Kaushiki Chakraborty on Asha Bhosle: সুরের আকাশ আজ মেঘলা। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে সেই কণ্ঠ, যা সাত দশক ধরে আপামর বিশ্ববাসীকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে আর প্রেমে পড়তে শিখিয়েছে। কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সংগীত জগতের এক বিশাল অধ্যায়ের অবসান হলো। এই শোকের মুহূর্তে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না প্রখ্যাত শিল্পী কৌশিকী চক্রবর্তী। সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ এবং অশ্রুসিক্ত বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, আশাজি তাঁর কাছে ছিলেন দেবীজ্ঞানের সমান।

হৃদয়ের মন্দিরে আশার বাস
কৌশিকী তাঁর পোস্টে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় আমার মন্দিরে আপনার ছবি থাকত। আর আজও আমার হৃদয়ে আমি আপনাকে প্রতিদিন পুজো করি।’ কৌশিকীর এই কথাগুলোই বুঝিয়ে দিচ্ছে, শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুশাসনে বড় হয়েও আশাজির বহুমুখী গায়কী তাঁর ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনার এনার্জি, আপনার জীবন সংগ্রাম, জীবনের প্রতি আপনার টান, প্যাশন— সবটা আপনি আপনার গানে ঢেলে দিয়েছেন। আপনার কণ্ঠ ভালোবাসা আর জীবনের কথা বলত।’
‘সলোনা সা সজন’ গেয়েই শেষ বিদায়
আশাজির প্রতি চিরন্তন শ্রদ্ধা এবং ‘প্ৰণাম’ জানিয়ে কৌশিকী প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি আশাজির গাওয়া আইকনিক গান ‘সলোনা সা সজন’ আজীবন গেয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, ‘আমি এই গানটা আপনার জন্যই গেয়ে যাব... আপনার দেওয়া সেই স্নেহ আর ভালোবাসার স্মৃতি আঁকড়ে।’
বিষণ্ণ সুরের জগত
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রবিবার স্তব্ধ গোটা দেশ। লতা মঙ্গেশকরের পর সুরের রাজপ্রাসাদের শেষ প্রদীপটিও নিভে যাওয়ায় শোকাতুর সংগীতের প্রতিটি ঘরানা। কৌশিকীর মতো শিল্পীদের এই হাহাকার আসলে কোটি কোটি অনুরাগীরই মনের কথা।
শনিবার রাতেই অসুস্থ হয়ে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নবতিপর আশা ভোঁসলে। মাত্র কয়েকঘণ্টাতেই সব শেষ। চলে গেলে কিংবদন্তী গায়িকা।
আশা ভোঁসলের আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ার যেন সুরের এক জাদুকরী মহাকাব্য, যা শুরু হয়েছিল ১৯৪৩ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি ছবির হাত ধরে। শুরুর দিকে দিদি লতা মঙ্গেশকর ও শমশাদ বেগমের আধিপত্যের কারণে তাঁকে মূলত খলনায়িকা বা পার্শ্বচরিত্রের গান গাইতে দেওয়া হলেও, সেই প্রতিকূলতাকেই তিনি নিজের শক্তিতে পরিণত করেন এবং ১৯৫০-এর দশকে ওপি নায়ারের সুরে ‘নয়া দৌড়’ ছবির মাধ্যমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। ক্যাবারে, পপ এবং জ্যাজ ধারার গানকে ভারতীয় সিনেমায় জনপ্রিয় করার পাশাপাশি ‘উমরাও জান’-এর গজলে তাঁর শাস্ত্রীয় সংগীতের ব্যুৎপত্তি গোটা বিশ্বকে অবাক করেছিল, যা তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। ২০টি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া এই শিল্পী দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণের মতো শ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আশি বছর বয়সেও মঞ্চে তাঁর তারুণ্যভরা পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে যে তিনি সত্যিই অপ্রতিদ্বন্দ্বী; আর তাঁর সেই চিরযৌবনা কণ্ঠই আজ কৌশিকী চক্রবর্তীর মতো উত্তরসূরিদের কাছে এক অবিস্মরণীয় প্রেরণা হয়ে রয়ে গেল।