কুকিং কমেডি রিয়েলিটি শো ‘লাফটার শেফস’-এর তৃতীয় সিজনের সাম্প্রতিক পর্বে কাশ্মীরা শাহ এমন একটি মন্তব্য করে ফেলেছেন, যার জেরে তিনি এখন ট্রোলের নিশানায়। আসলে, এপিসোডের শুরুতেই সুদেশ লেহরি-র স্ত্রী, মেয়ে, পুত্রবধূ, ছেলে ও নাতি অতিথি হিসেবে আসেন। এই সময় সুদেশ মজা করে নিজের স্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘বিল্লো, দেখ তো, এই ক্রুষ্ণা আমাকে বারবার বুড়ো বুড়ো বলে।’

বিল্লো বরকে পালটা প্রশ্ন করেন, ‘ক্রুষ্ণা কেন তোমাকে বুড়ো বলে? ওরও তো দুটো বাচ্চা আছে, তোমারও দুটো বাচ্চা। ওর কাছে আর কী আছে?’ তখন ক্রুষ্ণা অভিষেক মজার ছলে বলেন, ‘আমার কাছে তো মামা আছে, মা----মা।’
এই সময় কাশ্মীরা মাঝখানে ঢুকে পড়ে আচমকা বলেন, ‘সব সময় মা-মা মা-মা করছ, তাহলে ওঁকেই শাড়ি পরিয়ে এখানে নিয়ে আসো।’ এই মন্তব্য শুনে কেউ চমকে যান, আবার কেউ হেসে ফেলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অঙ্কিতা লোখান্ডে মাঝখানে এসে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেন, ফলে ক্রুষ্ণা অভিষেককে আর জবাব দিতে হয়নি।
কী বলছেন নেটিজেনরা?
এই মন্তব্যের পর থেকেই কাশ্মীরা শাহকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, তাঁর এমন মন্তব্যই নাকি মামা-ভাগ্নের মধ্যে বিবাদ বাড়িয়ে দেয়। আবার কিছু দর্শক তাঁর পক্ষ নিয়ে বলছেন, এই ধরনের সংলাপ নাকি শোয়ের নির্মাতারাই তৈরি করে দেন এবং বলতে বলেন।
সাত বছরের দীর্ঘ বিবাদ
{{/usCountry}}সাত বছরের দীর্ঘ বিবাদ
{{/usCountry}}উল্লেখযোগ্য যে, গোবিন্দা এবং তাঁর ভাগ্নে ক্রুষ্ণা অভিষেকের সম্পর্ক একসময় বেশ তিক্ত হয়ে উঠেছিল। প্রায় সাত বছর ধরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বজায় ছিল, যার সূত্রপাত হয় ২০১৬ সালে। ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে কৃষ্ণার একটি মজাকে গোবিন্দা অপমানজনক বলে মনে করেছিলেন। এরপর দুই পরিবারের স্ত্রী— সুনীতা আহুজা এবং কাশ্মীরা শাহর বিভিন্ন মন্তব্যে সেই বিবাদ আরও বাড়ে এবং দীর্ঘদিন ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ চলতে থাকে।
পরবর্তীতে আরতি সিং-এর বিয়েতে গোবিন্দা সব ভুলে আশীর্বাদ জানাতে আসেন। এরপর ২০২৪ সালের শেষে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর মঞ্চে প্রকাশ্যে তাঁদের বিবাদের অবসান ঘটে।
গোবিন্দার দাবি
বিবাদ মিটে যাওয়ার পর ২০২৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা বলেন, ‘আপনি যদি ক্রুষ্ণার টিভি শো-এর ভক্ত হন, তাহলে দেখবেন স্ক্রিপ্ট রাইটাররা প্রায়ই তাঁকে এমন কিছু কথা বলতে বলেন, যাতে আমার অপমান মনে হয়। আমি ক্রুষ্ণাকে এই নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছি।’
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্রুষ্ণা অভিষেক মজার সুরে বলেন, ‘আমি আমার গোবিন্দা মামাকে খুব ভালোবাসি এবং সম্মান করি। তিনি একজন লেজেন্ড, এবং তাঁর ভাবনা অনেক উচ্চস্তরের। তাই হয়তো তিনি বিষয়গুলো অন্যভাবে দেখেন। একই কথা কারও কাছে ইতিবাচক মনে হতে পারে, আবার কারও কাছে তির্যক— আমি এটাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি।’