নিজের বিস্ফোরক সব উক্তির জন্য হামেশাই খবরের শিরোনামে আসেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রাম গোপাল বর্মা। এবার তিনি মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে একটি আবেগঘন নোট শেয়ার করেছেন। ভাগ করে নিয়েছেন কীভাবে ‘কিং অফ পপ’ তাঁর কল্পনা এবং সৃজনশীল যাত্রাকে প্রভাবিত করেছিলেন। বহুল আলোচিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ দেখেছেন সম্প্রতি এবং তা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

রাম গোপাল তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) একটি আবেগঘন নোটে নিজের মনের কথা উজাড় করেন। তার নোটে লেখা, ‘আমি মাইকেলকে ঘৃণা করি। ‘মাইকেল’ সিনেমাটি দেখার পর আমার স্মৃতি ফিরে গেল ২০০৯ সালের ২৫ জুনের সেই ভয়াবহ দিনটিতে, যেদিন আমি অনেক রাত পর্যন্ত ঘুমিয়েছিলাম, আর আমার ঘরের অন্ধকারে টেলিভিশনটা তখনও ভূতের মতো গুঞ্জন করছিল। সকালে ঘুম ঘুম চোখে যখন আমার চোখ পর্দার দিকে গেল, আমি কালো পটভূমিতে সেই ভয়ঙ্কর সাদা অক্ষরগুলো দেখতে পেলাম: ‘মাইকেল জ্যাকসন মারা গিয়েছেন।’ বেশ কয়েক সেকেন্ড ধরে আমি ভাবলাম, এটা নিশ্চয়ই একটা দুঃস্বপ্ন। আমি কেন এমন ভয়ঙ্কর কিছুর স্বপ্ন দেখব? কিন্তু টিভির ব্যানারটা রয়েই গেল এবং নিউজের টিকারটা হামাগুড়ি দিয়ে চলতে থাকল। আমি রিমোটের দিকে হাত বাড়িয়ে চ্যানেল পাল্টাতে লাগলাম এবং দেখলাম সব অ্যাঙ্কর একইরকম গম্ভীরভাবে কথা বলছেন, আর আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম যে অসম্ভব ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে।’
‘সত্য’ ছবির পরিচালক আরও বলেন, ‘বিজয়ওয়াড়ায় আমার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দিনগুলোতে, ১৯৮৪ সালের ২ জানুয়ারি, এক বন্ধু আমাকে একটা নোংরা ভিডিয়ো পার্লারে টেনে নিয়ে যায়, জোর দিয়ে বলে যে আমাকে কিছু একটা দেখতেই হবে। আলো নিভিয়ে দেওয়া হল, আর তারপর ‘থ্রিলার’ যেন পেটে এক ঘুষির মতো এসে আছড়ে পড়ল। এটা শুধু একটা গান বা নাচ ছিল না। এটা ছিল এক আগ্রাসন। সারাজীবনের সাধারণত্বে অভ্যস্ত আমার চোখ দুটো যেন হিংস্রভাবে খুলে গেল। প্রযোজনা, কোরিওগ্রাফি, সেই অটুট পরমানন্দ— সবকিছু মিলেমিশে এক স্বর্গীয় সত্তা হয়ে গিয়েছিল... এটা ছিল এমন এক পর্যায়ের প্রদর্শনী যা আমি কখনও কল্পনাও করতে পারিনি, আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। মাইকেল জ্যাকসন। তিনি কোনো মানুষের মতো নড়াচড়া করছিলেন না। তিনি ভেসে বেড়াচ্ছিলেন, তিনি বিস্ফোরিত হচ্ছিলেন, তিনি ভাসছিলেন, তিনি পর্দাকে এমনভাবে শাসন করছিলেন যেন কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য আধিপত্য বিস্তার করতে একটি মানবদেহে প্রবেশ করেছে। আমি সেই পার্লার থেকে সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম, আমার হৃদস্পন্দন দ্রুত হচ্ছিল, আমার মাথা ঘুরছিল। এটা সত্যি হতে পারে না। তিনি নিশ্চয়ই ঈশ্বর, অথবা অন্ততপক্ষে পৃথিবীতে আমাদের মতো মরণশীলদের আশীর্বাদ করার জন্য দেবতাদের হাতে গড়া কোনো কল্পনা। তাঁর পরবর্তী প্রতিটি মিউজিক ভিডিয়ো সেই মানকে আরও-আরও উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে। যেমন—বিট ইট, বিলি জিন, স্মুথ ক্রিমিনাল, ব্ল্যাক অর হোয়াইট, রিমেম্বার দ্য টাইম, ব্যাড ইত্যাদি।’
{{/usCountry}}‘সত্য’ ছবির পরিচালক আরও বলেন, ‘বিজয়ওয়াড়ায় আমার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দিনগুলোতে, ১৯৮৪ সালের ২ জানুয়ারি, এক বন্ধু আমাকে একটা নোংরা ভিডিয়ো পার্লারে টেনে নিয়ে যায়, জোর দিয়ে বলে যে আমাকে কিছু একটা দেখতেই হবে। আলো নিভিয়ে দেওয়া হল, আর তারপর ‘থ্রিলার’ যেন পেটে এক ঘুষির মতো এসে আছড়ে পড়ল। এটা শুধু একটা গান বা নাচ ছিল না। এটা ছিল এক আগ্রাসন। সারাজীবনের সাধারণত্বে অভ্যস্ত আমার চোখ দুটো যেন হিংস্রভাবে খুলে গেল। প্রযোজনা, কোরিওগ্রাফি, সেই অটুট পরমানন্দ— সবকিছু মিলেমিশে এক স্বর্গীয় সত্তা হয়ে গিয়েছিল... এটা ছিল এমন এক পর্যায়ের প্রদর্শনী যা আমি কখনও কল্পনাও করতে পারিনি, আর সেই ঝড়ের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। মাইকেল জ্যাকসন। তিনি কোনো মানুষের মতো নড়াচড়া করছিলেন না। তিনি ভেসে বেড়াচ্ছিলেন, তিনি বিস্ফোরিত হচ্ছিলেন, তিনি ভাসছিলেন, তিনি পর্দাকে এমনভাবে শাসন করছিলেন যেন কোনো অতিপ্রাকৃত সত্তা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য আধিপত্য বিস্তার করতে একটি মানবদেহে প্রবেশ করেছে। আমি সেই পার্লার থেকে সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম, আমার হৃদস্পন্দন দ্রুত হচ্ছিল, আমার মাথা ঘুরছিল। এটা সত্যি হতে পারে না। তিনি নিশ্চয়ই ঈশ্বর, অথবা অন্ততপক্ষে পৃথিবীতে আমাদের মতো মরণশীলদের আশীর্বাদ করার জন্য দেবতাদের হাতে গড়া কোনো কল্পনা। তাঁর পরবর্তী প্রতিটি মিউজিক ভিডিয়ো সেই মানকে আরও-আরও উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে। যেমন—বিট ইট, বিলি জিন, স্মুথ ক্রিমিনাল, ব্ল্যাক অর হোয়াইট, রিমেম্বার দ্য টাইম, ব্যাড ইত্যাদি।’
{{/usCountry}}‘তার প্রতিটি কাজ ছিল যেন এক একটি নতুন নিয়ম। আমার কর্মজীবনে যতবারই গানের চিত্রায়ণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা আমার দলের সঙ্গেই হোক বা অন্য পরিচালকদের সঙ্গে, আমরা বারবার তাঁর ভিডিয়োগুলোর কথাই ভেবেছি। তাঁর কাজ এক অস্পর্শনীয় মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল, যা ছিল অনুপ্রেরণা এবং বিনয়, উভয়েরই এক অবিরাম উৎস। আর হ্যাঁ, যেমনটা আমি বললাম, এটা কখনোই শুধু নাচ ছিল না, কখনোই শুধু কণ্ঠ ছিল না। এটা ছিল সবসময় তাঁর ব্যক্তিত্ব। সেই মানুষটা ছিলেন এক মহাকর্ষীয় শক্তির মতো, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত না। কেলেঙ্কারিগুলো? বিতর্কগুলো? ওগুলো আমাকে কখনোই বিরক্ত করেনি। ওগুলো ছিল পারিপার্শ্বিক কোলাহল। তিনি আমার অনুভূতি এবং আত্মাকে যা দিয়েছেন, তা কোনো মানুষের আদালত বা ট্যাবলয়েড পত্রিকার যে কোনো সমালোচনার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল। আমার কাছে, তিনি হয় ঈশ্বর ছিলেন অথবা ঈশ্বরের বিশেষ সৃষ্টি ছিলেন, আর ঠিক এই কারণেই আমি তাঁকে ঘৃণা করি। আমি মাইকেল জ্যাকসনকে ঘৃণা করি তাঁর মৃত্যুর জন্য। আমি তাঁকে ঘৃণা করি এটা প্রমাণ করার জন্য যে, তিনিও একজন মানুষ ছিলেন। আমি ঘৃণা করি যে, আমাদের বাকিদের মতো তারও অক্সিজেন এবং রক্তের প্রয়োজন ছিল। আমি ঘৃণা করি যে তাঁর হৃদস্পন্দনও থেমে যেতে পারত। আমি ঘৃণা করি যে আমি সিএনএন-এ সেই কথাগুলো দেখার জন্য একদিন বেঁচে ছিলাম: ‘মাইকেল জ্যাকসনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আমার পিঠে ছুরি মেরেছেন। তিনি আমার কল্পনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যবাসী হয়ে গেলেন। আমি আপনাকে ঘৃণা করি মাইকেল, আমার স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করার জন্য। আর আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমি আপনাকে এতটাই ভালোবাসি, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আপনি এখন যেখানেই থাকুন, যে মাত্রাতেই থাকুন, আমি নিশ্চিত আপনি ছায়াপথ জুড়ে মুনওয়াকিং করছেন, মহাকাশে ঝড় তুলছেন, এমন এক ঔজ্জ্বল্য নিয়ে, যা তারারাও ধারণ করতে পারে না। আর বিজয়ওয়াড়ার সেই ভিডিয়ো পার্লারে আপনি আমাকে যে ঘোর দিয়েছিলেন, তা আমি আমৃত্যু বয়ে বেড়াব’, লেখা শেষ করেন রাম গোপাল বর্মা।