একসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ গিয়েছিলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। সেই সময় কঠোর ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনাও করেন তিনি। ছাড়েননি মতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কেও। তবে পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে দল বদল রূপাঞ্জনার। যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। সোমবার ফেসবুকে এসে রূপাঞ্জনা দাবি করলেন যে, রীতিমতো ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।

রূপাঞ্জনা ভিডিয়োতে বলেন, ‘অভয়ার জন্য আপনারা তো রাত দখল করেছিলেন, তাই না? আমিও একজন নারী—তাহলে আমাকে এসব কথা কীভাবে বলেন?’—ভিডিয়োতে প্রশ্ন তুলেছেন রূপাঞ্জনা। তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা এ ধরনের মন্তব্য করছেন, তাঁরা নিজেদের বাড়ির নারীদের কতটা সম্মান করেন? কতটা নিরাপত্তা দিতে পারেন? এই রাজ্যকে কি আপনারা আরেকটি উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট বানাতে চান? সাহস থাকলে সামনে এসে বলুন।’
এমনকী রূপাঞ্জনার দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হওয়ায় তাঁকে শুধু কটূক্তির মুখেই পড়তে হয়নি, বরং ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এমনকি ট্রোলারদের আক্রমণ থেকে তাঁর বৃদ্ধা মাও রেহাই পাননি। ‘ওরা চোখ দিয়ে রেপ (ধর্ষণ) করে’, বলেন অভিনেত্রী।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর, জুলাই মাসে দিল্লিতে গিয়ে রূপাঞ্জনা যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। বলেছিলেন, তৃণমূলে থেকে তিনি কাজ করতে পারছেন না। , ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের 'শহিদ দিবস'-এর মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি (BJP) ছেড়ে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দেন। দিদি নিজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাই ফেলতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন রূপাঞ্জনা। আর সেই মঞ্চ থেকেই উল্লেখ করেন, তৃণমূল ভবনে ফিরে তাঁর মনে হচ্ছে তিনি ‘স্বর্গে’ রয়েছেন। মত ছিল, 'BJP-তে থেকে রাজনীতি করা সম্ভব নয়।'
২০০০ সালে 'চোখের বালি' ধারাবাহিকের মাধ্যমে রূপাঞ্জনার অভিনয় জীবনের সূচনা হয়। 'চেকমেট', 'ইকির মিকির', 'অনুরাগের ছোঁয়া' এবং 'ভুটো পূর্ব'-এর মতো জনপ্রিয় প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি। অরিজিৎ সিং-এর পরিচালিত একটি বিশেষ প্রজেক্টেরও অংশ তিনি। ২০০৭ সালে তিনি রেজাউল হককে বিয়ে করেন এবং ২০১৮ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ে থেকে তাঁর রিয়ান নামের একটি ৮ বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে।