে,দু-তিন বছর আগের ঘটনা। দার্জিলিঙে ২-৩ দিনের জন্যে ঘুরতে গেছি। উনি আলাদা হোটেলে বৌদিকে নিয়ে আর আমি আলাদা হোটেলে।কেভেন্টার্সের সামনে আমাদের সকালে এবং সন্ধ্যেবেলা দেখা হতোই।কিন্তু আমাদের হোটেলের অ্যাড্রেস প্রত্যেকদিন পাল্টে যেত।'
{{/usCountry}}খুব স্পষ্ট মনে আছে,দু-তিন বছর আগের ঘটনা। দার্জিলিঙে ২-৩ দিনের জন্যে ঘুরতে গেছি। উনি আলাদা হোটেলে বৌদিকে নিয়ে আর আমি আলাদা হোটেলে।কেভেন্টার্সের সামনে আমাদের সকালে এবং সন্ধ্যেবেলা দেখা হতোই।কিন্তু আমাদের হোটেলের অ্যাড্রেস প্রত্যেকদিন পাল্টে যেত।'
{{/usCountry}}উত্তম কুমারের কণ্ঠ অনুকরণ বা সত্যজিৎ রায়ের ছবি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা— সবই চলত সমানতালে। জীতু কাছের মানুষকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা। তিনি লেখেন, ‘বিপ্লবদা তুমিও একা করে দিলে! হাতে গোনা কিছু মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রি নামক ফাটকা বাজারে আমার শক্তি। অশুভ শক্তি দমনে তুমিও তো ছিলে আমার এক শিক্ষক। কোন দিকে যাচ্ছি আমরা, কে জানে! আর্টিস্টের মাথারা জানে তো?? আজকে এক নক্ষত্র-পতন হলো?? যাই হোক। ভালো থেকো বিপ্লব দা। দেখা হবে তোমার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি।’
শেষ বিদায়:
দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুর রোগে ভুগছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। মাঝে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও শেষ কয়েক মাস বাড়িতেই ছিলেন। শুক্রবার সকালে আচমকাই অসুস্থবোধ করেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় অভিনেতার।