...
...
Next Story

শত্রু যখন বন্ধু! আচমকা দীপিকার প্রশংসা মুখে, দুয়ার মায়ের থেকে কী শিখেছেন কঙ্গনা?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র জগতে নিরাপত্তাহীনতা, হিংসা এবং সহকর্মীদের মধ্যে কমে যাওয়া সৌহার্দ্য নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি দীপিকা পাড়ুকোনের কাছ থেকে কী শিখেছেন, সে কথাও খোলাখুলিভাবে জানালেন কঙ্গনা রানাওয়াত।

Updated on: Jun 12, 2026 01:48 PM IST
Advertisement

বলিউডে নিজের স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্য পরিচিত কঙ্গনা রানাওয়াত। যে কোনও বিষয়েই নির্দ্বিধায় মতামত প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চলচ্চিত্র জগতে নিরাপত্তাহীনতা, হিংসা এবং সহকর্মীদের মধ্যে কমে যাওয়া সৌহার্দ্য নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি দীপিকা পাড়ুকোনের কাছ থেকে কী শিখেছেন, সে কথাও খোলাখুলিভাবে জানালেন অভিনেত্রী।

কঙ্গনা রানাওয়াত ও দীপিকা পাড়ুকোন।
কঙ্গনা রানাওয়াত ও দীপিকা পাড়ুকোন।

এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা রানাওয়াত বলেন, অনেক মানুষকে দেখে তিনি অবাক হয়ে যান, কারণ তাঁদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। তাঁর মতে, কারও কাছে কী আছে বা কী নেই, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের মানসিকতা।

কঙ্গনার কথায়, ‘নিরাপত্তাহীনতা, হিংসা কিংবা অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা—এই অনুভূতিগুলো কমবেশি সবার মধ্যেই থাকে। কিন্তু সেগুলোকে নিজের ওপর কতটা প্রভাব ফেলতে দেওয়া হবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি কখনও এই নেতিবাচক অনুভূতিগুলোকে নিজের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে দিইনি।’

অভিনেত্রীর মতে, তিনি এমন বহু আকর্ষণীয় ও আত্মবিশ্বাসী মানুষকে দেখেছেন, যাঁদের কাছে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা নিজেদের ছোট মনে করতে শুরু করেন। এর ফলে তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কঙ্গনা জানান, অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কোনও ধরনের হিংসা বা নিরাপত্তাহীনতাকে নিজের ব্যক্তিত্বের অংশ হতে দেবেন না। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কিছু থাকুক বা না থাকুক, আমি কখনও সেই ধরনের মানুষ হতে চাইনি, যে অন্যের সাফল্যে অস্বস্তি বোধ করে।’

সাক্ষাৎকারে নিজের শুরুর দিনের কথাও স্মরণ করেন কঙ্গনা। তিনি জানান, মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে গ্রামের বাড়ি থেকে মুম্বইয়ে এসেছিলেন এবং তখন অনেক কিছুই জানতেন না। এমনকি অর্থপূর্ণভাবে কথা বলাটাও তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তাই তিনি চারপাশের মানুষদের পর্যবেক্ষণ করেই শিখেছেন।

সহ-অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, ‘দীপিকা এবং আমার সমসাময়িক অনেক অভিনেত্রীর স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। আমার ছিল সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড। আমি দেখেছি, ফিটনেস ও শরীরচর্চা নিয়ে ওরা কতটা নিয়মানুবর্তী। সেই শৃঙ্খলা থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’

কঙ্গনার মতে, অন্যের সৌন্দর্য, প্রতিভা বা গুণাবলিকে স্বীকার না করলে সেই গুণগুলো থেকে শেখাও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘কাউকে সুন্দর, প্রতিভাবান বা দক্ষ বলতে পারলেই তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হয়। প্রশংসা করতে জানতে হবে, তবেই উন্নতি সম্ভব।’

বর্তমান সময়ের সামাজিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা। তাঁর মতে, ৭০, ৮০ এবং এমনকী ৯০-এর দশকেও মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আন্তরিকতা বেশি ছিল। কিন্তু এখন মানুষ একে অপরের সঙ্গে কম মেলামেশা করেন। বিশেষ করে মেয়েরা পরস্পরের প্রশংসা করতে কুণ্ঠাবোধ করেন বলেও মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। কঙ্গনার মতে, পারস্পরিক সম্মান, প্রশংসা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার মানসিকতাই সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe