বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও সাহসী অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে। ২০১৮ সালে অভিনেত্রীর স্টেজ ফোর মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসার ধরা পড়ার পর যেভাবে তিনি সেই মারণ রোগকে হারিয়ে ফিরে এসেছেন, তা কোটি কোটি মানুষের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা। সম্প্রতি ‘ম্যাশাবল ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ডায়েট, ফিটনেস রুটিন এবং ক্যানসার পরবর্তী জীবনযাত্রা নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক ও চমকপ্রদ তথ্য খোলসা করলেন অভিনেত্রী।

সোনালি জানান, শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বা উপবাস করেন এবং অত্যন্ত মেপে খাবার খান।
দিনে দেড় বেলা খাবার এবং ২০ ঘণ্টা উপোস!
সাক্ষাৎকারের সময় হোস্ট যখন সোনালিকে বলেন যে তাঁর মনে হচ্ছে অভিনেত্রী ভীষণ কম খাবার খান, তখন সোনালি নিজের দৈনিক ডায়েটের আসল রহস্য ফাঁস করেন। ‘সরফরোশ’ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা উপবাস করি। সাধারণত আমি দিনে মাত্র দেড় বেলা খাবার খাই’।
তিনি আরও জানান, মাঝেসাঝে তিনি দিনে দুবার খেলেও, বেশিরভাগ দিনই ১৮-২০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার উইন্ডো মেনে চলেন এবং ঘন ঘন খাওয়ার চেয়ে পরিমিত ও সচেতনভাবে খাওয়াদাওয়ায় বিশ্বাস করেন। ক্যানসার থেকে সেরে ওঠার জার্নিতে ন্যাচারোপ্যাথ তাঁর সাথে ‘অটোগ্রাফি’ (Autophagy) প্রক্রিয়ার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শরীর নিজেরই ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে, যা সোনালি আজও মেনে চলেন।
‘ভয় পাওয়াটা সাময়িক ইমোশন’— ক্যানসার নিয়ে অকপট সোনালি
{{/usCountry}}‘ভয় পাওয়াটা সাময়িক ইমোশন’— ক্যানসার নিয়ে অকপট সোনালি
{{/usCountry}}২০১৮ সালে যখন সোনালির শরীরে স্টেজ ফোর ক্যানসার ধরা পড়ে। সেইসময় ক্যান্সার নায়িকার মস্তিষ্ক (Brain) পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছিল, প্রথমটায় তিনি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই কঠিন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘ভয় পাওয়াটা খুব স্বাভাবিক, কিন্তু সেটা মাত্র কিছুক্ষণের একটা ইমোশন। ভয় পেয়ে সারাক্ষণ সেই এক জায়গায় থমকে থাকলে কোনো লাভ হয় না।’
সোনালি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তা নায়িকার বেঁচে থাকার মূল্যবান সময়টুকুই কেড়ে নেবে। তাই তিনি মন শক্ত করে চিকিৎসার মুখোমুখি হন এবং যে জিনিসগুলো ওঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে (যেমন ডায়েট ও মানসিক শক্তি), সেগুলোর ওপর ফোকাস করেন।
পাঠকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা
অভিনেত্রীর এই ডায়েট চার্টটি তাঁর নিজস্ব শারীরিক কন্ডিশন এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে তৈরি। তাই সাধারণ পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানানো হচ্ছে যে, কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া হুট করে এমন দীর্ঘ সময়ের উপবাস বা ডায়েট পরিবর্তন করা উচিত নয়।