রুপোলি পর্দা নয়, রাজনীতির ময়দানেই গত কয়েক বছরে দেখা মিলেছে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বরাহনগরের বিদায়ী বিধায়কে ভরসা রেখেছেন মমতা। চলতি নির্বাচনী প্রচারে ‘গামলা’ মন্তব্যের জেরে চর্চায় থেকেছেন তৃণমূল প্রার্থী। বরাহনগরে লড়াই মূলত সায়ন্তিকা ও বিজেপির সজল ঘোষের। বামেদের হয়ে এই কেন্দ্র লড়ছেন সায়নদীপ মিত্র।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে বামেদের নিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গেল সায়ন্তিকাকে। বামেদের সোনালি অতীতকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে অভিনেত্রী-রাজনীতিক দাবি করলেন, সিপিএমের লাল পতাকা এখন কেবল বিরিয়ানির হাঁড়ি ঢাকতেই কাজে লাগে।
কী বললেন সায়ন্তিকা?
অভিনেতা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের টাইম অ্যান্ড টাইড পডকাস্টে সঞ্চালকের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সায়নদীপ ভোট ধরে রাখলে সায়ন্তিকার সুবিধা হবে? সায়ন্তিকা সপাটে বলেন, ‘মেরুদণ্ড থাকলে তারা নিজেদের ভোটটা দেবে। মেরুদণ্ড না থাকলে, ওই ব-এর নিয়ে ডট লাগিয়ে র হবে (রাম, পড়ুন বিজেপি) ।’ সায়ন্তিকা বিদ্রুপ করে বলেন. ‘নেই মেরুদণ্ড তাঁদের, তাই শূন্য থেকে মহাশূন্যে গেছে। এত লোক বেরোয় মিছিলে, ভোটটা তাহলে কোথায় যায় জানি না?…….বিজেপির জোটসঙ্গী হয়ে কাজ করলে আগামিদিনে আরও কোথাউই থাকবে না। ওদের ওই লাল ফ্ল্যাগটা বিরিয়ানির হাঁড়িতেই থাকবে। আগে যে লাল ফ্ল্যাগটা লাগত, সেটা তো এখন শুধু বিরিয়ানির হাড়িতেই থাকে। আরও চারটে বিরিয়ানির দোকান বাড়বেয সেটা লাগানোর জায়গাও থাকবে না'।
বিরিয়ানির হাঁড়ি ও লাল কাপড়: এক পুরনো বিতর্ক
{{/usCountry}}বিরিয়ানির হাঁড়ি ও লাল কাপড়: এক পুরনো বিতর্ক
{{/usCountry}}সাধারণত বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো থাকে যাতে খাবারের তাপ বজায় থাকে। সায়ন্তিকা সেই চেনা দৃশ্যকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর ইঙ্গিতে পরিষ্কার— বামেদের আদর্শ বা লড়াই এখন কেবল নামমাত্র টিকে আছে, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের অধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
পালটা তোপ বাম সমর্থকদের
সায়ন্তিকার এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে বাম সমর্থকদের পক্ষ থেকে। তাঁদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে শ্রমজীবী মানুষের লড়াইয়ের প্রতীক লাল পতাকাকে এভাবে অপমান করা সায়ন্তিকার ‘অপরিণত’ মানসিকতারই পরিচয়। কেউ কেউ পালটা লিখেছেন, ‘বিরিয়ানির হাঁড়ি হোক বা লড়াইয়ের ময়দান, লাল পতাকাকে ভয় পায় বলেই এমন মন্তব্য করতে হচ্ছে।’
ভোটের ময়দানে প্রভাব
তৃণমূলের অন্দরে সায়ন্তিকা এখন অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। তাঁর এই ‘বিরিয়ানি’ কটাক্ষ তৃণমূল কর্মীদের উৎসাহিত করলেও, শিক্ষিত ভোটারদের একাংশের মধ্যে এটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তবে সায়ন্তিকা যে তাঁর বক্তব্যে অবিচল এবং বিপক্ষকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নন, তা এই ভিডিও থেকেই স্পষ্ট।