টলিপাড়ার অন্যতম ‘টক অফ দ্য টাউন’ ছিলেন তাঁরা। গায়ক শোভন গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর প্রেম, মান-অভিমান আর তারপরেই সেই হাই-প্রোফাইল বিচ্ছেদ— সব মিলিয়ে স্বস্তিকা দত্তর প্রেম নিয়ে একটা সময় নেটপাড়ায় চর্চার অন্ত ছিল না। এরপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। শোভন এখন সোহিনীতে থিতু। হালে ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’-র কো-স্টার অর্ণবের সঙ্গে নায়িকার প্রেমের চর্চা ইতিউতি শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই সব গুঞ্জন, ভাঙা-গড়ার খেলা থেকে নিজেকে যেন এক ঝটকায় অনেকটা দূরে সরিয়ে নিলেন অভিনেত্রী। সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে এক দীর্ঘ, মননশীল পোস্টে উজাড় করে দিলেন নিজের ভেতরের ক্লান্তি আর নতুন করে বাঁচার জেদ।

‘জোর করে সম্পর্কে থাকার এনার্জি নেই!’
আজকাল সোশ্যালে স্বস্তিকার পোস্ট মানেই যেন এক অদ্ভুত নীরবতার লড়াই। সম্প্রতি ফেসবুকের দেওয়ালে স্টুডিও পাড়ার এক মিষ্টি সারমেয়কে আদরের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন স্বস্তিকা। অভিনেত্রী যে ক্যাপশন জুড়লেন, তা এক লহমায় বদলে দিল অনেক সমীকরণ। কোনও লুকোছাপা না রেখেই স্বস্তিকা লিখেছেন:
‘বাস্তব জীবনে যখন আপনি নিজেই নিজের মতো থাকেন... জোর করে কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, মিথ্যে বন্ধুত্ব কিংবা অপ্রয়োজনীয় আলাপচারিতার জন্য আমার আর কোনও এনার্জি অবশিষ্ট নেই। আমি এখন আমার পরিচিত সার্কেল আর এই চারপেয়ে (pawsitive) বন্ধুদের মাঝেই থাকি। এভাবেই কেটে যাচ্ছে দিনগুলো।’
কো-স্টার অর্ণবের সঙ্গে প্রেমচর্চার মাঝে স্বস্তিকার এই ‘pawsitive’ অর্থাৎ পোষ্যদের আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার কথা কি বিশেষ কোনও ইঙ্গিত দিল? উত্তর অবশ্য স্বস্তিকার চেনা দার্শনিক মেজাজেই লুকিয়ে।
ইমোশনাল এনার্জি শেষ, কিন্তু প্যাশন বাকি!
অনেকেই মনে করেছিলেন, একের পর এক বিতর্কে হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী। এর আগে কো-স্টার ক্রুশল আহুজার সঙ্গেও স্বস্তিকার সমীকরণ নিয়ে কম চর্চা হয়নি। এদিন স্বস্তিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। নিজের পোস্টে তিনি যোগ করেন, ‘আমার আবেগতাড়িত এনার্জি হয়তো শেষ হয়ে এসেছে, কিন্তু আমার ভেতরের প্যাশন (উন্মাদনা) কল্পনার চেয়েও বেশি। বেঁচে থাকার, কাজ করার, ভালোবাসার, কাঁদার, হাসার আর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার প্যাশন!’ জীবন তাঁকে খুব বেশি কিছু দেয়নি, আবার কেড়েও নেয়নি— এই আপ্তবাক্য মেনে নিয়েই স্বস্তিকার উপলব্ধি, ‘কখনও কষ্ট পাওয়া, কখনও থমকে যাওয়া (Buffer)... জীবনটা লোড হচ্ছে!’
এল-নিনোতেও গলবেন না স্বস্তিকা!
প্রেমের টানাপোড়েন বা কেরিয়ারের চড়াই-উতরাই— কোনো কিছুতেই যে তিনি সহজে দমে যাওয়ার পাত্রী নন, তা তাঁর পোস্টের শেষ লাইনেই স্পষ্ট। স্বস্তিকা লিখেছেন, ‘ততদিন পর্যন্ত কোনো ‘এল-নিনো’ (উষ্ণ জলবায়ু) বা অন্য কিছুর ধাক্কায় গলে যাবেন না…’। টলিপাড়ার ফিসফিসানি বলছে, শোভন এখন অতীত, আর অর্ণবের সঙ্গে সমীকরণটা নেহাতই সহ-অভিনেতার। আপাতত স্বস্তিকা নিজের শর্তে, নিজের চেনা খোলসে ‘বাফারিং’ পিরিয়ড কাটাচ্ছেন। নতুন স্বস্তিকার এই ‘লোডিং’ পর্ব পর্দার বাইরেও যে বেশ জমজমাট, তা বলাই বাহুল্য!