টলিপাড়ার অলিন্দে এখন একটাই নাম ঘুরপাক খাচ্ছে— জীতু কমল। প্রতিবাদ’ জানাতে জীতু বেছে নিয়েছিলেন এক চরম পথ। নিজের ছবির পাশাপাশি প্রয়াত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অভিনেতা। অনেকেই জীতুর সেই প্রতিবাদকে পাবলিসিটি গিমিক বা সস্তার প্রচার বলে কটাক্ষ করেছিলেন।

এবার এক ধাপ এগিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করেই জীতুকে একহাত নিলেন অভিনেত্রী পায়েল দে। গুরুতর অভিযোগ অভিনেত্রীর। তাঁর অভিযোগ কার্যসিদ্ধির পর জীতু নাকি রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটি ধুলোয় ফেলে চলে আসেন। এরপরই জীতুর এই কাজকে ‘অসভ্যতা’ আর ‘অযোগ্যতা’ বলে দাগিয়ে তাঁকে একহাত নেন সুদীপ্তা-বিদিপ্তা-রূপাঞ্জনা। প্রসঙ্গত, চিরদিনই তুমি যে আমার ধারাবাহিকে আর্যর প্রয়াত স্ত্রী রাজনন্দিনীর চরিত্রে অভিনয় করেন পায়েল।
পায়েলের ক্ষোভ ও জীতুর ‘ভুল’
অভিনেত্রী পায়েল দে সোশ্যাল মিডিয়ায় জীতুকে সরাসরি বিঁধে লেখেন, টেকনিশিয়ান স্টুডিওর গাছতলায় সেই মালা দেওয়া ছবি পড়ে ছিল। যীশু সেনগুপ্ত এবং ইন্দ্রাশিস রায় সেই ছবিগুলো পরম যত্নে তুলে এনে ফোরামের অফিসে রেখেছেন। পায়েলের প্রশ্ন, ‘জীতু কি নিজের ছবির সাথে রাহুলদার ছবিটা নিতে ভুলে গিয়েছিলেন?’ ফোরামের একনিষ্ঠ কর্মী এবং রাহুলের বোনের মতো হয়ে পায়েল এই ‘অমর্যাদা’ মেনে নিতে পারেননি।
ফুঁসে উঠলেন রূপাঞ্জনা-সুদীপ্তারা
{{/usCountry}}ফুঁসে উঠলেন রূপাঞ্জনা-সুদীপ্তারা
{{/usCountry}}পায়েলের সেই পোস্টে আগুনের ঘি ঢেলেছেন রূপাঞ্জনা মিত্র, সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং বিদিপ্তা চক্রবর্তীরা। অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য তো আরও এক কদম এগিয়ে লিখেছেন, ‘জীতু নামের ছেলেটিকে যেদিন দেখতে পাবো বুঝিয়ে দেবো আমাদের রাহুলদাকে মালা দেওয়ার যোগ্যতা ওর নেই। ভগবান করুক ওর মুখটা না দেখতে হয় কোনোদিন আমাকে। ছিঃ!’
জীতুর পাল্টা ‘সাফাই’ ও ক্ষমা প্রার্থনা
এত আক্রমণের মুখেও দমে যাননি জীতু। তিনি পালটা যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি ইচ্ছে করেই ছবিগুলো রেখে এসেছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের অফিসের নীচে, যাতে ফোরামের কর্মকর্তাদের তাঁর অভিযোগের কথা মনে থাকে। জীতুর কথায়, ‘আমি দুদিন পর গিয়েও ছবিগুলো ইলেকট্রিক বক্সের ওপর পড়ে থাকতে দেখেছি। আজ হঠাৎ করে কথা তুলছেন, নিশ্চয়ই ওপরতলার কোনো ইনস্ট্রাকশন আছে।’
পায়েলকে উদ্দেশ্য করে জীতু বিদ্রুপের সুরে আরও লেখেন, ‘আপনিই ঠিক, আমার কমপ্লেন দেওয়াটাই ভুল। কোনো প্রোডিউসার কমপ্লেন দিলে তাকে তো দিনের দিন ডেকে পাঠাবেন ভর্ৎসনা করার জন্য।’ তবে শেষে কিছুটা নমনীয় হয়ে জীতু যোগ করেন, ‘আপনার প্রতিবাদী সত্তাকে আমি সম্মান করি। আমার কাজে ব্যথা পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’