মাইকের সামনে তিনি যখন দাঁড়ান, তখন গোটা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে তাঁর সুর শোনে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই জাদুকরী কণ্ঠ বিশ্রাম নিচ্ছে। স্বামী এবং সন্তানকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে ছুটি কাটাতে ব্যস্ত শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ডরসেটের বিখ্যাত ‘ডরডল ডোর’ (Durdle Door) এবং জুরাসিক কোস্টের সৈকত থেকে বেশ কিছু মিষ্টি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন— ‘আমার পৃথিবী’।

ছুটির মেজাজে শ্রেয়া ও শিলাদিত্য
সাদা বালির সৈকত আর নীল সমুদ্রের ব্যাকগ্রাউন্ডে শ্রেয়াকে দেখা গেল একেবারে ঘরোয়া লুকে। কখনও ছেলে দেবযানকে আদরে ভরিয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনও স্বামী শিলাদিত্যের কাঁধে মাথা রেখে সূর্যাস্ত দেখছেন। ডরসেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পাথুরে খিলানের সামনে গায়িকার এই হাসিমুখের ছবিগুলো ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ভাইরাল। ভক্তরা কমেন্ট বক্সে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। লাইমলাইট সামলে শ্রেয়া কিন্তু একদম ঘরোয়া বাঙালি বাড়ির মেয়ে। মায়ের দায়িত্ব পালনে সর্বদা দু-পা বাড়িয়ে থাকেন তিনি।
যুক্তরাজ্য সম্প্রতি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন শ্রেয়া। নাচে-গানে মঞ্চ মাতিয়ে এখন ফ্যামিলি টাইম কাটাচ্ছেন শ্রেয়া।
মুম্বইয়ে নতুন রাজপ্রাসাদ
ছুটির খবরের মাঝেই আরও একটি বড় খবর সামনে এসেছে। দক্ষিণ মুম্বইয়ের ওরলি এলাকায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন শ্রেয়া। কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা এই গায়িকা যে কেবল সুরের জগতেই নয়, সম্পত্তির নিরিখেও এখন বলিউডের প্রথম সারিতে, তা বলাই বাহুল্য। আর সেই নতুন ঠিকানায় প্রবেশের আগেই পরিবারকে নিয়ে একটু একান্তে সময় কাটিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে শ্রেয়াকে দেখা যাচ্ছে ইন্ডিয়ান আইডলের বিচারক হিসাবে। শত বিতর্ক সত্ত্বেও রিয়ালিটি শো-এর প্রতি আস্থা বজায় রয়েছে তাঁর।
শ্রেয়ার কেরিয়ার
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকেই মায়ের কাছে গানের তালিম শুরু করেন শ্রেয়া। পরবর্তীতে রাজস্থানের রাওয়াতভাটায় বড় হয়ে ওঠা এবং প্রথাগত হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষা গ্রহণ। ২০০০ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে জি টিভির রিয়ালিটি শো ‘সা রে গা মা পা’-তে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। সেখানেই পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালির নজরে আসেন তিনি। বনশালি তাঁর ড্রিম প্রজেক্ট ‘দেবদাস’-এ ঐশ্বর্য রাইয়ের (পারো) কণ্ঠ হিসেবে শ্রেয়াকে সুযোগ দেন। ‘ডোলারে ডোলা’ বা ‘বৈরি পিয়া’-র মতো গানে তাঁর কাজ রাতারাতি তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়। প্রথম ছবিতেই জেতেন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রায় আড়াই দশক ধরে শ্রেয়ার কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আসমুদ্র হিমাচল। লতা পরবর্তী জমানায় গোটা দেশের সবচেয়ে পছন্দের গায়িকার তালিকায় একদম উপরের দিকে রয়েছেন এই বাঙালি কন্যে।