...
...
Next Story

Meena Kumari: ফ্যান যদি হয় ডাকাত! মীনা কুমারীকে ছুরি দেখিয়ে অটোগ্রাফ আদায় করে চম্বলের ডাকাত

Meena Kumari: মীনা কুমারীর সৌন্দর্যের সকলেই ছিলেন মুগ্ধ। কিন্তু আপনি কি জানেন, একবার তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন এক দুর্ধর্ষ ডাকাত? সেই সময় ডাকাতটি তাঁর কাছে এক অদ্ভুত আবদার রেখেছিল।

Published on: Apr 25, 2026, 22:25:34 IST
Advertisement

Meena Kumari: মীনা কুমারীকে 'ট্র্যাজেডি কুইন' বলা হত। তিনি আজ নেই, কিন্তু তাঁকে নিয়ে অনেক স্মৃতি আজও আলোচিত হয়। মীনার সৌন্দর্যের সকলেই ছিলেন মুগ্ধ, তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে একবার এক ডাকাত তাঁর কাছে ছুরি দেখিয়ে অটোগ্রাফ চেয়ে বসেছিল।

মীনা কুমারীকে ছুরি দেখিয়ে অটোগ্রাফ আদায় করে চম্বলের ডাকাত
মীনা কুমারীকে ছুরি দেখিয়ে অটোগ্রাফ আদায় করে চম্বলের ডাকাত

মীনার জনপ্রিয় ছবিগুলির মধ্যে একটি ছিল 'পাকিজা'। একবার মীনা কুমারী তাঁর স্বামী কামাল আমরোহীর সাথে 'পাকিজা'র শুটিংয়ের জন্য শিবপুরী, মধ্যপ্রদেশ গিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে চম্বলের জঙ্গলে তাঁদের গাড়ির গ্যাস ফুরিয়ে যায়। তখনই চম্বলের রাস্তায় তাঁদের গাড়ির কাছে বেশ কয়েকটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়।

চম্বলের ডাকাত দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন মীনা ও কামাল। তাঁরা দেখেন, বেশ কয়েকজন ডাকাত বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে। কামাল তখন একজনকে বলেন, 'আপনি আপনার সর্দারকে বলুন, তিনি যেন গাড়িতে এসে আমাদের সাথে দেখা করেন।' কামাল একথা বলার পর একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করে, 'তুমি কে?' তখন কামাল বলেন, 'আমার নাম কামাল আমরোহী, আমি এখানে শুটিংয়ের জন্য এসেছি।' তাঁরা 'শুটিং' শব্দটি শুনে একটু রেগে যান, কারণ তাঁরা ভেবেছিলেন পুলিশ অফিসাররা এসেছেন গুলি চালানোর জন্য। এই ভুল বোঝাবুঝিতে সেখানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

এরপর অমৃত লাল কিছুটা শান্ত হন এবং জানতে পারেন যে অন্য গাড়িতে মীনা কুমারী আছেন। অমৃত লাল, মীনা কুমারীর একজন বড় ভক্ত ছিলেন। তিনি তখন কামালকে মীনা কুমারীর সাথে দেখা করার জন্য বলেন। তিনি বলেন যে তিনি মীনার সাথে দেখা করতে চান এবং তারপর তিনি সবাইকে চলে যেতে দেবেন। অমৃত এরপর সবাইকে গান গাইতে ও নাচতে বলেন। এরপর তিনি কামালের গাড়িতে পেট্রোল ভরে দেন।

ডাকাত অমৃত লাল মীনা কুমারীর অটোগ্রাফ চেয়েছিলেন বটে, কিন্তু কলম ও কাগজ না থাকায় তিনি ছুরি বের করেন এবং কামাল আমরোহী ও মীনা কুমারীর সামনে ধরেন। মীনা তখন খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। এরপর অমৃত বলেন, 'যখন মীনা ছুরি দিয়ে নিজের নাম আমার হাতে লিখবেন, তখনই আমি সবাইকে যেতে দেব।' মীনা তখন ছুরি দিয়ে তাঁর নাম তাঁর হাতে লেখেন এবং তারপর সেখান থেকে সবাই চলে যায়।

মীনা কুমারী শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। মীনা তাঁর ক্যারিয়ারে 'সাহিব বিবি অউর গোলাম', 'পাকিজা', 'বৈজু বাওরা', 'কাজল', 'দিল এক মন্দির', 'ফুল অউর পাত্থর এবং 'আজাদ'-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

কেন তাঁকে 'ট্র্যাজেডি কুইন' বলা হত?

সকলের মনে রাজত্ব করা মীনা কুমারী মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও কোনও সিনেমার চেয়ে কম ছিল না। মীনা কুমারী চলচ্চিত্র পরিচালক কামাল আমরোহীর প্রেমে পড়েন এবং তাঁরা বিয়ে করেন। কিন্তু এই সম্পর্ক বেশিদিন সুখের হয়নি। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং তাঁরা আলাদা হয়ে যান। এই ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক মীনা কুমারীকে ভেতর থেকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। মীনার শেষ সময়টা খুব যন্ত্রণার ছিল। মীনা ও কামাল আমরোহী একসাথে বসবাস করছিলেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। এই কারণে মীনা কিছুটা অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। এর মধ্যে মীনা মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। মীনার মৃত্যু হয় লিভার সিরোসিসের কারণে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe