...
...
Next Story

‘আমি মাইকেলকে ঘৃণা করি…’! বিশ্বাসঘাতকতা করেন জ্যাকসন, কেন বললেন রাম গোপাল বর্মা?

বহুল আলোচিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ দেখেছেন রামগোপাল বর্মা সম্প্রতি এবং তা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। কী লিখলেন তিনি?

Published on: May 22, 2026 02:25 PM IST
Advertisement

নিজের বিস্ফোরক সব উক্তির জন্য হামেশাই খবরের শিরোনামে আসেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রাম গোপাল বর্মা। এবার তিনি মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে একটি আবেগঘন নোট শেয়ার করেছেন। ভাগ করে নিয়েছেন কীভাবে ‘কিং অফ পপ’ তাঁর কল্পনা এবং সৃজনশীল যাত্রাকে প্রভাবিত করেছিলেন। বহুল আলোচিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ দেখেছেন সম্প্রতি এবং তা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

ঘৃণা করেন মাইকেল জ্যাকসনকে, কেন বললেন রাম গোপাল বর্মা?
ঘৃণা করেন মাইকেল জ্যাকসনকে, কেন বললেন রাম গোপাল বর্মা?

রাম গোপাল তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) একটি আবেগঘন নোটে নিজের মনের কথা উজাড় করেন। তার নোটে লেখা, ‘আমি মাইকেলকে ঘৃণা করি। ‘মাইকেল’ সিনেমাটি দেখার পর আমার স্মৃতি ফিরে গেল ২০০৯ সালের ২৫ জুনের সেই ভয়াবহ দিনটিতে, যেদিন আমি অনেক রাত পর্যন্ত ঘুমিয়েছিলাম, আর আমার ঘরের অন্ধকারে টেলিভিশনটা তখনও ভূতের মতো গুঞ্জন করছিল। সকালে ঘুম ঘুম চোখে যখন আমার চোখ পর্দার দিকে গেল, আমি কালো পটভূমিতে সেই ভয়ঙ্কর সাদা অক্ষরগুলো দেখতে পেলাম: ‘মাইকেল জ্যাকসন মারা গিয়েছেন।’ বেশ কয়েক সেকেন্ড ধরে আমি ভাবলাম, এটা নিশ্চয়ই একটা দুঃস্বপ্ন। আমি কেন এমন ভয়ঙ্কর কিছুর স্বপ্ন দেখব? কিন্তু টিভির ব্যানারটা রয়েই গেল এবং নিউজের টিকারটা হামাগুড়ি দিয়ে চলতে থাকল। আমি রিমোটের দিকে হাত বাড়িয়ে চ্যানেল পাল্টাতে লাগলাম এবং দেখলাম সব অ্যাঙ্কর একইরকম গম্ভীরভাবে কথা বলছেন, আর আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম যে অসম্ভব ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে।’

‘তার প্রতিটি কাজ ছিল যেন এক একটি নতুন নিয়ম। আমার কর্মজীবনে যতবারই গানের চিত্রায়ণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা আমার দলের সঙ্গেই হোক বা অন্য পরিচালকদের সঙ্গে, আমরা বারবার তাঁর ভিডিয়োগুলোর কথাই ভেবেছি। তাঁর কাজ এক অস্পর্শনীয় মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল, যা ছিল অনুপ্রেরণা এবং বিনয়, উভয়েরই এক অবিরাম উৎস। আর হ্যাঁ, যেমনটা আমি বললাম, এটা কখনোই শুধু নাচ ছিল না, কখনোই শুধু কণ্ঠ ছিল না। এটা ছিল সবসময় তাঁর ব্যক্তিত্ব। সেই মানুষটা ছিলেন এক মহাকর্ষীয় শক্তির মতো, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত না। কেলেঙ্কারিগুলো? বিতর্কগুলো? ওগুলো আমাকে কখনোই বিরক্ত করেনি। ওগুলো ছিল পারিপার্শ্বিক কোলাহল। তিনি আমার অনুভূতি এবং আত্মাকে যা দিয়েছেন, তা কোনো মানুষের আদালত বা ট্যাবলয়েড পত্রিকার যে কোনো সমালোচনার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল। আমার কাছে, তিনি হয় ঈশ্বর ছিলেন অথবা ঈশ্বরের বিশেষ সৃষ্টি ছিলেন, আর ঠিক এই কারণেই আমি তাঁকে ঘৃণা করি। আমি মাইকেল জ্যাকসনকে ঘৃণা করি তাঁর মৃত্যুর জন্য। আমি তাঁকে ঘৃণা করি এটা প্রমাণ করার জন্য যে, তিনিও একজন মানুষ ছিলেন। আমি ঘৃণা করি যে, আমাদের বাকিদের মতো তারও অক্সিজেন এবং রক্তের প্রয়োজন ছিল। আমি ঘৃণা করি যে তাঁর হৃদস্পন্দনও থেমে যেতে পারত। আমি ঘৃণা করি যে আমি সিএনএন-এ সেই কথাগুলো দেখার জন্য একদিন বেঁচে ছিলাম: ‘মাইকেল জ্যাকসনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আমার পিঠে ছুরি মেরেছেন। তিনি আমার কল্পনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যবাসী হয়ে গেলেন। আমি আপনাকে ঘৃণা করি মাইকেল, আমার স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করার জন্য। আর আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমি আপনাকে এতটাই ভালোবাসি, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আপনি এখন যেখানেই থাকুন, যে মাত্রাতেই থাকুন, আমি নিশ্চিত আপনি ছায়াপথ জুড়ে মুনওয়াকিং করছেন, মহাকাশে ঝড় তুলছেন, এমন এক ঔজ্জ্বল্য নিয়ে, যা তারারাও ধারণ করতে পারে না। আর বিজয়ওয়াড়ার সেই ভিডিয়ো পার্লারে আপনি আমাকে যে ঘোর দিয়েছিলেন, তা আমি আমৃত্যু বয়ে বেড়াব’, লেখা শেষ করেন রাম গোপাল বর্মা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Tulika Samadder

হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe