গত মার্চে শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার বিচারক, উদ্যোক্তা এবং এমকিউর ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক নমিতা থাপার একটি ভিডিও শেয়ার করে নামাজের উপকারিতা ব্যাখ্যা করেছিলেন। এরপর থেকেই রক্ষণশীলদের কটাক্ষে জেরবার হন শার্ক টাঙ্ক ইন্ডিয়ার বিচারক।

বিতর্কের মুখে পড়েও নিজের অবস্থানে অনড় নমিতা থাপার। নমিতা ভিডিয়োয় ব্যাখ্যা করেন কীভাবে নমাজের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি বা ‘পোজ’ রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং মানসিক শান্তি জোগায়। কিন্তু এই বিজ্ঞানসম্মত আলোচনার মাঝেই ধর্মকে টেনে এনে নমিতাকে চূড়ান্ত গালিগালাজ এবং ট্রোল করতে শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ।
‘ঘৃণা ছড়িয়ে লাভ নেই’
ট্রোলের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় অবশেষে মুখ খুললেন নমিতা। সমালোচকদের সপাট জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, স্বাস্থ্যের আলোচনা করতে গিয়ে কোনো ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে তিনি প্রশ্রয় দেবেন না। নমিতার কথায়, ‘আমি সবসময় বিজ্ঞানের কথা বলি। নমাজের ভঙ্গিতে যে যোগব্যায়ামের মতো উপকারিতা আছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। শুধুমাত্র ধর্মের কারণে এই সত্যকে ট্রোল করা সস্তা মানসিকতার পরিচয়।’
গালিগালাজের বিরুদ্ধে সরব
নমিতা অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে জানান যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন যে, সুস্থ আলোচনা বা গঠনমূলক সমালোচনাকে তিনি স্বাগত জানান, কিন্তু অন্ধ বিদ্বেষকে নয়। নিজের পোস্টের স্বপক্ষে তিনি বিভিন্ন গবেষণার কথা তুলে ধরেন যেখানে নমাজের শারীরিক ইতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ আছে। নমিতা স্পষ্ট বলেন, ছোট থেকে তিনি শিখেছেন ধর্মের অর্থ হল সম্মান, সমালোচনা নয়। তিনি অন্য়ের ধর্মকে সম্মান দিতে জানেন।
'তিন সপ্তাহ ধরে আমাকে গণিকা বলা হচ্ছে!'
{{/usCountry}}'তিন সপ্তাহ ধরে আমাকে গণিকা বলা হচ্ছে!'
{{/usCountry}}ভিডিওতে নমিতা অত্যন্ত বিষণ্ণ কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে একদল নেটিজেন তাঁকে ক্রমাগত গণিকা বলে সম্বোধন করছে। শুধু তাই নয়, তাঁর বৃদ্ধা মা-কেও জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। কেন? অপরাধ— তিনি নামাজের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন।
দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সপাট যুক্তি
নমিতা এই আক্রমণের দ্বিচারিতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি একজন স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মী (Healthcare Professional)। আমি এর আগে হিন্দু ধর্মের বহু আচার-অনুষ্ঠান এবং যোগব্যায়ামের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে ভিডিও বানিয়েছি। প্রতি বছর যোগা দিবসে সূর্য নমস্কার নিয়ে পোস্ট করি, তখন তো কেউ আমাকে এইভাবে আক্রমণ করে না!’ তাঁর প্রশ্ন, বিজ্ঞানের ভিত্তিতে কথা বললে কেন ধর্মের রং লাগিয়ে একজন নারীকে এইভাবে হেনস্থা করা হবে?
‘চুপ করে থাকা কোনো গুণ নয়’
নমিতা স্পষ্ট জানান, তিনি বরাবরই চুপ করে থাকার মানুষ, কিন্তু এবার জল মাথার ওপর দিয়ে চলে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমি শিখেছি কেউ আপনার হয়ে লড়াই করবে না, লড়াইটা নিজেকেই করতে হবে। যারা আমাকে আক্রমণ করছেন, মনে রাখবেন হিন্দু ধর্মে ‘কর্মফল’ বলে একটা কথা আছে। ভগবান সব দেখছেন।’ নিজেকে ‘গর্বিত হিন্দু’ বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারীদের জন্য সংরক্ষণ বিল নিয়ে এত আলোচনা হয়, অথচ একজন নারীর সম্মান যখন ধুলোয় মেশানো হয়, তখন শিক্ষিত সমাজ চুপ কেন?
পাশে দাঁড়িয়েছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ
নমিতাকে ট্রোল করা হলেও, অনেকেই তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। নেটিজেনদের একাংশের মতে, নমিতা কোনো ধর্মীয় প্রচার করেননি বরং স্বাস্থ্যের কথা বলেছেন। একজন ‘শার্ক’ হিসেবে তাঁর এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন নমিতা।